ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আমি খুব সৌভাগ্যবান: প্রান্তর দস্তিদার
ডেস্ক রিপোর্ট : প্রান্তর দস্তিদার। অভিনেতা ও মডেল সম্প্রতি এনটিভির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হয়েছে তাঁর অভিনীত নাটক ‘কেউ না জানুক’। এরই মধ্যে দুটি সিনেমার কাজ শেষ করেছেন তিনি। হাতে রয়েছে আরও একটি সিনেমা। নতুন নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে
‘কেউ না জানুক’ কাজটি নিয়ে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
সেতু আরিফের পরিচালনায় ‘কেউ না জানুক’ কাজটি যারা দেখেছেন, তারা খুব পছন্দ করেছেন। এতে আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন তানিয়া বৃষ্টি। এটি বন্ধুত্বে রোমান্টিক গল্প। বন্ধু থেকে কীভাবে দায়িত্বশীল হওয়া যায়, তা নাটকটিতে সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। পারিবারিক গল্পের এই নাটক দিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি।
‘জীবন আমার বোন’ সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
বেশ ভালো। এখানে আমি অভিনয় করেছি ‘মুরাদ’ নামে একজন মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে। সিনেমা প্রেক্ষাপট ১৯৭১। এখানে ২৫ মার্চের আগে ও পরের কিছু বিষয় রয়েছে। ৩০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে অভিনয়ের স্বপ্ন ছিল আমার। স্বপ্নটা সত্যি হয়েছে। জানি না কতটুকু ভালো করতে পেরেছি। আমার যেহেতু এটি স্বপ্ন পূরণের ছবি, তাই সর্বোচ্চ দিয়ে অভিনয় করেছি। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে আরও এই ধরনের চরিত্রে কাজের ইচ্ছা রয়েছে। মাহমুদুল হকের উপন্যাস ‘জীবন আমার বোন’ অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করছেন নির্মাতা এনায়েত করিম। উপন্যাসটি পড়ে বারবার মনে হচ্ছিল, এই চরিত্র অন্য চরিত্রগুলোর চেয়ে বেশ আলাদা। চরিত্রটির জন্য রিহার্সেল করেছি। পরিকল্পনামাফিক কাজটি হয়েছে।
‘সখী রঙ্গমালা’ নিয়ে কিছু বলুন?
বর্তমানে ‘সখী রঙ্গমালা’ সিনেমার কাজ করছি। আজ থেকে তিনশ বছর আগের গল্প নিয়ে এটি নির্মিত হচ্ছে। উপন্যাসটির নামও সখী রঙ্গমালা। এতে নোয়াখালীর এক জমিদারপুত্রের চরিত্রে অভিনয় করেছি আমি। চরিত্রটি একদম আলাদা।সেখানের রাজচন্দ্রের চরিত্রটা করছি। সিনেমার বাকি কাজ আগামী মাসে শুরুর ইচ্ছা রয়েছে। এ সিনেমার জন্য নোয়াখালীর ভাষা আমাদের রপ্ত করতে হয়েছে। ঔপন্যাসিক শাহীন আখতারের উপন্যাস ‘সখী রঙ্গমালা’ অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করেছেন নির্মাতা এন রাশেদ চৌধুরী।
‘মস্ত বড় লোক’ সিনেমাটি নিয়ে আপনি কেমন আশাবাদী?
সিনেমার গল্পটি অসাধারণ। আমার চরিত্রে অনেক উত্থান-পতন আছে। অনেক বৈচিত্র্যময় চরিত্র। নির্মাণও ভালো ছিল। সব মিলিয়ে কাজটি দর্শকদের ভালো লাগবে– এ আশা করাই যায়। কথাসাহিত্যিক মঞ্জু সরকারের কিশোর উপন্যাস ‘মস্ত বড় লোক’ অবলম্বনে সিনেমাটির নির্মাতা আঁকা রেজা গালিব। গত ফেব্রুয়ারিতে এর কাজ শেষ করেছি। সিনেমাটি শিগগির মুক্তির কথা রয়েছে।
সম্প্রতি যে তিনটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তা সাহিত্যনির্ভর। এ ধরনের কাজের প্রতি কি দুর্বলতা আছে?
অবশ্যই সাহিত্যনির্ভর কাজের প্রতি আমার অন্যরকম আগ্রহ আছে। তবে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে যখন এ ধরনের চরিত্র আসে, তখন আমি চরিত্রটি নিয়েই চিন্তা করি। এ কাজ তিনটি যদি সাহিত্য থেকে নাও আসত, তাহলেও অভিনয় করতাম। প্রতিটি চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনয় ক্যারিয়ার অভিনয় নিয়ে উপলব্দি কী?
ক্যারিয়ারের শুরু থেকে যাদের সঙ্গে কাজ করেছি তারা সবাই গুণী নির্মাতা। সেদিক থেকে আমি খুব সৌভাগ্যবান। ক্যারিয়ার সবে তো শুরু। আমি এমন চরিত্রে কাজ করতে চাই, যা চ্যালেঞ্জ দেয়, দর্শককে কিছু ভাবতে বাধ্য করে। চেষ্টা করছি, ধাপে ধাপে নিজেকে আরও উন্নত করতে। এখনও শিখছি। আরও অনেকদূর যেতে চাই।
আপনার শুরুটা ক্যামেরার পেছনে। নির্মাণ নিয়ে কি কিছু ভাবছেন?
এটি সত্যি যে, আমি বেশ কয়েক বছর ক্যামেরার পেছনে কাজ করেছি। গৌতম কৌরী যখন আমাকে ‘আন্তঃনগর’ ওয়েব সিরিজে কাজের সুযোগ দিলেন, তখন ক্যামেরার সামনে চলে আসি। এখন পর্যন্ত অভিনয় করে যাচ্ছি। আপাতত নির্মাণ নিয়ে কিছু ভাবছি না। আরও একটু অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মাণে ফিরতে চাই।
Viewed 4900 times