May 11, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

তফশিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলো কী অবস্থায় আছে?

ডেস্ক রিপোর্টঃ

তফশিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকাভাবে ত্রয়োদশ নির্বাচনের দিকে যাত্রা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ঠিক দুই মাস পর আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

সাধারণত এই তফশিল ঘোষণা পর রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দেখা গেলেও এবার সেই কাজটি অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে নির্বাচন ঘিরে আলোচিত দল বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি।

তিনটি দলই এরইমধ্যে তাদের বেশিরভাগ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি, জোট ও আসন সমঝোতা নিয়েও দলগুলোর কৌশলের নানা খবর আসছে গণমাধ্যমে।

প্রথমবারের মতো হিন্দু সম্প্রদায়ের একজনকে মনোনয়ন দিয়ে জামায়াতে ইসলামী যেমন আলোচনা তৈরি করেছে, তেমনি বেশ কিছু আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রকাশ্য বিক্ষোভের ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এছাড়াও নির্বাচনে অংশ নিতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা দুইজন ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলম উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তারা এনসিপিতে যোগ দেবেন নাকি অন্য কোথাও যুক্ত হবেন সেটি নিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন।

তফশিল ঘোষণার পর রাজনীতির মাঠে দলগুলো কে কোন অবস্থায় আছে? এক নজরে দেখে আসা যাক-

বিএনপি: দেশের বাইরে নেতা, মাঠে বিদ্রোহী প্রার্থী

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের তাগাদা দিয়ে আসছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি।

অবশেষে ১৬ মাস পর সেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও শারীরিক জটিলতা নিয়ে দলীয় প্রধান হাসপাতালে থাকায় এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বাইরে অবস্থান করায় দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দলটি কতটা গুছিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম করতে পারবে সেটি নিয়ে সংশয় আছে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে।

যদিও এরইমধ্যে দুই দফায় ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশের মতো নানা কর্মসূচি দিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে।

এরই মধ্যে বিক্ষোভ ও নানা সমালোচনার মুখে মনোনয়ন ঘোষণার একদিন পরই ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে মাদারীপুর-১ আসনের প্রার্থী বদল করে দলটি।

এদিকে জুলাই আন্দোলনের পর থেকেই ১৭ বছর ধরে লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার বিষয়ে আলোচনা থাকলেও এখনও দেশে ফেরেননি তিনি, যার কারণ হিসেবে আলোচনায় আছে তার নিরাপত্তা ইস্যুটি।

তারেক রহমান এখন পর্যন্ত দেশে ফিরে না আসায় নেতাকর্মীদের মধ্যেও দলের নেতৃত্ব নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে, যার প্রভাব ভোটের মাঠেও পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন পর্যবেক্ষকরা।

তার ওপর মনোনয়ন নিয়ে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর দ্বন্দ্বের যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে তা জনমনে যেমন বিরূপ প্রভাব ফেলছে, তেমনি প্রচার-প্রচারণার গতিও ধীর করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এছাড়া জোটের বিষয়েও দলটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যে আসনগুলোতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, সেখান থেকে কাউকে সরিয়ে নেয়ার সম্ভাবনাও কম বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ফলে জোট বা আসন সমঝোতার জন্য এখন পর্যন্ত ২৮টি আসন ফাঁকা আছে বিএনপির।

মনোনয়ন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকায় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিব রহমান পার্থের দুটি আসন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বগুড়া ও চট্টগ্রামে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপির সভাপতি অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক এবং পটুয়াখালী ও ঝিনাইদহে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের আসন ফাঁকা রেখেছে বিএনপি।

এছাড়া জোট ও মিত্র দলগুলোর মধ্যে পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার প্রার্থী হতে পারেন। এই আসনও ফাঁকা রেখেছে বিএনপি।

এদিকে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসা বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম দল বিলুপ্ত করে দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাকে মনোনয়ন দেয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি।

তবে মামুনুল হকের ঢাকা – ৭ আসন প্রথমে ফাঁকা রাখলেও দ্বিতীয় দফায় সেই আসনে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি।

আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালেই ঘোষিত ৩১ দফা অনুযায়ী বেশ আগে থেকেই জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলে আসছিল বিএনপি।

সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সেখানে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে বলে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দুই আসনে হিন্দু প্রার্থী জামায়াতের, ধর্মভিত্তিক আট দলের সঙ্গে সমঝোতা

শুরু থেকেই নির্বাচনের আগে সংস্কার, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন বা পিআর পদ্ধতিতে ভোটের দাবি তুলে আসছিলো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী।

অন্যদিকে প্রার্থী ঘোষণার দিক থেকেও সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল দলটি।

এই বছরের শুরু থেকেই বিভিন্ন জেলায় জেলায় সমাবেশ করে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। জুলাই মাস নাগাদ এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২৯৬-এ। যদিও পরবর্তী সময়ে কয়েকটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি।

সবশেষ তফশিল ঘোষণার দিন পর্যন্ত মোট ২৯৮টি আসনে এই দলের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেনি জামায়াতে ইসলামী।

নির্বাচনের জন্য ধর্মভিত্তিক আটটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতার কথা ভাবছে দলটি।

Viewed 2650 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!