টানা তিন মাস কমার পর বাড়ল মূল্যস্ফীতি
ডেস্ক রিপোর্ট : টানা তিন মাস কমার পর ফের বাড়ল মূল্যস্ফীতি। গত জুলাই মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর আগে এপ্রিল, মে ও জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কমেছিল। জুলাই মাসে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত দুই খাতেই মূল্যস্ফীতি খানিকটা বেড়েছে। সামান্য বেড়েছে গ্রাম ও শহর দুই জায়গাতেই। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি এক অঙ্কের ঘরে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ প্রতিবেদনটি গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে বিবিএস। প্রতি মাসে মাঠ পর্যায় থেকে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে থাকে সংস্থাটি। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রস্তুত করা হয়। জুলাই মাসে ৬৪টি জেলার ১৫৪টি হাটবাজার থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিপিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কতটা বাড়ল তার শতকরা হারই পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি। এটির ১২ মাসের চলন্ত গড় হিসাব হচ্ছে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি।
উল্লেখ্য, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (জুন থেকে জুলাই) বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। সর্বশেষ ১৪ বছর আগে দুই অঙ্কের ঘরে ছিল বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি। ২০১০-১১ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি হয় ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ।
গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি নেমে আসে কিছুটা স্বস্তির জায়গায়। জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি হয় ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এটি ছিল ৩৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২২ সালের জুলাইয়ে এর চেয়ে কম মূল্যস্ফীতি হয়েছিল।
বিবিএসের সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত অনুসারে, পয়েন্টু টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গত জুলাই মাসে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি খানিকটা বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আগের মাস জুনে এটি ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জুনে ছিল ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
জুলাই মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গ্রামে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। জুনে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। জুলাই মাসে শহর এলাকাতেও মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যা জুনে ছিল ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। জুলাইয়ে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর আগে টানা ৯ মাস এ হার দুই অঙ্কের ঘরে ছিল।
বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের শুরু থেকে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার বাড়তে দেখা যায়। গত অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এটি বেড়ে হয় ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ধারাবাহিকভাবে কমে আসে। টানা তিন মাস কমার পর চলতি বছরের মার্চ মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে ফের বাড়ে মূল্যস্ফীতি। এপ্রিল থেকে আবারও কমার ধারার ফিরে মূল্যস্ফীতি। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একটি বড় অংশ জুড়েই উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকায় অর্থবছরটিতে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের বেশি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কয়েক অর্থবছর ধরেই দেশে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখা যাচ্ছে না। গত ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়। ওই অর্থবছরে ৯ শতাংশের কিছু বেশি হয় গড় মূল্যস্ফীতি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে হয় ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
Viewed 6650 times