সবার আগে দেশঃনাকি সবার আগে দল!?
সম্পাদকীয়ঃ–
“সবার আগে দেশ নাকি সবার আগে দল”—এই বিতর্কটি একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।একটি আদর্শ রাষ্ট্রে ‘দেশ’ সবসময় দলের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত।এই বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সম্পাদকীয় মতামত তুলে ধরা হলো।
গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দল অপরিহার্য, কিন্তু দলের অস্তিত্ব টিকে থাকে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার ওপর।যখন কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কাছে দেশের স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থ বড় হয়ে দাঁড়ায়,তখন সেখানে সু-শাসন বাধাগ্রস্ত হয় এবং দুর্নীতির পথ প্রশস্ত হয়।
একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক বা নেতার প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত তিনি দেশের সেবক।দলীয় আদর্শ থাকা স্বাভাবিক,কিন্তু জাতীয় সংকটে বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে যদি দলীয় সুবিধা খোঁজা হয়,তবে তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে।
নির্বাচন কমিশন,বিচার বিভাগ এবং প্রশাসনের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি দলীয় প্রভাবমুক্ত না থাকে, তবে সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব হয়।দেশ আগে—এই নীতি মানলে এসব প্রতিষ্ঠান নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ পায়।দেশ সবার আগে’ এই চেতনা বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সাহায্য করে।সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির কারণে অনেক সময় সমাজ বিভক্ত হয়ে পড়ে, যা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।
ইতিহাসে দেখা গেছে,যেসব দেশে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থকে রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে,সেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। অন্যদিকে, জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া দেশগুলো দ্রুত উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছে।দল হলো ক্ষমতায় যাওয়ার বা জনসেবা করার একটি মাধ্যম মাত্র,কিন্তু দেশ হলো সবার পরিচয় এবং আশ্রয়স্থল।তাই নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মী পর্যন্ত সবার মনে রাখা প্রয়োজন—দল থাকবে কি থাকবে না তা সময় নির্ধারণ করবে, কিন্তু দেশ চিরস্থায়ী।দেশের মঙ্গল সাধিত হলেই কেবল দলের সার্থকতা বজায় থাকে।
তাই সবসময় ‘সবার আগে দেশ’—এই মূলমন্ত্রই হওয়া উচিত রাজনীতির মূল ভিত্তি।
সম্পাদকঃ-
মোঃআশিকুর রহমান সুজন। (আশিক সুজন)
দৈনিক আমার ভাষা।
Viewed 2500 times