আবর্জনার স্তূপে ঐতিহ্যবাহী বগুড়াঃ নগরবাসীর সচেতনতা ও সিটি সদিচ্ছা কবে জাগবে?
সম্পাদকীয়ঃ উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক বগুড়া শহর আজ নিজস্ব শ্রী হারিয়ে ফেলছে।যে শহর একসময় পরিচ্ছন্নতার জন্য পরিচিত ছিল, তা আজ যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।রাস্তার মোড়, ড্রেন, এমনকি ফুটপাতও এখন বর্জ্যের দখলে।এই নাজুক পরিস্থিতির জন্য যেমন কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তেমনি নগরবাসীর অসচেতনতাও কোনো অংশে কম দায়ী নয়।
বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা থেকে শুরু করে চেলোপাড়া, ফতেহ আলী বাজার এবং বনানী মোড় পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ময়লার স্তূপ দেখা যায়। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে এই চিত্র আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ড্রেনগুলো পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যে ভরাট হয়ে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাজপথে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। পচা আবর্জনার দুর্গন্ধে পথচারীদের নাভিশ্বাস উঠছে এবং বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর সব দায় চাপিয়ে দিয়ে আমরা কি আমাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারি? দেখা যায়, ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও অনেক নাগরিক রাস্তার ওপর বা ড্রেনে ময়লা ফেলছেন। দোকানদাররা তাদের দিনের সমস্ত বর্জ্য দোকানের সামনের রাস্তায় স্তূপ করে রাখছেন।নাগরিক সচেতনতা ছাড়া কেবল পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে একটি শহর পরিষ্কার রাখা অসম্ভব।
পৌরসভাকে আধুনিক বর্জ্য অপসারণ পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে ময়লা সংগ্রহ এবং শহরের বাইরে বৈজ্ঞানিক উপায়ে তা ধ্বংস বা রিসাইকেল করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।যেখানে সেখানে ময়লা ফেললে জরিমানার বিধান কার্যকর করতে হবে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রধান পয়েন্টগুলো পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।পাড়া-মহল্লায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
বগুড়া আমাদের সবার ঘর। নিজের ঘর আমরা যেভাবে পরিষ্কার রাখি, শহরটাকেও সেভাবে ভাবা উচিত। কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা আর নগরবাসীর সচেতনতাই পারে বগুড়াকে আবারও সেই চিরচেনা পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহরে রূপান্তর করতে। আমরা কি আরও একটি বছর কেবল অভিযোগ করেই কাটিয়ে দেব, নাকি নিজ উদ্যোগে শহর রক্ষায় এগিয়ে আসব? সিদ্ধান্ত আমাদেরই।
Viewed 2350 times




