বাংলাদেশে কি ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধতা আছেঃব্যবহার কি শাস্তিযোগ্য অপরাধ!?
সম্পাদকীয়ঃ ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি (যেমন: বিটকয়েন, ইথেরিয়াম) লেনদেন,সংরক্ষণ বা ব্যবহার বৈধ নয় এবং এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সতর্কবার্তা ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পাদকীয় আকারে উপস্থাপন করা হল।
বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মুদ্রা বা ‘লিগ্যাল টেন্ডার’ নয়।এর ব্যবহার প্রধানত তিনটি আইনের অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন,১৯৪৭ এই আইনের ধারা ২৩(১) অনুযায়ী,অনুমোদনহীন ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন করলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড,জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
২০১২ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ পাচার করলে বা লেনদেন করলে এই আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।২০০৯ সন্ত্রাস বিরোধী আইন,জঙ্গি অর্থায়নে এর ব্যবহারের আশঙ্কায় এই আইনটিও কার্যকর হতে পারে।বর্তমানে ২০২৫-২৬ এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের পক্ষ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ করার কোনো পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত নেই।ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত নির্দেশ দেওয়া হয় যেন গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট ক্রিপ্টো কেনাবেচায় ব্যবহৃত না হয়।
আইনত নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, ‘গ্লোবাল ক্রিপ্টো অ্যাডপশন ইনডেক্স ২০২৫’ অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বে ক্রিপ্টো ব্যবহারে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে। এই জনপ্রিয়তার কারণে সাধারণ মানুষ প্রতারণা ও আইনি জটিলতার ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সি বর্তমানে বাংলাদেশে একটি ‘গ্রে এরিয়া’ বা অস্পষ্ট অবস্থানে রয়েছে।একদিকে ফ্রিল্যান্সার ও তরুণ প্রজন্ম একে আয়ের উৎস হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে সরকার একে মানিলন্ডারিং ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি মনে করে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ বা লেনদেন করলে অর্থ হারানোর পাশাপাশি জেল-জরিমানার মতো গুরুতর আইনি ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে।
Viewed 2750 times