সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত জননিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ
সম্পাদকীয়ঃ-
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর প্রধান মাধ্যম। ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি ও জননিরাপত্তার বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যেমন প্রশাসনিক সক্ষমতা প্রয়োজন, তেমনি সাধারণ মানুষের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার নির্ভয় পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ এবং ব্যালট পেপারসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রশাসনের মাঠপর্যায়ে রদবদল ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ স্বচ্ছ করার চেষ্টা দৃশ্যমান। তবে প্রস্তুতির এই বিশাল কর্মযজ্ঞ তখনই সার্থক হবে, যখন প্রতিটি ভোটার অনুভব করবেন যে তার দেওয়া ভোটটি নিরাপদ এবং এর সঠিক মূল্যায়ন হবে।
জননিরাপত্তার প্রশ্নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এখানে অনস্বীকার্য। নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক সহিংসতা রুখতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি-র সমন্বিত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং দুর্গম এলাকার ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী মহলের ভয়ভীতি প্রদর্শন যাতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গুজব প্রতিরোধও এবারের নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি বা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। একইসাথে নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে ইসি-র কঠোর অবস্থান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
পরিশেষে, কেবল কাগজের কলমে প্রস্তুতি নয়, বরং রাজপথে এবং ভোটকেন্দ্রে দৃশ্যমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। সকল দল ও মতের মানুষের অংশগ্রহণে একটি উৎসবমুখর ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে তা হবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এক বড় মাইলফলক। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াটিই প্রশ্নের মুখে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
Viewed 9000 times