April 4, 2025

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

ইফাতার কখন ? সন্ধ্যায় না রাতে ?

সন্ধ্যায় ও রাতের পার্থক্য

ইফতার Update post সম্পূর্ণ পরিবর্তন

রাত অন্ধকারঃ
.
[৭৯:২৯] (আল্লাহ বলেন) তিনি রাত্রিকে করেছেন অন্ধকার। ছূরা নাজিয়াত আয়াত ২৯।
.
আলোচনাঃ আল্লাহর কথা বা উক্ত আয়াত অনুযায়ী ইহাও প্রমাণ হলো যে, যখন রাত হবে তখন সবকিছু অন্ধকার হয়ে যাবে। প্রশ্নঃ- সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে বা সন্ধ্যার সময় কি সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়? হয় না। কাজেই, সন্ধ্যা কখনই রাত নয়, সন্ধ্যা দিনেরই অংশ। কাজেই, ইফতার দিনে নয়, ইফতার রাতে। কারণ, আল্লাহ রাতকে অন্ধকার বলেছেন, আল্লাহ সন্ধ্যাকে অন্ধকার বলেননি। এখন কেউ যদি বলে যে, সূর্যের উপস্থিতি বা সূর্য উঠলেই দিন শুরু হয় এবং সূর্য ডোবলেই রাত শুরু হয়, তাহলে তার কাছে আমার প্রশ্ন থাকবে যে, প্রচলিত নিয়মে আপনি ফজরের নামাজ ও মাগরিবের নামাজ কি রাতে পড়েন? নাকি দিনে পড়েন? সূর্য ডোবার সাথে সাথে যদি রাত শুরু হয় তাহলে আপনি মাগরিবের নামাজ রাতেই পড়লেন, তাহলে আপনি মাগরিবের নামাজ দিনে পড়লেন কই?
.
আর যদি মাগরিবের নামাজ দিনে পড়েন তাহলে সূর্য ডোবার পরে কিছুক্ষন দিনের অংশই থাকে তাই দিনেই পড়েন। এই সাধারণ জ্ঞানটুকুও মানুষের মাথায় ধরে না, যার কারণে শুধু তর্ক করতেই থাকে। আল্লাহ বলেন, দিনের দুই কিনারায় দুটি নামাজ ঠিক রাখবে- ছূরা হূদ আয়াত ১১৪। আল্লাহর কথা অনুযায়ী সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে আপনি মাগরিবের নামাজ পড়লেন দিনে, তাহলে রছূলের দোহাই দিয়ে কেনো বলেন যে, রছূলুল্লাহ বলেছেন, সূর্যাস্তের সাথে সাথেই রাত শুরু হয়ে যায়? আল্লাহর কথা বাদ দিয়ে রছূলুল্লাহ কি ঐ কথা বলতে পারেন? মোটেই না। ইছলামের শত্রুরা রছূলের নাম ব্যাবহার করে ঐ রকম কথা মুছলমানদের মধ্যে চালু করে দিয়েছে যা আপনি বুঝতেই পারছেন না। যেমন চালু করেছে শবে বরাতসহ অসংখ্য মিথ্যা বিধান।
.
কিছু মনে করবেন না। ভালো করে বোঝার জন্য আমি উক্ত কথাগুলোর পুনরাবৃত্তি করছি। ছূরা হূদের ১১৪ নং আয়াতে “ত্ব’র’ফা ইঁন নাহার” বাক্য দ্বারা “দিনের দুই প্রান্ত বা দিনের দুই কিনারা বুঝানো হয়েছে। উক্ত আয়াতের ভিত্ততে “দিনের দুই কিনারা” কোন সময়? যদি বলেন যতক্ষন সূর্য থাকবে ততক্ষন দিন, তাহলে সূর্য উঠার পর দিনের প্রথম কিনারায় আপনি ফজরের নামাজ পড়েন কি? নাকি রাতের ঘনো অন্ধকার শেষ হয়ে যখন ফজরের আজান থেকে দিন শুরু হয় তখন ফজরের নামাজ পড়েন, কোনটি? তদ্রুপ সূর্যাস্ত থেকে যদি রাত শুরু হয় তাহলে মাগরিবের নামাজ কেনো রাতে পড়েন? আল্লাহ তো দিনের কিনারায় নামাজ কায়েম রাখতে বলেছেন। সূর্য ডোবলেই যদি রাত শুরু হয় তাহলে মাগরিবের নামাজ তো রাতেই পড়লেন, তাই নয় কি? তাহলে মাগরিবের নামাজ তো দিনের কিনারায় পড়া হলো না। তাহলে তো আপনি আল্লাহর হুকুম অমান্য করলেন। ফজর পড়লেন রাতে, যেহেতু সূর্য ওঠেনায়, মাগরিব পড়লেন রাতে যেহেতু সূর্য নাই, তাহলে দিনের দুই কিনারায় নামাজ পড়লেন কই?
.
আসল বিষয় হলো ভিন্ন, আর তা হলো সূর্য অস্তমিত হওয়ার পরও কিছুক্ষন দিন থাকে তাই সকলে দিনের কিনারায় নামাজ পড়েন। ঠিক তেমনই সকলে দিনের প্রথম কিনারায় ফজরের নামাজ পড়েন। তাহলে ফজর, ভোর ও প্রভাত যেমন দিনের অংশ তেমনি সন্ধ্যা এবং প্রভাত এ দুটি সময়ও দিনের অংশ। কারণ, এ দুটি সময় পরিষ্কার দেখা যায়। সূর্য ওঠার ২০/২৫/৩০ মিনিট আগের অবস্থা লক্ষ্য করলেই দেখা যায় যে, ছুবহে ছাদেক থেকেই দিনের আলো শুরু হয়ে যায়, কিন্তু তখনো সূর্য ওঠে না। দিন শুরু হয় ফজরের আজান থেকেই, অর্থাৎ ফজরের আজানের আগ পর্যন্ত তারকা থাকে তাই তা রাত। তদ্রুপ, সন্ধ্যার পরে আকাশে বহুসংখ্যক তারকা দেখা দিলেই পুনরায় রাত শুরু হয়।
.
যতক্ষন আলো থাকবে ততক্ষন দিন থাকবে, যখন পুরোপুরি আলো চলে যাবে ঠিক তখন থেকেই রাত শুরু হবে। সূর্য না ওঠা সত্ত্বেও যেমন দিন শুরু হয় তদ্রুপ সূর্য অস্ত যাওয়ার পরেও কিছুক্ষন আলো থাকে বিধায় তা দিনেরই অংশ। অর্থাৎ ভোরে বা প্রভাতে সূর্য না ওঠা সত্ত্বেও যেমন দিনের প্রথম ভাগ শুরু হয় ঠিক তেমনই সূর্য না থাকা সত্ত্বেও সন্ধ্যার সময় দিনের শেষ ভাগ থেকে যায়। যদি ভোর বা প্রভাতকে রাত বলা না হয় তাহলে সাফাক, অস্তরাগ বা সন্ধ্যাকেও রাত বলা যাবে না, তাই নয় কি।
.
রাত বিশ্রামের জন্য ও দিন দেখার জন্যঃ
.
[১০:৬৭] (আল্লাহ বলেন) তিনি তোমাদের জন্য রাত বানিয়েছেন যেনো তোমরা তাতে শান্তি লাভ করতে পারো, আর দিন সৃষ্টি করেছেন (সবকিছু) দেখার জন্য…। ছূরা ইঊনুছ আয়াত ৬৭। ব্রাকেটসহ হুবহু অনুবাদঃ তাইসিরুল কুরআন।
.
আলোচনাঃ লক্ষ্য করুন! আল্লাহ বলেছেন “দিন সৃষ্টি করেছেন (সবকিছু) দেখার জন্য। কোনো লাইটিং ব্যবস্থা ব্যতীত সূর্য ওঠার আগে কিছু সময় এবং সূর্য ডোবার পরেও কিছু সময় মানুষ মানুষকে পরিষ্কারভাবে দেখতে পায় যা আল্লাহ বলেছেন “দেখার জন্য”। তাহলে সূর্য ডোবার পরেও মানুষ মানুষকে দেখতে পেলে সে সময়টুকু কোনো অবস্থাতেই রাত নয়, তা দিনেরই অংশ। উক্ত আয়াতে আল্লাহ প্রথমে বলেছেন “রাতে প্রশান্তি লাভ করা যায়”। লক্ষ্য করুন! সূর্য ডোবার সাথে সাথে মানুষ প্রশান্তি তথা বিশ্রাম বা ঘুম যায় না। কাজেই, সূর্য ডোবার সাথে সাথে রাতও হয় না।
.
কখন রাত শুরু হয়, কখন দিন শুরু হয় তা নিয়ে মুছলমানদের কোনো গবেষণা দেখা যায় না, মাথা ব্যাথাও নেই। অথচ আল্লাহ আল কুরআনে দিন-রাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে অসংখ্য সময়ের কথা বলেছেন। যেমন, আমার দেখা মতে > [ছুবহি-৩০:১৭] [দুলুক-১৭:৭৮] [গুরুব-২০:১৩০] [ইবকার-৩:৪১] [গুদু-৭:২০৫] [গদাতি-৬:৫২] [ফালাক্ব-১১৩:১] [ইদবারান-৫০:৪০] [নুজুম-৫২:৪৯] [নাজম-৫৩:১] [ত্বরিক-৮৬:১] [ফজর-২:১৮৭] [রাওয়াহ] [ছাহার-৩:১৭] [জুহুর-৩০:১৮] [লাইল-২০:১৩০] [গছাকিল লাইল-১৭:৭৮] [নাহার-২০:১৩০] [আছর-১০৩:১ < ইখতেলাফ আছে)] [আছিলা-৩৩:৪২] [মাছি] [তুলূ-৫০:৩৯] [হীনা তাক্বূম-৫২:৪৮] [বুকরাহ-৭৬:২৫] [তুরীহূন+তাছরাহূন-১৬:৬] [ই’শা-২৪:৫৮] [আশিয়্যা-৩:৪১] [ইশরাক্ব-৩৮:১৮] [সাফাক্ব-৮৪:১৬] [দুহা-৭৯:৪৬] [তুমছুন-৩০:১৭]< ইত্যাদি সময়ের নাম পাওয়া যায়। কিন্তু আল্লাহর কথার মিল খুজে পান বিজ্ঞানীরা। আল্লাহ বলেছেন “ইলা গছাকিল লাইল”- ছূরা বানিইছরাঈল আয়াত ৭৮। উক্ত আয়াতে আল্লাহ বলে দিলেন যে, “রাত শুরু হয় ঘনো অন্ধকার শুরু হলে (হালকা অন্ধকারে নয়)। আল কুরআন অনুযায়ী বিজ্ঞানীরাও বলেছেন যে, সূর্যাস্তের ১ ঘন্টা ১২ মিনিট পরে রাত শুরু হয়। কারও মতে ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটও। কাজেই, সূর্যাস্তের ১ ঘন্টা ১২ মিনিট পরে পানাহার করলে ছিয়াম পূর্ণ হবে।
.
দিন সরে গেলে অন্ধকার হয়ঃ
.
[৩৬:৩৭] (আল্লাহ বলেন) তাদের জন্য একটি নিদর্শন হলো রাত, তা থেকে আমি দিনকে সরিয়ে নেই, ফলে তখনই তারা অন্ধকারে ডুবে যায়। ছূরা ইয়াছীন আয়াত ৩৭।
.
আলোচনাঃ লক্ষ্য করুন! আল্লাহ সূর্যের কথা বলেননি। কারণ, সূর্য সরে গেলেও, বা সূর্য ডুবে গেলেও, সূর্য অস্তমিত হলেও বা সূর্য আড়াল হলেও কিছুক্ষন দিনের আলো থাকে। আল্লাহ গ্রামারে ভুল করেন না। তাই আল্লাহ বললেন যে, “দিনকে সরিয়ে নিলেই মানুষ অন্ধকারে ডুবে যায়। অর্থাৎ আলো সরে গেলেই মানুষ অন্ধকারে ডুবে যায়। কিন্তু সাফাকের সময় বা সন্ধ্যার সময় এবং ছুবহে ছাদেকের সময় মানুষ অন্ধকারে ডুবে থাকে না। কারণ, এ দুটি সময় কিছুক্ষন আলো থাকে বিধায় তা দিনেরই অংশ। কাজেই, ইফতার দিনে নয়, ইফতার রাতে।
.
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় আল্লাহ যদি বলতেন যে, “আমি সূর্যকে সরিয়ে নিলেই তারা অন্ধকারে ডুবে থাকে”। তাহলে সাধারণ মানুষ ও নাস্তিকগণ প্রশ্ন করার সুযোগ পেতো যে, সূর্য সরে যাওয়ার সাথে সাথে তো আমরা অন্ধকারে ডুবে যাই না, অন্ধকার তো হয় আরও অনেক পরে, তাহলে স্রষ্টা কি ভুল বললেন? (মা’আজাল্লাহ)। তারা আরও বলার সুযোগ পেতো যে, স্রষ্টা এটা সঠিক বলেননি। তারা আরও বলতো যে, এটা স্রষ্টার অসামঞ্জস্য বা বৈপরীত্য কথা। সৃষ্টির কাছে স্রষ্টা প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন এমন কথা স্রষ্টা কখনই বলবেন না। এখন কেউ যদি বলে যে, সূর্য অস্ত গেলেই রাত হয়, তাহলে সে স্রষ্টার বিপরীত কথা বললো। কাজেই, আল্লাহ এমন অসামঞ্জস্য বা বৈপরীত্য কথা কোথাও বলেননি।
.
দিন দেখার জন্যঃ
.
[১৭:১২] (আল্লাহ বলেন) আমি রাত্রি ও দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি। অতঃপর নিষ্প্রভ করে দিয়েছি রাতের নিদর্শন এবং দিনের নিদর্শনকে দেখার উপযোগি করেছি…। ছূরা বানিইছরাঈল আয়াত ১২। অনুবাদঃ তাফসিরে মা’আরেফুল কুরআন।
.
আলোচনাঃ উক্ত আয়াতেও আল্লাহ সূর্যের কথা বলেননি। বলেছেন “রাত নিষ্প্রভ” অর্থাৎ রাতে আলো থাকে না তাই রাত নিষ্প্রভ। কাজেই, সূর্য ডোবার সাথে সাথে দিনের আলো নিষ্প্রভ হয় না। উক্ত আয়াতে আল্লাহ আরও বলেছেন যে, “দিন দেখার জন্য” বা দিন আলোকময়। কাজেই, সন্ধ্যার সময় কিছু সময় মানুষ মানুষ মানুষকে দেখতে পায় তাই সন্ধ্যা কখনোই রাত নয়, অর্থাৎ সূর্য ডোবার সাথে সাথে রাত হয় না, তাই সূর্য ডোবার সাথে সাথে ইফতার করাও যায় না, ইফতার রাতে। তাই আল্লাহ বলেছেন, “ছিয়াম পূর্ণ করো রাত পর্যন্ত”- ছূরা বাকারা আয়াত ১৮৭।
.
রাতে বিশ্রাম, দিন আলোকময়ঃ
.
[২৭:৮৬] (আল্লাহ আরও বলেন) তারা কি দেখে না যে, আমি রাত সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিনকে করেছি আলোকময়…। ছূরা নামল আয়াত ৮৬।
.
আলোচনাঃ উপরের দুটি ছূরার দুটি আয়াতে আল্লাহ দিনের আলোর কথা বলেছেন। অর্থাৎ যতক্ষন আলো থাকবে ততক্ষন দিন থাকবে। সূর্য অস্ত যাওয়ার পরেও কিছুক্ষন যে আলো থাকে তা দিনেরই অংশ। আল্লাহর কথায় ইহাই প্রমাণ হলো যে, সূর্য ডোবার সাথে সাথে রাত হয় না, আলো সরে গেলেই রাত হয়।
.
[৩:২৭] (আল্লাহ আমাদেরকে বলতে বললেন) তোমরা বলো, তুমি রাতকে দিনের ভেতরে প্রবেশ করাও এবং দিনকে রাতের ভেতরে প্রবেশ করাও…। ছূরা আল ইমরান আয়াত ২৭।
.
আলোচনাঃ উক্ত আয়াতেও লক্ষ্য করার বিষয় হলো আল্লাহ রাতকে দিনের ভেতরে প্রবেশ করান। কিন্তু সূর্যকে দিনের ভেতর বা রাতের ভেতর প্রবেশ করানোর কথা আল্লাহ বলেননি। কারণ, সূর্য এক নিয়মে বিরামহীনভাবে চলে- ৩৬:৩৮। আর রাত ও দিনের এখতেলাফ হয়, অর্থাৎ রাত ও দিনের পরিবর্তন হয়। (অখতিলা ফিল্লাইলি অঁন্নাহারি- ২:১৬৪)।
.
অন্ধকার ও আলোঃ
.
[৬:১] (আল্লাহ বলেন) সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য যিনি নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলোর উদ্ভব করেছেন…। ছূরা আন’আম আয়াত ১।
.
আলোচনাঃ উক্ত আয়াতেও আল্লাহ অন্ধকার ও আলোর কথা বলেছেন। অন্ধকারে কিছু দেখা যায় না, কিন্তু সূর্য ওঠার আগে ও সূর্য ডোবার পরেও কিছুক্ষন সবকিছু দেখা যায়, তাই সূর্য ডোবার সাথে সাথেই অন্ধকার হয় না, তাই সূর্য ডোবার সাথে সাথে রাতও হয় না, তাই সূর্য ডোবার সাথে সাথে ইফতারও করা যায় না।
.
রাত আলোকে ঢেকে রাখে, দিন আলোকিতঃ
.
[৯২:১-২] (আল্লাহ বলেন) শপথ রাতের যখন তা (আলোকে) ঢেকে দেয়, শপথ দিনের যখন তা উদ্ভাসিত হয়ে উঠে। ছূরা লাইল আয়াত ১-২। ব্রাকেটসহ হুবহু অনুবাদঃ তাইসিরুল কুরআন।
.
আলোচনাঃ উক্ত দুটি আয়াতেও আল্লাহ রাত দ্বারা দিনের আলোকে ঢেকে দেওয়ার কথা বলেছেন। এবং দিনকে উদ্ভাসিত বা আলোকিত বলা হয়েছে। দিনের আলো না থাকলেই রাত অন্ধকারে ঢেকে যায়। প্রভাত ও সন্ধ্যা অন্ধকারে ঢাকা থাকে না তাই প্রভাত ও সন্ধ্যা রাত নয়। প্রভাত ও সন্ধ্যায় সূর্য না থাকলেও সূর্যের প্রভাবে কিছুক্ষন আলো থাকে। যতক্ষন আলো থাকবে ততক্ষন দিন থাকবে। কাজেই, দিনের আলো পুরোপুরি শেষ হয়ে রাত আরম্ভ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের ছিয়াম পূর্ণ করবো ইনশা-আল্লাহ।
.
উপরোক্ত বিষয়গুলো আমি কুরআন থেকে দেখানো সত্ত্বেও হয়তো কেউ কেউ ভিন্ন কিছু দেখিয়ে আপনাকে বিভ্রান্ত করতে চাইবে। যেমন, কুরআন থেকে দলীল-প্রমাণসহ রাতে ইফতার প্রসঙ্গে আমি ফেসবুকে পোষ্ট দেওয়াতে কুরআন পড়ুয়া এক ভাই তা অস্বীকার করে কমেন্ট বক্সে তিনি ছূরা ত্বারেকের ১-৩ আয়াত দেখিয়ে প্রতিবাদ করে তার মনগড়া মতবাদ দ্বারা বলে উঠলেন যে, সূর্য ডোবার ১০/১৫ মিনিট পরেই সন্ধ্যার সময় আকাশে একটি তারকা দেখা দিলেই রাত শুরু হয়ে যায় এবং ঠিক তখনই ইফতার করা যাবে। তিনি আরও বলেছেন যে, সন্ধ্যার সময় ঐ একটি মাত্র তারকা দেখা গেলে উহাই রাত শুরু হওয়ার প্রমাণ।
.
আমি তার উদ্দেশ্যে বলবো যে, এটি কি আপনার মনগড়া মতবাদ নয়? সূর্য অস্তমিত হওয়ার ১০/১৫ পরে ইফতার করা যাবে এই বিধান কার? আল্লাহ কি তা বলেছেন? ঐ রকম প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশ্যে আমি বলবো যে, সন্ধ্যার সময় আকাশে একটি অতিরিক্ত উজ্জ্বল নক্ষত্র দেখা যায়। যদি আমার ভুল না হয় তাহলে ঐ তারকাকে বলা হয় Evening star / শিরা নক্ষত্র / লুব্ধুক নক্ষত্র / শুকতারা / সাঁঝের তারা বা সন্ধ্যা তারা। আল্লাহ আল কুরআনে ঐ তারকাটিকে “নাজমি”-৫৩:১, “শি’রা নক্ষত্র-৫৩:৪৯, “নাজ মুছ ছাকিব”-৮৬:৩ বলেছেন যার অর্থ দীপ্তিমান নক্ষ্যত্র বা উজ্জ্বল নক্ষ্যত্র। যদি আমার ভুল না হয় তাহলে আমার জানা মতে আল কুরআনে ঐ তারকাটি সম্পর্কে দুটি ছূরার ৫ টি আয়াত পাওয়া যায় যথা- ছূরা নাজমের ১ ও ৪৯ নং আয়াত ও ছূরা ত্বারেকের ১-৩ নং আয়াত।
.
[৫৩:১] (আল্লাহ বলেন) “অঁন্নাজমি ইজা হাওয়া”। অর্থঃ- শপথ নক্ষত্রের যখন ওটা অস্তমিত হয়। ছূরা নাজম আয়াত ১। অনুবাদঃ মুঃ মুজিবুর রহমান।
.
আলোচনাঃ “নাজম” এক বছন, “নুজুম” বহুবছন। ছূরা নাজম এর প্রথম আয়াতে আল্লাহ অস্ত যাওয়া নক্ষত্রের শপথ করতে গিয়ে একবছন দ্বারা ঐ সন্ধ্যা তারাকে বুঝিয়েছেন বলে অধিকাংশ গবেষকগণ মত পোষন করেছেন। ঐ তারকাটির স্থায়িত্বকাল সম্পর্কেও কেউ বলেছেন সন্ধ্যা থেকে শুরু করে ঐ নক্ষত্রটি ১ ঘন্টার মতো সময় স্থায়ি থাকে। অর্থাৎ সন্ধ্যার পরে পুরোপুরি অন্ধকার হলেই ঐ তারকাটি অস্তমিত হয়ে যায় যা আল্লাহ বলেছেন। ঐ তারকাটি সন্ধ্যা হলেই দেখা যায়। তাফছীরকারকগণ বলেছেন, ঐ তারকাটিকে আরবের বহু মানুষ পুজা করতো। শুধু তাই নয় রাতের তারকাগুলোর তুলনায় ঐ তারকাটি অতিরিক্ত আলো বা অতিরিক্ত উজ্জ্বল হওয়াতে সূর্য আড়াল হওয়ার সাথে সাথে ঐ তারকাটি সন্ধ্যার সময় থেকেই দেখা যায়। তাই ঐ তারকাটিকে বলা হয় “সাঁজের তারা” বা “সন্ধ্যা তারা” যা উজ্জ্বল নক্ষত্র।
.
আল্লাহ ছূরা ইনশিককের ১৭ নং আয়াতে রাতের তারকাগুলোর শপথ করেছেন। আবার ভিন্নভাবে ঐ একটি মাত্র উজ্জ্বল তারকার শপথ করেছেন ছূরা নাজম এর প্রথম আয়াতে ও ছূরা ত্বারেকের প্রথম আয়াতে। আরও জানার বিষয় হলো যে, একবচনকৃত ঐ একটিমাত্র তারকা ব্যতীত সন্ধ্যার সময় বহুসংখ্যক তারকার সমাবেশ ঘটে না, যা ছূরা ইনশিককের ১৭ নং আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। অর্থাৎ রাত আরম্ভ হলেই আকাশে বহুসংখ্যক তারকার সমাবেশ ঘটে এবং ঐ তারকাটি তখন অস্ত যায়।
.
আল কুরআনে ছূরা তারেকের ১-২ আয়াতের আরবীতে “লাইল” তথা রাত শব্দটি নেই, নাউন বা প্রনাউনেও “রাত” শব্দটি নেই। যেহেতু তারকা রাতে দেখা যায় তাই অধিকাংশ অনুবাদকগণই ঐ দুই আয়াতের অনুবাদের সাথে “রাত” শব্দটি জুড়ে দিয়েছেন, যার কারণে কেউ কেউ মনগড়া মতবাদ দ্বারা বলে থাকেন যে, ঐ তারকাটির উপস্থিতি থেকেই রাত শুরু হয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহ তা বলেননি এবং ঐ আয়াতে রাত শব্দটিও নেই। ছূরা ত্বারেকের ঐ তারকা সম্পর্কিত ৩ টি আয়াত ও শব্দার্থ লক্ষ্য করলেই আমার কথার সত্যতা প্রমাণ হবে ইনশা-আল্লাহ।

প্রচারকঃ আবু বকর (কামাল)

Viewed 100 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!