May 12, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

সাংবাদিক হব, সাংঘাতিক নয়!!

সম্পাদকীয়ঃ  সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা, একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের সামনে সত্যকে তুলে ধরা, অসঙ্গতি উন্মোচন করা, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম চালানো—এসবই একজন সাংবাদিকের কাজ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজকের দিনে অনেকেই সাংবাদিকতার মহৎ পেশাকে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও প্রভাব খাটানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। সাংবাদিক না হয়ে তারা হয়ে উঠছেন “সাংঘাতিক”—অর্থাৎ ভয়ংকর, সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এ অবস্থার পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

 

সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য ও মহত্ত্বঃ সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হলো মানুষের জানার অধিকারকে পূরণ করা। জনগণের সামনে তথ্য তুলে ধরা, ন্যায়-অন্যায়কে পৃথক করা, সরকারের কর্মকাণ্ড ও সমাজের সমস্যাগুলোকে আলোচনায় নিয়ে আসা। একজন প্রকৃত সাংবাদিক সমাজের বিবেক। তার কলম বা ক্যামেরা জনগণের চোখ-কান। তাই সাংবাদিকতায় সততা, নিরপেক্ষতা, সাহস এবং মানবিকতা অপরিহার্য গুণ।

বাস্তবতার চিত্রঃ বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, সাংবাদিক নামধারী অনেকেই প্রকৃত সাংবাদিকতার ধারক-বাহক নন। তারা সংবাদ পরিবেশনের নামে অপপ্রচার, মিথ্যাচার, ব্ল্যাকমেইলিং, চাঁদাবাজি এমনকি রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করছেন। কারও কারও কাছে সাংবাদিকতা এখন পেশা নয়, বরং দ্রুত অর্থ উপার্জন ও ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ সাংবাদিকদের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে, যা পেশাটির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হচ্ছে।

 

সাংঘাতিক সাংবাদিকতার ভয়াবহ প্রভাবঃ সত্য বিকৃত হওয়া: পক্ষপাতমূলক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সত্য গোপন হয়, জনগণ বিভ্রান্ত হয়।

অবিশ্বাসের জন্ম: সমাজে সাংবাদিকদের প্রতি আস্থা নষ্ট হয়, গণমাধ্যমের গুরুত্ব কমে যায়।

সামাজিক অস্থিরতা: মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত সংবাদ অনেক সময় জনমনে আতঙ্ক ছড়ায়, সংঘর্ষ ও অশান্তির জন্ম দেয়।

পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়া: সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করলে প্রকৃত সাংবাদিকরা অবমূল্যায়িত হন।

 

 

 

করণীয়ঃ

এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চা: সাংবাদিকদের পেশাগত নীতি মেনে চলতে হবে। কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই-বাছাই করা জরুরি।

প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি: সাংবাদিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত, যাতে তারা আধুনিক সাংবাদিকতার কৌশল ও নৈতিকতা সম্পর্কে আপডেট থাকেন।

গণমাধ্যমের দায়িত্ব: গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, তবে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

সংগঠনের ভূমিকা: সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সংগঠনগুলোকে কেবল সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়, বরং পেশার মান উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে।

সচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে—কোনটি সত্যিকারের সংবাদ, আর কোনটি ভুয়া বা উদ্দেশ্যমূলক তা বোঝার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।

 

“সাংবাদিক হব, সাংঘাতিক নয়” — এই স্লোগান শুধু কথার কথা নয়; এটি সাংবাদিকতার নৈতিকতার শপথ হওয়া উচিত। সাংবাদিকতা কোনো চাকরি বা লাভজনক ব্যবসা নয়, বরং একটি মহান দায়িত্ব। জনগণের আস্থা, সমাজের শান্তি এবং রাষ্ট্রের অগ্রগতি সাংবাদিকদের কলম ও ক্যামেরার উপর নির্ভর করে। তাই সাংবাদিকদের উচিত হবে সততার সঙ্গে কাজ করা, সত্যের সন্ধান করা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের নিয়োজিত রাখা।

 

যদি সাংবাদিকরা প্রকৃত অর্থে সমাজের বিবেক হিসেবে কাজ করেন, তবে তারা কখনোই সাংঘাতিক হতে পারবেন না। বরং তারা হবেন সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত।

Viewed 5450 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!