March 30, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

জোরপূর্বক জমি দখলঃবাংলাদেশ আইনে দন্ডনীয় আপরাধ!!

সম্পাদকীয়ঃ  বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী জোরপূর্বক জমি দখল একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগীদের প্রতিকার দেওয়ার জন্য দেওয়ানি ও ফৌজদারি—উভয় ধরনের আইনি ব্যবস্থা রয়েছে।জোরপূর্বক জমি দখল সংক্রান্ত প্রধান আইনগুলো নিচে তুলে ধরা হলো সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

 

 

 

•স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার (সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭) এই আইনের ০৮ ও ০৯ ধারা অনুযায়ী ভুক্তভোগী আইনি প্রতিকার পেতে পারেন।০৯ ধারায় যদি কোনো ব্যক্তিকে তার সম্মতি ছাড়াই আইনি প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে জমি থেকে বেদখল করা হয়, তবে তিনি বেদখল হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে আদালতে মামলা করে দখল ফিরে পেতে পারেন।এক্ষেত্রে জমির মালিকানা প্রমাণের চেয়ে দখল হারিয়েছেন কি না,সেটিই মুখ্য থাকে।০৮ ধারায় যদি জমির মালিকানা সুনির্দিষ্ট থাকে, তবে এই ধারার অধীনে মামলা করে জমির দখল পুনরুদ্ধার করা যায়। এক্ষেত্রে মামলা করার সময়সীমা ১২ বছর।

 

 

 

•দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।জোরপূর্বক জমি দখল বা অনুপ্রবেশের জন্য দণ্ডবিধির আওতায় মামলা করা যায়।৪৪১ ও ৪৪৭ ধারায় অনুমতি ছাড়া অন্যের জমিতে প্রবেশ করা (Criminal Trespass) বা জোর করে দখল বজায় রাখার শাস্তি হিসেবে ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।ধারা ৪৪৮ এ ঘরবাড়িতে অনধিকার প্রবেশের জন্য ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে।

 

 

•ফৌজদারি কার্যবিধি (ধারা ১৪৫) এ বলা হয়েছে, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট এই ধারায় ব্যবস্থা নিতে পারেন। ম্যাজিস্ট্রেট উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ওই জমিতে ‘স্থিতাবস্থা’ (Status Quo) বজায় রাখার আদেশ দিতে পারেন এবং পুলিশি সহায়তায় প্রকৃত দখলদারকে দখল ফিরিয়ে দিতে পারেন।

 

 

 

•ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এ জমি দখল রোধে সবচাইতে আধুনিক ও কঠোর আইন।এই আইনের অধীনে,দখলবাজির শাস্তি ও দলিল বা পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া অন্য কারো জমি দখল করলে বা করার চেষ্টা করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।অবৈধভাবে জমি দখলের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।তাৎক্ষণিক উদ্ধারের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই আইনের আওতায় তাৎক্ষণিকভাবে অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিককে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

 

জোরপূর্বক দখল হলে ভুক্তভোগীদের করনীয় বা এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করে সাধারণ ডায়েরি (GD) বা অভিযোগ দায়ের করুন।দ্রুত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৪৫ ধারায় পিটিশন দাখিল করুন।জমি উদ্ধারের জন্য দেওয়ানি আদালতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে মামলা করুন।

 

 

আইনি পরামর্শ ও সহায়তার জন্য আপনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা সরকারের জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (National Legal Aid Management System)-এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

Viewed 2250 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!