মহানবীর (সা.) শিক্ষা ও মুক্তি

ডেস্ক রিপোর্টঃ হাজারো সমস্যার আবর্তে বর্তমান পৃথিবী। মানবতা আজ নিষ্পেষিত। সভ্যতা আজ ধ্বংসোন্মুখ। বিভিন্ন জাতিতে সংঘর্ষ আজ সর্বত্র। বর্ণবাদের ঘৃণ্য নিপীড়নে কোটি কোটি মানুষ জর্জরিত, অবহেলিত, লাঞ্ছিত। উগ্র জাতীয়তাবাদ, গোত্রবাদ, স্বাদেশিকতাবাদ, জাতিগত সমস্যা মানবতার অখণ্ডত্বকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। সর্বত্র চলছে ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও জাতিগত প্রাধান্যের তীব্র প্রতিযোগিতা। ফলে সংঘাত, সংঘর্ষ, অসাম্য, ঘৃণা, প্রতিশোধস্পৃহা আজ প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।
অর্থনৈতিক শোষণের করাল গ্রাসে কোটি কোটি জনতা ধুঁকে ধুঁকে মরছে। সুদভিত্তিক পুঁজিবাদী বৈষম্যমূলক অর্থনীতি পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষকে দারিদ্র্যে নিপতিত করে রেখেছে। সমাজের নিম্নস্তরে যাদের অবস্থান তাদের করুণ দশা। অনাহার, অর্ধাহার, বস্ত্রের অভাব তাদের প্রকট।
পারিবারিক ভাঙন, স্ত্রীর প্রতি অবমাননা, নারীর অসম্মান মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘হে জনমণ্ডলী! নারীর ওপর পুরুষের যেরূপ অধিকার আছে, পুরুষের ওপরেও নারীর সেরূপ অধিকার আছে। দয়া ও ভালোবাসার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে আচরণ করবে। নিশ্চয় আল্লাহর জমিনে তোমরা তাদের গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালামের মাধ্যমে তারা তোমাদের জন্য বৈধ হয়েছে।’
নানা ধরনের অপসংস্কৃতি, কুসংস্কার আর অন্ধত্বে সয়লাব এ পৃথিবী। আজ চিন্তার নৈরাজ্য, ভুলতত্ত্ব, বিভ্রান্তিকর মতবাদ, অপসংস্কৃতি, পাশবিক প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ছে পুরো পৃথিবীতে। সভ্যতা আজ যান্ত্রিকতায় পরিণত।
বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘হে জনমণ্ডলী শোনো! মূর্খতা যুগের সমস্ত কুসংস্কার, সমস্ত অন্ধ বিশ্বাস এবং সকল প্রকার অনাচার আজ আমার পদতলে দলিত-মথিত, অর্থাৎ রহিত ও বাতিল হয়ে গেল।’
মুসলিম দুনিয়ার অবস্থা আরও করুণ। অব্যবস্থা, দারিদ্র্য, স্বৈরাচারী শাসন মুসলিম বিশ্বের বৈশিষ্ট্য। তারা নানামুখী ষড়যন্ত্রে নিপতিত। সর্বত্র মুসলমান নিপীড়িত, নির্যাতিত। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, আরাকান, মিন্দানাও– সর্বত্র মুসলমানদের রক্তপাত। অনৈক্য, বিভেদ মুসলিম বিশ্বের শক্তিকে নিঃশেষ করে দিয়েছে। বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘হে আমার উম্মতগণ! আমি যা রেখে যাচ্ছি, তা যদি তোমরা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো তাহলে তোমাদের পতন হবে না। আর তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহ।’
মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজের অভিভাষণ পড়লে, তাকে আত্মস্থ করলে মুক্তির সন্ধান মিলবে। বর্ণবাদ-জাতিপ্রাধান্যের অবসান; নারী জাতির মুক্তির সংগ্রাম; অধিকারহারা মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা; অনাচার নির্মূলকরণে মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভাষণ থেকে পাওয়া যাবে পথনির্দেশ। তাই আজকে বড় প্রয়োজন মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভাষণের অনুশীলন, এর যথার্থ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন। তাহলেই আজকের সমস্যার সমাধানের পথ হবে প্রশস্ত। মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রেখে যাওয়া শিক্ষার চর্চা আমাদের ব্যষ্টিক-সামাজিক জীবনকে করবে শোষণমুক্ত, সমৃদ্ধ, রাষ্ট্রকে করবে শক্তিশালী, পরিবারকে করবে প্রেমময় ও ভালোবাসাপূর্ণ। ব্যক্তিজীবনকে করবে পূত-পবিত্র, পরিচ্ছন্ন, ভারসাম্যপূর্ণ, সৎ ও সুন্দর। বিশেষ করে বিশ্ব মুসলিম জাগরণের পথ হবে প্রশস্ত। মোট কথা, মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজের ভাষণের যথার্থ অনুশীলনেই মানবতার মুক্তি। এ হচ্ছে আমাদের অস্তিত্ব, গৌরব, সমৃদ্ধি, উন্নতি, প্রগতির জিয়নকাঠি, সোনালি পরশ।
Viewed 50 times