বগুড়ায় বেড়েছে মশার উপদ্রব
সম্পাদকীয়ঃ বগুড়া পৌর এলাকায় মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জনজীবনকে চরমভাবে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।নিচে বগুড়ার বর্তমান মশা পরিস্থিতি ও তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে একটি বিস্তারিত সম্পাদকীয় তুলে ধরা হলো।
বগুড়া শহরের ২১টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দিন-রাত মশার কামড়ে অতিষ্ঠ। দরজা-জানালা বন্ধ রেখে কিংবা কয়েল ও মশারি ব্যবহার করেও নাগরিকেরা কোনো নিস্তার পাচ্ছেন না। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা এই পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মশার কামড়ের পাশাপাশি জেলাজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, যা স্থানীয় হাসপাতালগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
শহরের মশা বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ কাজ করছে।শহরের অধিকাংশ ড্রেন ও নালা ময়লা-আবর্জনায় জট পাকিয়ে আছে।বদ্ধ ও নোংরা পানি কিউলেক্স মশার প্রধান প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।বগুড়া পৌরসভার নতুন ও বর্ধিত এলাকাগুলোতে মশক নিধনের কোনো কার্যকর ছোঁয়া পৌঁছাচ্ছে না।ওষুধের অকার্যকারিতা: পৌরসভা যে ওষুধ ছিটায়, তা মশা তাড়াতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। দীর্ঘদিন একই কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মশার প্রতিরোধ ক্ষমতা (Resistance) তৈরি হওয়া এর অন্যতম কারণ হতে পারে।বাজেট ও কার্যকারিতার অমিলবগুড়া পৌরসভা চলতি অর্থবছরের বাজেটে মশক নিধন খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। পৌরসভায় মোট ২৪টি ফগার মেশিনও সচল রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে এই বরাদ্দের সুফল দৃশ্যমান নয়। লোকদেখানো মশক নিধন কার্যক্রম বাদ দিয়ে পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
শহরের প্রতিটি নালা ও জলাশয় থেকে ময়লা অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।বর্তমান ওষুধের গুণগত মান পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে দ্রুত নতুন ও কার্যকর লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড প্রয়োগ করতে হবে। ফগার মেশিন ও জনবল বাড়িয়ে পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডেই রোটেশন প্রথার বদলে একযোগে মশক নিধন অভিযান চালাতে হবে।
নাগরিকদের নিজেদের আঙিনা ও ছাদ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিন ‘ড্রাই ডে’ বা শুষ্ক দিন হিসেবে পালন করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে।পৌরবাসীর ট্যাক্সের টাকায় মশক নিধনের বাজেট হলেও তার সুফল তারা পাবেন না—তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারি আকার ধারণ করার আগেই বগুড়া পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
Viewed 200 times