May 10, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

৪৬ কোটি দিতে হবে চিটাগং কিংসকে!

বিসিবি বিপিএলের সাবেক কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে কোর্ট অব আরবিট্রেশন পরিচালনা করছে লম্বা সময় ধরে। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস, বরিশাল বুলস, খুলনা টাইগার্স, চিটাগং কিংসের মালিকানায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো বিসিবির কাছে দেনা রেখে বিদায় নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বকেয়া টাকা আদায় করতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেও লাভ হয়নি বিসিবির।

উল্টো আরবিট্রেশন পরিচালনার জন্য বছরের পর বছর মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ডকে। চিটাগং কিংসের স্বত্বাধিকারী এস.কিউ স্পোর্টস এন্টারপ্রাইজের পেছনে বেশি ব্যয় করতে হয়েছে। কারণ এই প্রতিষ্ঠানের মালিক সামির কাদের চৌধুরীর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা পাবে বিসিবি। ২২ জুলাই এস.কিউ স্পোর্টসকে দেওয়া আইনি নোটিশে সামির কাদেরকে ৩৭ লাখ ৮২ হাজার ১৫৬ ডলার বকেয়া পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। টাকায় প্রায় ৪৬ কোটি ১৪ লাখ (এক ডলার সমান ১২২ টাকা)।

২০১২ ও ২০১৩ সালে সামির কাদেরের মালিকানায় ছিল চিটাগং কিংস। তিনি দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের সম্মানী বকেয়া রাখায়, তা পরিশোধ করতে হয়েছিল বিসিবিকে। বিসিবির হিসাবে ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৬৪ ডলার (১৮ কোটি ৯১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা) পরিশোধ করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে যে টাকা ফেরত চেয়ে সামির কাদেরকে ১০ বার নোটিশ দিলেও মালিকপক্ষের সাড়া ছিল না। ক্রিকেট বোর্ড তখন বাধ্য হয়ে আরবিট্রেশনে যায়।

১০ বছর ধরে আইনি লড়াই হলেও সমঝোতা হচ্ছিল না। শেষে ২০২৪ সালে সামির কাদেরের সঙ্গে সাড়ে তিন কোটি টাকায় সমঝোতা করেন সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ। গত বছরের ২০ নভেম্বরের মধ্যে তিন কিস্তিতে ওই টাকা পরিশোধ করার শর্তে ২০২৫ সালে ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়া হয়। বিসিবিকে সমঝোতার টাকা পরিশোধ না করে এ বছরও দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের সম্মানী বাকি রেখে বিপিএলকে বিতর্কিত করেন সামির। ফলে ক্রিকেট বোর্ডের পট পরিবর্তনের পর সমঝোতা চুক্তি বাতিল করে বকেয়া ও সুদ মিলিয়ে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা দাবি করে ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান বিসিবির পক্ষে বকেয়া পরিশোধ করার জন্য সামির কাদেরকে নোটিশ দেন গত ২২ জুলাই। নোটিশ হাতে পেয়ে গত সপ্তাহে সমঝোতার আহ্বান জানিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় জবাব দেন সামির।

চিটাগং কিংসের মালিক সামির কাদের মনে করেন, বিসিবি অযৌক্তিকভাবে ৪৬ কোটি টাকা দাবি করছে। তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে বিসিবির নোটিশ অনুযায়ী আমার কাছে ৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল। সাবেক সভাপতি ফারুক সাহেব বলেছিলেন, ৫ কোটি টাকায় সমঝোতা করে নিতে। শেষে সাড়ে তিন কোটি টাকায় সমঝোতা হয়। ফারুক সাহেব বলেছিলেন, বিপিএল শেষে টাকা পরিশোধ করতে। এখন তারা অবাস্তব টাকা চেয়েছে। মূল বকেয়া, সুদ, সুদের সুদ– সব কিছু দেখিয়ে টাকা চেয়েছে। এটা তো মগের মুল্লুক না।’

চিটাগং কিংসের মালিকের বিশ্বাস বিসিবির সঙ্গে সমঝোতা করে বকেয়া পরিশোধের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজি ধরে রাখতে পারবেন, ‘আমি তো সমঝোতায় একটা জায়গায় পৌঁছেছি। বাকিরা তো সাড়াই দেয়নি। আমার বিশ্বাস, সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান হবে এবং আমাকে পরবর্তী সময়ে বিপিএল খেলার সুযোগ দেওয়া হবে।’

যদিও বিসিবির একজন পরিচালক বলছেন, ‘এখন আর ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। তিনি বকেয়া দেওয়ার পর গভর্নিং কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি থাকার যোগ্যতা রাখে কিনা।’ কথা হচ্ছে, বিসিবির চাওয়া কি পূরণ হবে।

Viewed 4600 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!