১৫ই শাবান (লাইলাতুল বরাত) রাত ও দিনের আমলসমূহ -১ম অংশ

বি:দ্র: আমলটিতে আরবী’র বাংলায় উচ্চারণ দেয়া আছে।
রেওয়ায়েতে ১৫ই শাবান তারিখে (১৪ই শাবান দিবা গত রাত) রাত্রি জাগরণের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ রাতের বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে এই রাতে ইমাম মাহদী (আঃ) জন্মগ্রহণ করেন।
ইমাম জাফর সাদিক্ব (আঃ) বলেছেন: ইমাম বাকের (আ.)কে এই রাত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তাঁরা উত্তরে বলেন: ১৫ই শাবানের রাত শবে ক্বদরের পরে সবচেয়ে ফযিলতপূর্ণ রাত। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর অপার দয়ায় বান্দাদের চাহিদাকে পূর্ণ এবং তাদের কৃত গুনাহকে ক্ষমা করেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা কর। কেননা এই রাত সম্পর্কে আল্লাহ শপথ করে বলেছেন: কোন ব্যাক্তি যদি এই রাতে দোয়া করে তার দোয়া কবুল হবে। তোমরা এই রাতে আল্লাহর কাছে এমনভাবে চাও যেন তোমাদের দোয়া কবুল হয়। এই রাতটি লাইলাতুল ক্বদরের ন্যায় আরেকটি মহিমান্বিত রাত যা আমাদেরকে দান করা হয়েছে।
কেউ যদি এই রাতে অবৈধ কিছু না চায় তাহলে আল্লাহ তার দোয়াসমূহকে কবুল করবেন। ১৫ই শাবানের রাতটি এমন এক রাত যা আল্লাহ তার বান্দাদেরকে দান করেছেন। এই রাতটি শবে ক্বদরের ন্যায় ফযিলতপূর্ণ একটি রাত। সুতরাং তোমরা এই রাত্রিতে জাগরণের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত কর এবং নিজেদের জন্য দোয়া কর। এছাড়াও এই রাতে বিশেষ কিছু আমল বর্ণিত হয়েছে যেমন:
১. গোসল করা।
এই রাতে গোসল করলে আল্লাহ তাঁর বান্দার গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দেন।
২. রাত্রি জাগরণ করা।
এই রাতে নামাজ, দোয়া এবং ইস্তিগফারের মাধ্যমে অতিবাহিত করা উত্তম। কেননা ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) বলেছেন: যে ব্যাক্তি এ রাতকে ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করবে, কেয়ামতে আল্লাহ সেই ব্যাক্তির অন্তরকে জীবিত রাখবেন যেদিন সকলের অন্তর মারা যাবে। (মাফাতিহুল জিনান, দ্বিতীয় অধ্যায়, পৃষ্ঠা ২৬৭)
৩. ইমাম হুসাইন (আ.)’র যিয়ারত পাঠ করা:
যে ব্যাক্তি এই রাতে ইমাম হুসাইন (আ.)’র যিয়ারত পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তার গুনাহকে ক্ষমা করে দিবেন।
আবু হামযা সোমালী (রহ.) বলেছেন: ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) বলেছেন: কেউ যদি ১২৪০০০ নবীদের সাথে করমর্দন করতে চায় তাহলে সে যেন ১৪ই শাবান দিবাগত রাতে ইমাম হুসাইন (আ.)’র কবর যিয়ারত করে। কেননা এই রাতে ফেরেশতা, রূহ এবং নবীগণ আল্লাহর কাছে ইমাম হুসাইন (আ.)’র কবর যিয়ারত করার অনুমতি চায় এবং আল্লাহও তাদেরকে যিয়ারতের অনুমতি দেন। সৌভাগ্যবান ব্যাক্তি হচ্ছে সেই যে, তাঁদের সাথে করমর্দন করতে পারে যাঁদের মধ্যে উলুল আযম নবীগণ রয়েছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেন তাঁদেরকে উলুল আযম নবী বলা হয়? তিনি বললেন: কারণ তারা নিজেদের যুগে সারা বিশ্বের সকল জ্বিন ও মানব জাতীর জন্য নবুওয়াত প্রাপ্ত হয়েছিলেন।
মাবিয়া বিন ওহাব বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম জাফর সাদিক্ব (আ.) বলেছেন: যারা প্রথম শাবানে কারবালাতে ইমাম হুসাইন (আ.)এর যিয়ারতের জন্য এসেছ তারা ১৫ই শাবানকে হাত ছাড়া করো না। কারণ তোমরা যদি জানতে যে, সেই দিনের যিয়ারতের কি ফযিলত রয়েছে তাহলে তা কখনও বাদ দিতে না বরং আগামী বছর পর্যন্ত ইমাম হুসাইন (আ.)এর কবরের কাছে এই রাতটির জন্য অপেক্ষা করতে। (ইক্ববালুল আমাল, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৯১৯, ৯২০)
ইমাম জয়নুল আবেদীন ও ইমাম জাফর সাদিক্ব (আ.) থেকে ১৫ই শাবানে ইমাম হুসাইন (আ.)এর যিয়ারতটি বর্ণিত হয়েছে। ইমাম হুসাইন(আ.) এর কবরের কাছে দাড়িয়ে যিয়ারতটি পাঠ করতে হবে। যিয়ারতটি নিন্মরূপ:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ وَ أَلسَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الْعَبْدُ الصَّالِحُ الزَّكِيُّ أُودِعُكَ شَهَادَةً مِنِّي لَكَ تُقَرِّبُنِي إِلَيْكَ فِي يَوْمِ شَفَاعَتِكَ أَشْهَدُ أَنَّكَ قُتِلْتَ وَ لَمْ تَمُتْ بَلْ بِرَجَاءِ حَيَاتِكَ حَيَّت قُلُوبُ شِيعَتِكَ وَ بِضِيَاءِ نُورِكَ اهْتَدَى الطَّالِبُونَ إِلَيْكَ وَ أَشْهَدُ أَنَّكَ نُورُ اللَّهِ الَّذِي لَمْ يُطْفَأْ وَ لا يُطْفَأُ أَبَداً وَ أَنَّكَ وَجْهُ اللَّهِ الَّذِي لَمْ يَهْلِكْ وَ لا يُهْلَكُ أَبَداً وَ أَشْهَدُ أَنَّ هَذِهِ التُّرْبَةَ تُرْبَتُكَ وَ هَذَا الْحَرَمَ حَرَمُكَ وَ هَذَا الْمَصْرَعَ مَصْرَعُ بَدَنِكَ لا ذَلِيلَ وَ اللَّهِ مُعِزُّكَ وَ لا مَغْلُوبَ وَ اللَّهِ نَاصِرُكَ هَذِهِ شَهَادَةٌ لِي عِنْدَكَ إِلَى يَوْمِ قَبْضِ رُوحِي بِحَضْرَتِكَ وَ أَلسَّلاَمُ عَلَيْكَ وَ رَحْمَةُ اللَّهِ وَ بَرَكَاتُهُ.
উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল আলীয়িল আযিম ওয়াস সালামু আলাইকা আইয়্যুহাল আব্দুস সালেহুয যাকিইউ উদিয়্যুকা শাহাদাতাম মিন্নি লাকা তুকাররিবুনী ইলাইকা ফি ইয়াওমি শাফাআতিকা আশহাদু আন্নাকা কুতিলাত ওয়া লাম তামুত বাল বিরাজায়ি হায়াতিকা হাইয়্যাত কুলুবু শিয়াতিকা ওয়া বিযায়ায়ি নূরিকাহ তাদাত তালিবুনা ইলাইকা ওয়া আশহাদু আন্নাকা নূরুল্লাহিল্লাযি লাম ইউতফা ওয়া লা ইউতফাউ আবাদাও ওয়া আন্নাকা ওয়াজহুল্লাহিল্লাযি লাম ইয়াহলিক ওয়া লা ইউহলাকু আবাদাও ওয়া আশহাদু আন্না হাযিহিত তুরবাতা তুরবাতুকা ওয়া হাযাল হারামা হারামুকা ওয়া হাযাল মাসরাআ মাসরাউ বাদানিকা লা যালিলা ওয়াল্লাহি মুয়েযযুকা ওয়ালা মাগলুবা ওয়াল্লাহি নাসিরুকা হাযিহি শাহাদাতু লি ইন্দাকা ইলা ইয়াউমিল কাবযি রূহি বিহাযরাতিকা ওয়াস সালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
৪. দোয়া পাঠ করা: শেখ কাফআমি এবং সৈয়দ ইবনে তাউস (রহ.) উভয়েই তাদের স্বীয় গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তারা বলেছেন: ১৫ই শাবানের রাতে নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করলে ইমাম মাহদী (আ.)’র যিয়ারতের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যাবে:
اللَّهُمَّ بِحَقِّ لَيْلَتِنَا وَ مَوْلُودِهَا وَ حُجَّتِكَ وَ مَوْعُودِهَا الَّتِي قَرَنْتَ إِلَى فَضْلِهَا فَضْلَكَ فَتَمَّتْ كَلِمَتُكَ صِدْقاً وَ عَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِكَ وَ لَا مُعَقِّبَ لِآيَاتِكَ نُورُكَ الْمُتَأَلِّقُ وَ ضِيَاؤُكَ الْمُشْرِقُ وَ الْعَلَمُ النُّورُ فِي طَخْيَاءِ الدَّيْجُورِ الْغَائِبِ الْمَسْتُورِ جَلَّ مَوْلِدُهُ وَ كَرُمَ مَحْتِدُهُ وَ الْمَلَائِكَةُ شُهَّدُهُ وَ اللَّهُ نَاصِرُهُ وَ مُؤَيِّدُهُ إِذَا آنَ مِيعَادُهُ وَ الْمَلَائِكَةُ أَمْدَادُهُ سَيْفُ اللَّهِ الَّذِي لَا يَنْبُو وَ نُورُهُ الَّذِي لَا يَخْبُو وَ ذُو الْحِلْمِ الَّذِي لَا يَصْبُو مَدَارُ الدَّهْرِ وَ نَوَامِيسُ الْعَصْرِ وَ وُلَاةُ الْأَمْرِ وَ الْمُنْزَلِ عَلَيْهِمْ مَا يَتَنَزَّلُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَ أَصْحَابُ الْحَشْرِ وَ النَّشْرِ تَرَاجِمَةُ وَحْيِهِ وَ وُلَاةُ أَمْرِهِ وَ نَهْيِهِ اللَّهُمَّ فَصَلِّ عَلَى خَاتَمِهِمْ وَ قَائِمِهِمْ الْمَسْتُورِ عَنْ عَوَالِمِهِمْ وَ أَدْرِكْ بِنَا أَيَّامَهُ وَ ظُهُورَهُ وَ قِيَامَهُ وَ اجْعَلْنَا مِنْ أَنْصَارِهِ وَ اقْرُنْ ثَارَنَا بِثَارِهِ وَ اكْتُبْنَا فِي أَعْوَانِهِ وَ خُلَصَائِهِ وَ أَحْيِنَا فِي دَوْلَتِهِ نَاعِمِينَ وَ بِصُحْبَتِهِ غَانِمِينَ وَ بِحَقِّهِ قَائِمِينَ وَ مِنَ السُّوءِ سَالِمِينَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ وَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعالَمِينَ وَ صَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ خَاتَمِ النَّبِيِّينَ وَ الْمُرْسَلِينَ وَ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ الصَّادِقِينَ وَ عِتْرَتِهِ النَّاطِقِينَ وَ الْعَنْ جَمِيعَ الظَّالِمِينَ وَ احْكُمْ بَيْنَنَا وَ بَيْنَهُمْ يَا أَحْكَمَ الْحَاكِمِينَ. [1]
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বি হাক্কি লাইলাতিনা ওয়া মাউলুদিহা ওয়া হুজ্জাতিকা ওয়া মাউদিহাল্লাতি কারানতা ইলা ফাযলিহা ফাযলাকা ফাতাম্মাত কালিমাতুকা সিদকাও ওয়া আদলাল লা মুবাদ্দিলা লিকালিমাতিকা ওয়া লা মুআক্কিবা লি আয়াতিকা নুরুকাল মাতাআল্লিকু ওয়া যিয়াউকাল মুশরিকু ওয়াল আলামুন নুরু ফি খাতইয়ায়িদ দাইজুরিল গায়িবীল মাসতুরী হাল্লা মাউলিদুহু ওয়া কারুমা মাহতিদুহু ওয়াল মালায়িকাতু শুহহাদুহু ওয়াল্লাহু নাসিরুহু ওয়া মুআইয়িদুহু ইযা আনা মিআদুহু ওয়াল মালায়িকাতু আমদাদুহু সাইফুল্লা হিল্লাযি লা ইয়াম্বু ওয়া নুরুহুল্লাযি লা ইয়াখবু ওয়া যুল হিলমিল্লাযি লা ইয়াসবু মাদারুদ দাহরী ওয়া নাওয়ামিসুল আসরী ওয়া উলাতুল আমরী ওয়াল মুনযালি আলাইহিম মা ইয়াতানাযযালু ফি লাইলাতিল কাদরী ওয়া আসহাবুল হাশরী ওয়ান নাসরী তারজিমাতু ওয়াহয়িহি ওয়া উলাতু আমরীহি ওয়া নাহয়িহি আল্লাহুম্মা ফাসাল্লি আলা খাতামিহিম ওয়া কায়িমিহিল মাসতুর আন আওয়ালিমিহিম ওয়া আদরিক বিনা আইয়ামাহু ওয়া যুহুরাহু ওয়া কিয়ামাহু ওয়াজআলনা মিন আনসারিহি ওয়াক্বরুন সারানা বিসারিহি ওয়াকতুবনা ফি আওয়ানিহি ওয়া খুলাসায়িহি ওয়া আহয়িনা ফি দাউলাতিহি নায়িমিনা ওয়া বিসুহবাতিহি গানিমিনা ওয়া বি হাক্কিহি কায়িমিনা ওয়া মিনাস সুয়ী সালিমিনা ইয়া আরহামার রাহিমিন ওয়াল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদিন খাতিমিন নাবিয়্যিনা ওয়াল মুরসালিনা ওয়া আলা আহলে বাইতিহিস সাদিকিনা ওয়া ইতরাতিহিন নাতিক্বিনা ওয়াল আন জামিআয যালিমিনা ওয়াহকুম বাইনানা ওয়া বাইনাহুম ইয়া আহকামাল হাকিমিন।
৫. হযরত ইসমাইল বিন ফাযল হাশেমী বলেন: ইমাম সাদিক্ব (আ.) আমাকে এই দোয়াটির শিক্ষা দেন এবং যেন আমি ১৪ই শাবান দিবাগত রাতে (১৫ই শাবান) নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করি:
اللَّهُمَّ أَنْتَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ الْخَالِقُ الرَّازِقُ الْمُحْيِي الْمُمِيتُ الْبَدِي ءُ الْبَدِيعُ لَكَ الْجَلالُ وَ لَكَ الْفَضْلُ وَ لَكَ الْحَمْدُ وَ لَكَ الْمَنُّ وَ لَكَ الْجُودُ وَ لَكَ الْكَرَمُ وَ لَكَ الْأَمْرُ وَ لَكَ الْمَجْدُ وَ لَكَ الشُّكْرُ وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لَكَ يَا وَاحِدُ يَا أَحَدُ يَا صَمَدُ يَا مَنْ لَمْ يَلِدْ وَ لَمْ يُولَدْ وَ لَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَ اغْفِرْ لِي وَ ارْحَمْنِي وَ اكْفِنِي مَا أَهَمَّنِي وَ اقْضِ دَيْنِي وَ وَسِّعْ عَلَيَّ فِي رِزْقِي فَإِنَّكَ فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ كُلَّ أَمْرٍ حَكِيمٍ تَفْرُقُ وَ مَنْ تَشَاءُ مِنْ خَلْقِكَ تَرْزُقُ فَارْزُقْنِي وَ أَنْتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ فَإِنَّكَ قُلْتَ وَ أَنْتَ خَيْرُ الْقَائِلِينَ النَّاطِقِينَ وَ اسْئَلُوا اللَّهَ مِنْ فَضْلِهِ فَمِنْ فَضْلِكَ أَسْأَلُ وَ إِيَّاكَ قَصَدْتُ وَ ابْنَ نَبِيِّكَ اعْتَمَدْتُ وَ لَكَ رَجَوْتُ فَارْحَمْنِي يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ. [2]
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতাল হাইয়্যুল কাইয়্যুমুল আলীউল আযিম খঅলিকুর রাযিকুল মুহয়্যিল মুমিতুল বাদিয়্যুল বাদিয়্যু লাকাল জালালু ওয়া লাকাল ফাযলু ওয়া লাকাল হামদু ওয়া লাকাল মান্নু ওয়া লাকাল জুদু ওয়া লাকাল কারামু ওয়া লাকাল আমরু ওয়া লাকাল মাজদু ওয়া লাকাশ শুকরু ওয়াহদাকা লা শারীকা লাকা ইয়া ওয়াহিদু ইয়া আহাদু ইয়া সামাদু ইয়া মান লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইয়ুলাদ ওয়া লাম ইয়া কুনলাহু কুফুওয়ান আহাদ সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলি মুহাম্মাদ ওয়াগফির লি ওয়ারহামনী ওয়াকফিনী মা আহাম্মানী ওয়াক্বযি দিনী ওয়া ওয়াসসে আলাইয়া ফি রিযক্বি ফা ইন্নাকা কুলতা ওয়া আনতা খাইরুল কায়িলিনান নাতিকিনা ওয়াসআলুল্লাহা মিন ফাযলিহি ফামিন ফাযলিকা আসআলু ওয়া ইয়য়াকা কাসাদতু ওয়াবনা নাবিয়্যিকা তামাদতু ওয়া লাকা রাজাওতু ফারহামনী ইয়া আরহামার রাহিমিন।
৬. হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ১৫ই শাবান রাতে এ দোয়াটি পাঠ করতেন:
اللَّهُمَّ اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا يَحُولُ بَيْنَنَا وَ بَيْنَ مَعْصِيَتِكَ وَ مِنْ طَاعَتِكَ مَا تُبَلِّغُنَا بِهِ رِضْوَانَكَ و مِنَ الْيَقِينِ مَا يَهُونُ عَلَيْنَا بِهِ مُصِيبَاتُ الدُّنْيَا اللَّهُمَّ أَمْتِعْنَا بِأَسْمَاعِنَا وَ أَبْصَارِنَا وَ قُوَّتِنَا مَا أَحْيَيْتَنَا وَ اجْعَلْهُ الْوَارِثَ مِنَّا وَ اجْعَلْ ثَارَنَا عَلَى مَنْ ظَلَمَنَا وَ انْصُرْنَا عَلَى مَنْ عَادَانَا وَ لا تَجْعَلْ مُصِيبَتَنَا فِي دِينِنَا وَ لا تَجْعَلِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمِّنَا وَ لا مَبْلَغَ عِلْمِنَا وَ لا تُسَلِّطْ عَلَيْنَا مَنْ لا يَرْحَمُنَا بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ.[3]
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাক সিম লানা মিন খাশিয়াতিকা মা ইয়াহুলু বাইনানা ওয়া বাইনা মাঅসিয়াতিকা ওয়া মিন ত্বআতিকা মা তুবাল্লিগুনা বিহি রিযওয়ানাকা ওয়া মিনাল ইয়াক্বিনী মা ইয়াহুনু আলাইনা বিহি মুসিবাতুদ দুনইয়া। আল্লাহুম্মা আতিঅনা বিআসমায়ীনা ওয়া আবসারীনা ওয়া কুওয়াতিনা মা আহইয়াইতানা ওয়াজআলহুল ওয়ারিসা মিন্না ওয়াজআল সারানা আলা মান যালামানা ওয়ানসুরনা আলা মান আদানা ওয়া লা তাজআল মুসিবাতানা ফি দীনানা ওয়া লা তাজআলিদ দুনিয়া আকবারা হাম্মিনা ওয়া লা মাবলাগ্বা ইলমিনা ওয়া লা তুসাল্লিত আলাইনা মান লা ইয়ারহামুনা বি রাহমাতিকা ইয়া আর হামার রাহিমিন।
৭. শাবান মাসে প্রত্যেকদিন যাওয়ালের সময় এবং বিশেষত ১৫ই শাবানের রাতে (১৪ই শাবান দিবাগত রাতে) এই সালাওয়াতটি পাঠ করার বিশেষ ফযিলত বর্ণিত হয়েছে।
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَ مَوْضِعَ الرِّسَالَةِ وَ مُخْتَلَفِ الْمَلَائِكَةِ وَ مَعْدِنِ الْعِلْمِ وَ أَهْلِ بَيْتِ الْوَحْيِ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدِ الْفُلْكِ الْجَارِيَةِ فِي اللُّجَجِ الْغَامِرَةِ يَأْمَنُ مَنْ رَكِبَهَا وَ يَغْرَقُ مَنْ تَرَكَهَا الْمُتَقَدِّمُ لَهُمْ مَارِقٌ وَ الْمُتَأَخِّرُ عَنْهُمْ زَاهِقٌ وَ اللَّازِمُ لَهُمْ لَاحِقٌ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدِ- الْكَهْفِ الْحَصِينِ وَ غِيَاثِ الْمُضْطَرِّ الْمُسْتَكِينِ وَ مَلْجَإِ الْهَارِبِينَ وَ عِصْمَةِ الْمُعْتَصِمِينَ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَاةً كَثِيرَةً تَكُونُ لَهُمْ رِضًا وَ لِحَقِّ مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ أَدَاءً وَ قَضَاءً بِحَوْلٍ مِنْكَ وَ قُوَّةٍ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ الطَّيِّبِينَ الْأَبْرَارِ الْأَخْيَارِ الَّذِينَ أَوْجَبْتَ حُقُوقَهُمْ وَ فَرَضْتَ طَاعَتَهُمْ وَ وَلَايَتَهُمْ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَ اعْمُرْ قَلْبِي بِطَاعَتِكَ وَ لَا تُخْزِنِي بِمَعْصِيَتِكَ وَ ارْزُقْنِي مُوَاسَاةَ مَنْ قَتَّرْتَ عَلَيْهِ مِنْ رِزْقِكَ بِمَا وَسَّعْتَ عَلَيَّ مِنْ فَضْلِكَ وَ نَشَرْتَ عَلَيَّ مِنْ عَدْلِكَ وَ أَحْيِنِي تَحْتَ ظِلِّكَ وَ هَذَا شَهْرُ نَبِيِّكَ سَيِّدِ رُسُلِكَ شَعْبَانُ الَّذِي حَفَفْتَهُ مِنْكَ بِالرَّحْمَةِ وَ الرِّضْوَانِ الَّذِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ آلِهِ يَدْأَبُ فِي صِيَامِهِ وَ قِيَامِهِ فِي لَيَالِيهِ وَ أَيَّامِهِ بُخُوعاً لَكَ فِي إِكْرَامِهِ وَ إِعْظَامِهِ إِلَى مَحَلِّ حِمَامِهِ اللَّهُمَّ فَأَعِنَّا عَلَى الِاسْتِنَانِ بِسُنَّتِهِ فِيهِ وَ نَيْلِ الشَّفَاعَةِ لَدَيْهِ اللَّهُمَّ وَ اجْعَلْهُ لِي شَفِيعاً مُشَفَّعاً وَ طَرِيقاً إِلَيْكَ مَهْيَعاً وَ اجْعَلْنِي لَهُ مُتَّبِعاً حَتَّى أَلْقَاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَنِّي رَاضِياً وَ عَنْ ذُنُوبِي غَاضِياً قَدْ أَوْجَبْتَ لِي مِنْكَ الرَّحْمَةَ وَ الرِّضْوَانَ وَ أَنْزَلْتَنِي دَارَ الْقَرَارِ وَ مَحَلَّ الْأَخْيَارِ.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলি মুহাম্মাদ শাজারাতিন নাবুওয়াতি ওয়া মাউযিয়ীর রিসালাতী ওয়া মুখতালাফিল মালায়িকাতি ওয়া মাঅদিনিল ইলমী ওয়া আহলী বাইতিল ওয়াহী। আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলি মুহাম্মাদিল ফুলকিল জারিয়াতি ফিল লুজাজিল গামিরাতি ইয়ামানু মান রাকিবাহা ওয়া ইয়াগরাকু মান তারাকাহাল মুতাকাদ্দিমু লাহুম মারিকুঁ ওয়াল মুতাআখখিরু আনহুম যাহিকুঁ ওয়াল আযিমু লাহুম আহিক্বু আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলি মুহাম্মাদিল কাহফিল হাসীন ওয়া গ্বিয়াসীল মুযতাররিল মুসতাকিনি ওয়া মালজায়ীল হারিবিনা ওয়া ইসমাতীল মুতাসিমিন। আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলি মুহাম্মাদ সালাতান কাসীরাতান তাকুনু লাহুম রিদাও ওয়ালি হাক্কি মুহাম্মাদ ওয়া আলি মুহাম্মাদ আদাআও ওয়া কাযাআ বিহাওলিম মিনকা ওয়া কুওয়্যাতিন ইয়া রাব্বাল আলামীন। আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলি মুহাম্মাদিত তাইয়্যিবিনাল আবরারিল আখইয়ারীলল্লাযিনা আউজাবতা হুক্বুক্বাহুম ওয়া ফারাযতা ত্বআতাহুম ওয়া ওয়েলায়াতাহুম। আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলি মুহাম্মাদ ওয়া মুর ক্বালবী বিত্বআতিকা ওয়া লা তুখযিনী বিমাঅসীয়াতিকা ওয়ার যুরক্বনী মুওয়াসাতা মান ক্বাত্তারতা আলাইহী মিন রিযক্বিকা বিমা ওয়াসসাঅতা আলা মিন ফাযলিকা ওয়া নাশারতা আলা মিন আদলিকা ওয়া আহইয়াইতানী তাহতায যিল্লিকা ওয়া হাযা শাহরু নাবিয়্যিকা সাইয়্যিদি রুসুলিকা শাবানুল্লাযি হাফাফতাহু মিনকা বিররামাতি ওয়ার রিযওয়ানীলল্লাযি কানা রাসুলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ইয়াদআবু ফি সীয়ামিহি ওয়া ক্বিয়ামিহি ফি লায়ালিহি ওয়া আয়ামিহি বুখুআ লাকা ফি ইকরামিহি ওয়া এঅযামিহি ইলা মাহাল্লি হিমামিহি আল্লাহুম্মা ফাআইন্না আলা ইসতিনানী বি সুন্নাতিহি ফিহি ওয়া নাইলীশ শাফাআতি লাদাইহী। আল্লাহুম্মা ওয়াজআলহু লি শাফিয়ান মুশাফফাআও ওয়া তারিক্বা ইলাইকা মাহইয়াআও ওয়াজ আলনী লাহু মুত্তাবিআন হাত্তা আলকাহু ইয়াওমাল কিয়ামাতি আন্নি রাযিয়ান ওয়া আন যুনুবি গ্বাযিয়ান ক্বাদ আউজাবতা লি মিনকার রাহমাতা ওয়ার রিযওয়ানা ওয়া আনযালতানী দারাল ক্বারারী ওয়া মাহাল্লাল আখইয়ার।
৮. দোয়া-এ কুমাইল পাঠ করা।
৯. নিন্মোক্ত তসবিহসমূহ পাঠ করা
(سُبْحَانَ اللَّهِ) সুবহান আল্লাহ – ১০০ বার।
(الْحَمْدُ لِلَّهِ) আলহামদু লিল্লাহ- ১০০ বার।
(اللَّهُ أَكْبَر) আল্লাহু আকবার – ১০০ বার।
(لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ – ১০০ বার।
এই পদ্ধতিতে তসবিহসমূহ পাঠ করলে আল্লাহ তার পূর্বে কৃত গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দিবেন এবং তার দোয়াকে কবুল করবেন।
Viewed 50 times