বগুড়ায় অসহনীয় লোডশেডিংঃজনজীবন ও কৃষিতে ত্রাহি অবস্থা
সম্পাদকীয়ঃ বগুড়ায় সাম্প্রতিক লোডশেডিংয়ের মাত্রা সাধারণ মানুষের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।একদিকে মধ্য-এপ্রিলের তীব্র দাবদাহে উত্তপ্ত জনজীবন, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুতের অনুপস্থিতি সাধারণ মানুষকে এক দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।বিশেষ করে গ্রামের দিকে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সূচি না থাকায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।
লোডশেডিংয়ের এই চরম মাত্রায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। রাতে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থী ও শিশুরা ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছে না। শুধু তাই নয়, ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ কাজের জন্য এখন কৃষকদের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় সেচ পাম্পগুলো সচল রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে, যা ফসলের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশের বিদ্যুৎ বিভাগ এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো সরবরাহ ঘাটতির কথা স্বীকার করছে। জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় জেলা পর্যায়ে এই কৃচ্ছ্রসাধন চলছে বলে জানা গেছে। তবে এই কৃচ্ছ্রসাধনের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাধারণ মানুষকে অন্ধকারে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে বগুড়ার মতো কৃষি ও বাণিজ্য সমৃদ্ধ জেলায় বিদ্যুতের এই দীর্ঘস্থায়ী অভাব দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আমরা মনে করি, বর্তমান সংকট নিরসনে সরকারকে দ্রুত টেকসই জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করতে হবে এবং বিদ্যুৎ বিতরণে সমতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু শহরে বিদ্যুৎ সচল রেখে গ্রামকে অন্ধকারে রাখা বৈষম্যের শামিল। একই সাথে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কার্যকর প্রচারণার পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কালক্ষেপণ না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।
Viewed 2100 times