সোশ্যাল বুলিং রুখতে প্রয়োজন সম্মিলিত সচেতনতা
সম্পাদকীয়ঃ সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা, অপমান করা বা ভীতিসোশ্যাল বুলিং রুখতে প্রয়োজন সম্মিলিত সচেতনতা প্রদর্শন করাই হলো সাইবার বুলিং বা সোশ্যাল বুলিং। এর প্রভাবে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মসম্মান এবং ব্যক্তিগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সোশ্যাল বুলিং বা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি।পাল্টা উত্তর এড়িয়ে চলা,বুলিংকারীর কোনো আক্রমণাত্মক কমেন্ট বা মেসেজের উত্তর না দেওয়াই ভালো।কারণ উত্তর দিলে তারা আরও উৎসাহিত হতে পারে।এবং অপমানজনক পোস্ট, মেসেজ বা কমেন্টের স্ক্রিনশট এবং ইউআরএল (URL) সেভ করে রাখা জরুরি, যা পরবর্তীতে আইনগত সহায়তায় কাজে আসবে।
সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ‘Report’ অপশন ব্যবহার করে বুলিংকারীকে রিপোর্ট করুন এবং তাকে ব্লক করে দিন। বিষয়টি লুকিয়ে না রেখে পরিবার, বন্ধু বা কোনো বিশ্বস্ত অভিভাবকের সাথে শেয়ার করুন।
বাংলাদেশে সাইবার বুলিং প্রতিরোধের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন ও সহায়তা কেন্দ্র রয়েছে।পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের সহায়তা নিতে পারেন।এছাড়া ‘Cyber Help for Women’ পেজেও যোগাযোগ করা যায়।
যেকোনো জরুরি সহায়তায় ৯৯৯ (জাতীয় জরুরি সেবা) অথবা ১০৯ (নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ) নম্বরে কল করুন।অনলাইনে মানহানিকর তথ্য ছড়ানো বা হয়রানির বিরুদ্ধে দেশের বিদ্যমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার সুযোগ রয়েছে।সামাজিকভাবে এই সমস্যা নির্মূলে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।সন্তানদের ইন্টারনেটের ব্যবহারের ওপর নজর রাখা এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত যাতে তারা যেকোনো সমস্যার কথা সহজে জানাতে পারে।স্কুল-কলেজে সাইবার বুলিংয়ের কুফল সম্পর্কে সচেতনতামূলক পাঠদান এবং কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য (যেমন: মোবাইল নম্বর, ঠিকানা) শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা এবং পাসওয়ার্ড শক্তিশালী রাখা জরুরি। অনলাইনে কাউকে নিয়ে ট্রল বা উপহাস করার আগে এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে চিন্তা করা এবং সহনশীল মানসিকতা গড়ে।
পরিশেষে, সোশ্যাল মিডিয়াকে নিরাপদ রাখতে আমাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল হতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়া এবং বুলিংয়ের শিকার ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে এর সবচেয়ে বড় প্রতিকার।
Viewed 5800 times