ভিপি নূর ও গনঅধিকার পরিষদের উত্থান
সম্পাদকীয়ঃ নুরুল হক নূর তিনি বাংলাদেশের একজন পরিচিত ছাত্রনেতা এবং রাজনীতিবিদ।তিনি ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হওয়ার পর ‘ভিপি নূর’ হিসেবে পরিচিতি পান।তিনি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
বিজ্ঞাপন

অতঃপর ২০১৮ সালের সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্যতম যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন।তিনি বর্তমানে ‘গণ অধিকার পরিষদ’ নামক রাজনৈতিক দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তিনি ছাত্র, যুব ও প্রবাসী অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক হিসেবেও কাজ করেন।
বিজ্ঞাপন
গণ অধিকার পরিষদ (জিওপি) মূলত ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উদ্ভূত ছাত্র সংগঠন “বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ”-এর রাজনৈতিক রূপ।এটি ২৬ অক্টোবর ২০২১ তারিখে অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া এবং সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
বিজ্ঞাপন

গণ অধিকার পরিষদ প্রতিষ্ঠার মূল অনুপ্রেরণা ছিল ২০১৮ সালের সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সফল আন্দোলন। এই আন্দোলনের নেতারা, বিশেষ করে নুরুল হক নুর এবং মুহাম্মদ রাশেদ খান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী হন।এই ছাত্র আন্দোলন পরবর্তীতে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এবং “গণ অধিকার পরিষদ” নামে রাজনৈতিক দল গঠন করে। দলটির মূলনীতি ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা।তবে, পরবর্তীতে নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে দলটি বিভক্ত হয়ে যায় এবং রেজা কিবরিয়া দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন। বর্তমানে নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন অংশটি সক্রিয় রয়েছে এবং ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ করেছে,তাদের নির্বাচনী প্রতীক হলো ট্রাক।
বিজ্ঞাপন

গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকাঃ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণ অধিকার পরিষদ এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
বিজ্ঞাপন

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট রচনাঃ
নুরুল হক নুর দাবি করেন যে, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরাই এই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট রচনা করেছেন এবং আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
গণ অধিকার পরিষদ ছাত্র ও সাধারণ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করেছে। তারা আন্দোলনকে সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রাখে এবং রাজপথে সক্রিয় ছিল।শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর, গণ অধিকার পরিষদ তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ১২ দফা দাবি পেশ করে।তারা মনে করে, গণঅভ্যুত্থানের সকল অংশীজনদের প্রতিনিধি নিয়ে জাতীয় সরকারের আদলে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করা দরকার ছিল।
গনঅধিকার পরিষদ তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি দল, যা ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন থেকে শক্তি সঞ্চয় করে এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব প্রদানকারী দলগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল।
Viewed 6900 times