মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ইসলাম
মাও.মুফতী মোহাম্মাদ উল্লাহ্: মাতৃভাষা মহান প্রভুর এক বিস্ময়কর নিদর্শন। অঞ্চলভেদে যা বৈচিত্র্যময় ও বিভিন্ন। মহান আল্লাহ কুরআনে সেকথাই বর্ননা করেছেন। আল্লাহ বলেন-
وَ مِنۡ اٰیٰتِہٖ خَلۡقُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ اخۡتِلَافُ اَلۡسِنَتِکُمۡ وَ اَلۡوَانِکُمۡ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّلۡعٰلِمِیۡنَ
‘এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।’
(সুরা রুম : আয়াত ২২)
মহান প্রভু ঘোষিত এ নির্দশনই হচ্ছে ভাষা। ভাষা সুস্পষ্ট না হলে মানব জীবনের সব কিছুই যেন অপূর্ণ। ভাষার স্বাধীনতা না থাকলে মৃত্যু হয় স্বাধীনতার। তাইতো সত্যের শ্লোগান দিতে, সত্যের জয়গান লিখতে প্রয়োজন স্বাধীন ভাষার।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি একঝাঁক বাঙালি তরুণের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে আজকের ভাষার স্বাধীনতা। যা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সারা বিশ্বে। তাই এ ভাষার প্রতি আমাদের সকলের ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে শ্রদ্ধা থাকুক সব সময়।
মানুষ সে ভাষায় কথা বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, যে ভাষায় কথা বললে তা হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করা যায়। আর মাতৃভাষায় কথা বলা ছাড়া কোনো মানুষই পরিপূর্ণ তৃপ্তি লাভ করতে পারে না। আর এ কারণেই যুগে যুগে আল্লাহ তা’আলা প্রত্যেক নবী রাসুলের কাছেও স্বজাতির ভাষায় আসমানি গ্রন্থ নাজিল করেছেন
যাতে প্রত্যেক নবী রাসূলগন তাদের নিজস্ব ভাষায় আল্লাহর আহ্বান উম্মাহর কাছে পৌছে দিতে পারে। তাওহিদের দাওয়াত সহজ ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতে পারে। এ প্রসঙ্গটিও কুরআনে সুস্পষ্ট ওঠে এসেছে-
وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا بِلِسَانِ قَوۡمِہٖ لِیُبَیِّنَ لَہُمۡ ؕ فَیُضِلُّ اللّٰہُ مَنۡ یَّشَآءُ وَ یَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَ ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ .
আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি তাদের নিকট পরিস্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎ পথে পরিচালিত করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
(সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৪)
এতো গেল ভাষার কথা।
আল্লাহ তা’আলা একই ভাষাভাষী মানুষের আঞ্চলিকতার ওপরো গুরুত্বারোপ করেছেন। যে কারণে পবিত্র কুরআনের ভাষা আরবিকে তিনি ৭টি পঠন রীতিতে নির্ধারণ করেছেন। এ পঠরীতি সাত ক্বিরাত (কেরাতে সাব’য়া) নামে সুপরিচিত।
সুতরাং আমাদের মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা যেহেতু মহান রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে এ ভাষা আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার। তাই ভাষা শহীদ সালাম, জাব্বার, রফিক, বরকত, সালাহউদ্দিনসহ সব ভাষা সৈনিকদের আত্ম-ত্যাগকে আল্লাহ তাআলা কবুল করুন।ভাষা ও দেশ এক সুতোয় গাঁথা। আল্লাহ তা’আলা ভাষাকে দেশের সঙ্গে এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবেই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তাই আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা ‘বাংলা ভাষা’র প্রতি ও আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ-এর প্রতি যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান করা জরুরি।
সর্বোপরি
ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা যেমন প্রতিটি মানুষের ঈমানি দাবি। তেমনি ভাষার জন্য যাদের অবদান রয়েছে সে সব ভাষা শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করাও ঈমানের দাবি। আল্লাহ তাআলা সকল ভাষা শহীদদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমিন
Viewed 200 times