বগুড়ায় প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণ মামলায় মাদ্রাসার সুপার গ্রেফতার
রুহুল আমিন শাহিন, জেলা প্রতিনিধি বগুড়া: বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গছাইল হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্টকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর চাচাতো দুলাভাই হওয়ায় ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের গছাইল গ্রামের বাসিন্দা মো. বাকী বিল্লাহ (৫১) উপজেলার বিজরুল পূর্বপাড়ায় অবস্থিত গছাইল হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত। কর্মস্থল ভুক্তভোগীর বাড়ির পাশেই হওয়ায় তিনি নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২১ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়িতে একা থাকা ২৬ বছর বয়সী শারীরিক প্রতিবন্ধী ওই তরুণীকে তার শয়নকক্ষে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত। ঘটনার পর ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
পরিবারের সদস্যরা তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে গত ৬ জুন তাকে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে পরীক্ষা করান। চিকিৎসক জানান, তিনি প্রায় ১৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা মো. তোজাম্মেল হোসেন আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে মামলাটি নন্দীগ্রাম থানায় প্রেরণ করা হয়। পরে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মামলা রুজু করে।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মো. বাকী বিল্লাহকে গ্রেফতার করে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বগুড়া আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Viewed 1050 times