মাদক কারবারিদের দাদা ভাই খ্যাত সাভার থানার ওসি অপারেশন হেলাল ‘ক্লোজ’
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাভার মডেল থানাকে ঘিরে মাদক কারবারিদের সঙ্গে পুলিশের অসাধু যোগাযোগের অভিযোগ থামছেই না।
একের পর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ধারাবাহিকতায় এবার জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে সাভার থানা এলাকার মাদক কারবারিদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিনকে।
তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ইয়াবা উদ্ধার ও তা বিক্রিকে কেন্দ্র করে আলোচিত একটি ঘটনার তথ্য জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে পরিদর্শক হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে আসে। তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসার পর ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত (ক্লোজ) করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সাভার পৌর এলাকার রাজাসনের পালোয়ানপাড়া মহল্লার আলোচিত মাদক কারবারি শামীম, বেদেপল্লির কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং সাভার সদর ইউনিয়নের দেওগা এলাকার মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ছিল। এসব অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে বহুদিন ধরেই আলোচনায় থাকলেও সম্প্রতি তা নতুন করে গুরুত্ব পায়।
এর আগে একই ধরনের অভিযোগে সাভার মডেল থানার তৎকালীন ওসি এবং তিনজন উপপরিদর্শক (এসআই) জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ হন। ফলে সাভার থানার একাংশের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন অভিযান চালাচ্ছে, তখন বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেই যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
এ বিষয়ে জানতে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন শিল্পীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জাহাঙ্গীর আলম পরিদর্শক হেলাল উদ্দিনকে ক্লোজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে কোন সুনির্দিষ্ট কারণে তাকে ক্লোজ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।”
সাভারে মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেই একের পর এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
Viewed 1500 times