প্রতিহিংসা কি মানসিক ব্যাধিঃকি বলছেন বিশেষজ্ঞরা!?
সম্পাদকীয়ঃ অতিরিক্ত প্রতিহিংসাপরায়ণতা সরাসরি কোনো একটি রোগ না হলেও এটি গুরুতর মানসিক সমস্যার একটি লক্ষণ বা উপসর্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। যখন কোনো ব্যক্তি নিজের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার না পেয়ে তীব্র ক্ষোভ অনুভব করেন এবং প্রতিহিংসা নেওয়ার জন্য আগ্রাসী হয়ে ওঠেন, তখন এটি তার মানসিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা মানুষের একটি সহজাত আবেগ, যা মূলত আত্মরক্ষার তাড়না থেকে আসে। তবে যখন এই আবেগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে, তখন এটি ‘প্যাথলজিক্যাল’ বা রোগাক্রান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD): এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো ট্রমা বা অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠতে পারেন।
কিছু ক্ষেত্রে সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা মনগড়া বিশ্বাসের কারণে অন্যের ওপর প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন। পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার থাকলে অন্যের ক্ষতি করার বা প্রতিহিংসা নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
আধ্যাত্মিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিহিংসাকে একটি ‘ভয়াবহ আত্মিক রোগ’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি মানুষের হীনম্মন্যতা, ঈর্ষা এবং লোভ থেকে জন্ম নেয়, যা মানুষের মানবিক মূল্যবোধকে কুরে কুরে খেয়ে ফেলে।
অতিরিক্ত প্রতিহিংসা বা হিংসাত্মক মনোভাব শরীরে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে:
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: প্রতিহিংসার চিন্তা মস্তিষ্কে সারাক্ষণ অস্থিরতা তৈরি করে।
শারীরিক সমস্যা: উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, এবং হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: প্রতিহিংসাপরায়ণ ব্যক্তির প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়, যা তাকে সমাজে একা করে ফেলে।
যদি কারো মধ্যে প্রতিহিংসার এই প্রবণতা মাত্রাতিরিক্ত হয়ে ওঠে, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এ ধরনের রোগীদের জন্য মানসিক চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এছাড়া ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ইতিবাচক চিন্তার চর্চা এই মানসিক অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করে।
Viewed 5650 times