হিন্দু সূত্রে ইমাম মাহদী (আ.)
ইসলামী ডেক্সঃ—
হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা জয়নুল আবেদীন ইমাম মাহদী (আ.) অস্তিত্ব সম্পর্কে হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ থেকে সুন্দর ভাবে প্রমাণ করেছেন।
হিন্দু ধর্মগ্রন্থে উল্লিখিত কল্কি অবতার এবং ইসলামের ইমাম মাহদী (আ.)-এর আগমনের ধারণার মধ্যে বিস্ময়কর মিল রয়েছে। উভয় বিশ্বাসই জানান দেয়, এক মহাপুরুষ আসবেন, যিনি সমাজকে অন্যায়, দুর্নীতি ও অত্যাচার থেকে মুক্ত করবেন এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন। এটি বোঝা যায় যে, মানবজাতি চিরকালই এক সর্বজনীন ন্যায়পরায়ণ নেতার প্রত্যাশায় ছিল এবং ইসলাম সেই প্রত্যাশার পরিপূর্ণতা দিয়েছে ইমাম মাহদী (আ.)-এর মাধ্যমে।
ভূমিকা :-
বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মে এক প্রতিশ্রুত ন্যায়পরায়ণ নেতা বা মুক্তিদাতার আগমনের ধারণা রয়েছে। ইসলাম ধর্মে এই মুক্তিদাতা হচ্ছেন ইমাম মাহদী (আ.), যিনি বিশ্বে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলোতেও এমন এক ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে, যা ইসলামের ইমাম মাহদী (আ.)-এর আগমনের ধারণার সাথে বিস্ময়করভাবে মিলে যায়।
হিন্দু ধর্মগ্রন্থে ভবিষ্যদ্বাণী ও ইমাম মাহদী (আ.)
হিন্দু ধর্মের প্রধান গ্রন্থগুলোতে ভবিষ্যতে এক মহাপুরুষের আগমনের উল্লেখ রয়েছে, যিনি কলিযুগের (অন্ধকার ও অবক্ষয়ের যুগ) অবসান ঘটাবেন এবং পৃথিবীতে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন। নিম্নে এই প্রসঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ তুলে ধরা হলো:
কল্কি অবতার ও ইমাম মাহদী (আ.)
হিন্দু ধর্মগ্রন্থ: ‘বিষ্ণু পুরাণ’, ‘ভাগবত পুরাণ’, ‘ভবিষ্য পুরাণ’ ইত্যাদিতে কল্কি অবতারের কথা বলা হয়েছে।
বর্ণনা:- বলা হয়েছে, কল্কি অবতার ঘোড়ায় চড়ে, তলোয়ার হাতে অন্যায় ও দুর্নীতি দমন করবেন এবং সত্য ধর্ম প্রতিষ্ঠা করবেন।
তুলনা:- ইমাম মাহদী (আ.)-এর সম্পর্কে ইসলামী হাদিসেও বলা হয়েছে যে, তিনি ঘোড়ায় আরোহণ করবেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করবেন।
কল্কি অবতারের জন্ম ও ইমাম মাহদীর (আ.) গাইবাত
হিন্দু- কল্কি অবতার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেবেন এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য মানুষের চোখের আড়ালে থাকবেন।
ইসলাম: ইমাম মাহদী (আ.)-ও পবিত্র নবী (সা.)-এর বংশধর হিসেবে জন্মগ্রহ
ণ করেছেন এবং তিনি দীর্ঘ গাইবাতের (অদৃশ্য থাকার) সময় অতিবাহিত করছেন।
কল্কি অবতার ও ইসলামী বিশ্বাসের মিল
হিন্দু বিশ্বাস: কল্কি অবতার তার অনুসারীদের একত্রিত করবেন, দুষ্টের দমন করবেন ও সত্যের বিজয় নিশ্চিত করবেন।
ইসলামী বিশ্বাস: ইমাম মাহদী (আ.)-ও তাঁর বিশ্বস্ত অনুসারীদের নেতৃত্ব দেবেন এবং পৃথিবীতে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠা করবেন।
জনগণের সামনে এই বিষয়টি উপস্থাপন করার উপায়
-ধর্মীয় গবেষণা ও তুলনামূলক আলোচনা:
হিন্দু ও ইসলামী ধর্মগ্রন্থের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে যৌক্তিক ও গবেষণালব্ধ আলোচনা করা।
সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ:-
ইসলামের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মেও এই মুক্তিদাতার ধারণা যে বিদ্যমান, তা তুলে ধরা।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপ:
হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করা এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।
Viewed 120 times