বাড়ছে মশার উপদ্রব

সম্পাদকীয়ঃ-
চলতি মার্চ মাসে হঠাৎ করেই মশার উপদ্রব জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলছে। মশার উপদ্রবে ডেঙ্গু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ২০১৯ সালে দেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। এছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় লক্ষাধিক মানুষ। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল। সাতক্ষীরাসহ আশেপাশের এলাকায় বাড়ছে মশার ঘনত্ব।এসংক্রান্ত একটি খবর দৈনিক পত্রদূতের গত বৃহস্পতিবারের সংখ্যায় প্রকাশ হয়েছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে,মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন মানুষ, মশার হাত থেকে রক্ষা পেতে বাধ্য হয়ে দিনের বেলাতেও মশারি টানাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। মশার কামড়ে ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। মশা নিতান্তই ছোট একটি পতঙ্গ, অথচ এর মতো জ্বালাতনকারী কীট বিশ্বে আর নেই। প্রগৈতিহাসিক যুগ থেকে পুথিবীতে মশার অস্তিত্ব আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার প্রজাতির মশা রয়েছে।
এর মধ্যে এনোফিলিস, এডিস, কিউলেক্স প্রজাতির মশা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। মশার কামড়ে বিষাক্ত কয়েল ও ইলেকট্রনিকস গুডনাইট ও ব্যাট ব্যবহার অপরিহার্য্য হয়ে পড়েছে। গ্রাম এলাকায় সরকারিভাবে মশা নিধনের কোন কার্যক্রম না থাকায় ক্রমাগতভাবে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ছে। মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে আগে রাতে মশারি টানাতো এখন দিনের বেলাতেও মশারি টানাচ্ছেন। মশার উপদ্রব ভয়াবহ হওয়ায় ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়াসিস বা গোদ রোগ, চিকুন গুনিয়া, জিকা ভাইরাস জ্বর, ইয়োলো ফিভার বা পীতজ্বর নামক মরণ ছোবলের আশংকায় প্রহর গুনছেন এলাকার মানুষ।এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফাঁদে যত মশা ধরা পড়ছে তার ৯৯ শতাংশ কিউলেক্স মশা। বাকি এক শতাংশ এডিস, এনোফিলিস, আর্মিজেরিস, ম্যানসোনিয়া। গত চার মাসে কিউলেক্স মশার ঘনত্ব বেড়েছে। জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে তিনশর বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মশা ফাঁদে ধরা পড়ছে যা গত অক্টোবরে ও নভেম্বরে ছিল দুইশর কম। গত জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে তিনশ মশা ফাঁদে ধরা পড়ছে। রাজধানীর চার এলাকার পাঁচ স্থানের মধ্যে উত্তরায় মশা সবচেয়ে বেশি। জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৪০০ মশা ফাঁদে ধরা পড়েছে। গত মাসে একই ফাঁদে মশার সংখ্যা ছিল তিনশ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে গত বছর এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা ২২বছরের রেকর্ড ভেঙে দেয়। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে তাপমাত্রা বাড়লে মশা জন্মানোর হারও বাড়বে। কারণ এটি হচ্ছে মশা জন্মানোর জন্য উপযুক্ত সময়। তাই অতি জরুরি ভিত্তিতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়ে মশা জন্মানোর স্থানে লার্ভিসাইড ছিটানো না হলে মার্চ মাসে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। সাধারণত অক্টোবর মাসে শুরুতে সপ্তাহে গড়ে কমবেশি ২০০টি করে মশা ধরা পড়ত সব ফাঁদে। নভেম্বর মাসেও গড় সংখ্যা মোটামুটি একই থাকে। তবে ডিসেম্বর থেকে এ সংখ্যা ২৫০ হয়ে যায়। আর জানুয়ারি মাসে এ সংখ্যা ঠেকে ৩০০টিতে।
কীটতত্ত্ববিদদের ভাষ্যমতে,ফেব্রুয়ারি ও মার্চে কিউলেক্স মশার ঘনত্ব অনেক বেশি। এ ছাড়া তাপমাত্রা বাড়লে মশা জন্মানোর হারও বাড়ছে। আবার অনেক দিন ধরে বৃষ্টিপাত না থাকায় মশা জন্মানোর স্থানগুলো যেমন ড্রেন, ডোবা, নর্দমা-নালায় পানির অর্গানিক ম্যাটারিয়াল বেড়ে যায়। এই অর্গানিক ম্যাটারিয়ালগুলো কিউলেক্স মশার লার্ভার খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে বংশ বিস্তার বেড়ে যায়।
তাই অতি জরুরি ভিত্তিতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়ে মশা জন্মানোর স্থানগুলো যেমন-নর্দমা, ডোবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সেখানে লার্ভা মারার জন্য কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। তা না হলে মার্চ মাসে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে মশার উৎপাত। আমরা আশা করছি, শীঘ্রই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’
Viewed 1630 times