বেড়েছে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্মঃনিরাপত্তাহীনতায় জনগণ
সম্পাদকীয়ঃ
প্রতিদিনই বগুড়া শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা,বেড়েছে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম আর নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন জনগণ।গভীর রাতে একা চলাচলকারী পথচারী এবং যাত্রীরা প্রায়শই ছিনতাইকারীর কবলে পড়ছেন।ছিনতাইকারীরা প্রায়শই পথচারীদের জিম্মি করে, অস্ত্র ঠেকিয়ে বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে।কখনো কখনো তারা অটোরিকশা বা ইজিবাইক ছিনতাইয়েরও চেষ্টা করছে।আগে মূলত গভীর রাতে ছিনতাই হলেও,প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।শহরের স্টেশন রোড,কারমাইকেল রোড, রেলওয়ে ফুট ওভারব্রিজ উপরে-নিচে,রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব দিকের রেললাইনের উপরে,বাদুড়তলার শাখা সড়ক,পুরান বগুড়া বটতলা,সিলিমপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে।
বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না এবং অভিযোগ করেও অনেক সময় প্রতিকার মিলছে না।আগে এই ধরনের ঘটনা গভীর রাতে ঘটলেও বর্তমান সময়ে কিছু কিছু এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকেও এই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে।বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারীদের সঙ্গবদ্ধ চক্র!ছিনতাইকারীরা প্রায়শই ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ভীতি সৃষ্টি করে এবং টাকা, মোবাইল ফোন ও গহনা ছিনিয়ে নেয়।এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতি তৈরি হয়েছে,যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নির্দেশ করে।
বিজ্ঞাপন
প্রশাসন এই সমস্যাটি সম্পর্কে অবগত আছে এবং মার্চ ২০২৫-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী,জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতে টহল বাড়ানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।মলোম পার্টি বা অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের শনাক্ত করতেও পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।কিছু ঘটনায় পুলিশ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের আটকও করলেও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
বিজ্ঞাপন
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিশেষ অভিযান শুরু করলেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। অনেক ভুক্তভোগী আইনি ঝামেলা এড়াতে বা পুলিশের হয়রানির ভয়ে অভিযোগ দায়ের করেন না,ফলে প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।এই পরিস্থিতিতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে,নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
বিজ্ঞাপন
প্রশাসন ও অন্যান্য প্রশাসনিক সংস্থার রাতের টহল জোরদার করতে হবে।বিশেষ করে চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে।যেসব এলাকায় ছিনতাই বেশি হয়,সেখানে পর্যাপ্ত সড়কবাতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।অনেক সময় লোডশেডিং বা কম আলোর সুযোগ নেয় অপরাধীরা।অপরাধী শনাক্ত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি বাড়াতে হবে এবং ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভুক্তভোগীরা যেন হয়রানি ছাড়াই সহজে মামলা বা অভিযোগ দায়ের করতে পারে,তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া সহজ করলে প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা জানা যাবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে।
বিজ্ঞাপন
অপরাধের মূল কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক বিষয়,যেমন বেকারত্ব ও দারিদ্র্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।এর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে, যাতে নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তায় জনগণও অংশ নিতে পারে।
বগুড়ার জনগণ এই মুহূর্তে রাতের বেলায় চলাচল করতে গিয়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।স্থানীয় প্রশাসনকে এই বিষয়ে আরও কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শহরের সচেতন মহল।
বিজ্ঞাপন
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অবশ্যই জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে,দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও বিনিয়োগের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।আমরা আশা করি,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই বিষয়ে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনবে।
_মোঃআশিকুর রহমান সুজন।
Viewed 9350 times