অভূতপূর্ব রেকর্ড ভাঙ্গা বৃষ্টিতে বগুড়া মহানগর প্লাবিত
সম্পাদকীয়ঃ-
আজকের অভূতপূর্ব রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিতে সমগ্র বগুড়া মহানগরী পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।টানা কয়েক ঘণ্টার মুষলধারে বর্ষণে শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়ি এখন হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে নিমজ্জিত।এই বিপর্যয় কেবল প্রকৃতির তাণ্ডব নয়, বরং শহরের দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার এক জীবন্ত দলিল।জলজটের মূল কারণ পরিকল্পনাহীন ড্রেনেজ ব্যবস্থা।
শহরের ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়েছে।অতীতে পানি ধরে রাখার প্রাকৃতিক দীঘি, পুকুর ও খালগুলো অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করা হয়েছে। পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেনের প্রবেশমুখগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।পৌরসভা ও অন্যান্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার স্পষ্ট ঘাটতি রয়েছে।বর্তমান মানবিক শহরের চেলোপাড়া, সান্তাহার রোড, জলেশ্বরীতলাসহ প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির।
নিচু এলাকার হাজার হাজার মানুষের ঘরের ভেতর পানি ঢুকে রান্নাবান্না ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।চকযাদু রোড এবং নিউ মার্কেটের শত শত দোকান ও গুদামে পানি ঢুকে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের বিশাল অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবন চরম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য বগুড়াকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হলে তড়িৎ এবং স্থায়ী কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।
জুলাই’২৪ইং এ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শহরের সব ড্রেন ও নালা থেকে পলিথিন ও পলিমাটি অপসারণ করে পানি চলাচলের পথ সচল করতে হবে।শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদী এবং সংযোগ খালগুলোর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খনন করতে হবে।আবহাওয়ার পরিবর্তনকে মাথায় রেখে আগামী ৫০ বছরের উপযোগী একটি আধুনিক ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান তৈরি ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।যত্রতত্র প্লাস্টিক ও বর্জ্য ফেলা বন্ধে নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।আজকের এই দুর্যোগ বগুড়া মহানগর কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। ঠুনকো অজুহাত কিংবা দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে সামান্য বৃষ্টিতেই উত্তরবঙ্গের এই ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক রাজধানী অচল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।
এই জলজট সংকট কাটাতে এবং দুর্গত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পাশাপাশি আপনার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন বা জরুরি ত্রাণ তৎপরতার কোনো পরিকল্পনা আছে কি? আমাকে জানালে আমি সে বিষয়ে একটি কার্যকর রূপরেখা বা আবেদনপত্র তৈরি করে দিতে পারি।
Viewed 3750 times




