বগুড়া সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা হলে যে সকল সুবিধা ভোগ করবে নগরবাসী
সম্পাদকীয়ঃ বগুড়া সিটি কর্পোরেশন ঘোষিত হলে নগরবাসী জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।আগামী ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিটি কর্পোরেশনের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।বাংলাদেশের ১৩তম এই সিটি কর্পোরেশন চালুর ফলে নগরবাসী মূলত যে সকল সুবিধা পেতে যাচ্ছেন তা নিয়ে আলোচনা করা হলো।
•আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত হবে।
•শহরের প্রধান রাস্তাগুলোর সংস্কারের পাশাপাশি অনুযায়ী মহাসড়ক ও অভ্যন্তরীণ রাস্তার আধুনিকায়ন হবে।
•পুরো সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
পৌরসভা থাকাকালীন বরাদ্দ কম থাকলেও সিটি কর্পোরেশন হলে সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের উন্নয়ন বাজেট ও বিশেষ বরাদ্দ আসবে।শহরের বিশৃঙ্খলা নিরসন ও পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বগুড়া পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশন করার সময় শাহজাহানপুর উপজেলার কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত করে সীমানা বর্ধিত করা হয়েছে।
উন্নত অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে,যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।মহাস্থানগড় এবং বগুড়ার দইয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে।উত্তরাঞ্চলের প্রধান কৃষি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বগুড়ার মর্যাদা আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।
আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।স্থানীয় সরকার প্রশাসনের অধীনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও তদারকি বাড়বে।
বগুড়া সিটি কর্পোরেশন হওয়ার এই যাত্রা নগরবাসীর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে, যা উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে এই শহরের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।
Viewed 10250 times