May 10, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

বিশাল ঘাটতি দেখিয়ে করের বোঝা চাপিয়ে বিপাকে ব্রিটিশ চ্যান্সেলর

ডেস্ক রিপোর্টঃ

লেবার সরকারের চ্যান্সেলর রেচেল রিভস দেশের আর্থিক অবস্থা নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন—অভিযোগ উঠেছে, ৩০ বিলিয়ন পাউন্ড কর বৃদ্ধির পরিকল্পনার যৌক্তিকতা দেখাতে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরঞ্জিত ঘাটতি দেখিয়েছিলেন। মূলত নিজেকে এবং স্যার কিয়ার স্টারমারকে বাঁচাতেই এমনটা করেন তিনি।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে রিভস সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটি (OBR)-এর সঙ্গে। যখন বাজেট ওয়াচডগটি তার সঙ্গে হওয়া আলোচনার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করে।

এতে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রিভস ও তার কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে আর্থিক ঘাটতি অতিরঞ্জিত করেছেন, যাতে কর বাড়ানোর জন্য ভূমিকা তৈরি হয়।

আর এর ফলে রিভস এবং ওবিআর-এর প্রধান রিচার্ড হিউজ—দুজনের ভবিষ্যতই এখন অনিশ্চিত।

ট্রেজারি অভিযোগ করেছে যে, হিউজ গোপন বৈঠকের অভ্যন্তরীণ বিষয় প্রকাশ করে ‘গোপনীয় নীতিনির্ধারণের পরিবেশ’ ভেঙে দিয়েছেন।

আগামী সপ্তাহে হিউজ ট্রেজারি সিলেক্ট কমিটির সামনে জবাবদিহি করবেন। রিভসকে রোববার সকালে রাজনৈতিক টিভি অনুষ্ঠানগুলোতে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।

এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রেজারির ভেতরের লোকজন গণমাধ্যমে তথাকথিত ২০-৩০ বিলিয়ন পাউন্ড ঘাটতির কথা ফাঁস কর দেয়। যা দিয়ে বিশাল কর বাড়ানোর পরিকল্পনার সাফাই দেওয়া হতো।

কিন্তু ট্রেজারি কমিটিকে পাঠানো চিঠিতে হিউজ জানান—রিভস কখনোই ২.৫ বিলিয়নের পাউন্ডের বেশি ঘাটতির মুখোমুখি হননি।

তিনি আরও জানান, ৩১ অক্টোবর ওবিআর তার পূর্বাভাস উন্নীত করে এবং রিভসকে জানায় যে, উৎপাদনশীলতার বড় ধরনের নিম্নমুখী সংশোধন সত্ত্বেও তার হাতে ৪.২ বিলিয়ন পাউন্ড উদ্বৃত্ত রয়েছে।

কিন্তু তার মাত্র চার দিন পর রিভস ডাউনিং স্ট্রিটে সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ দেখানোর চেষ্টা করেন এবং কর বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ওবিআর-এর পূর্বাভাস প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ‘চ্যালেঞ্জিং’ এবং সরকারি অর্থব্যবস্থায় প্রভাব পড়বে, যা তিনি ‘লুকিয়ে রাখতে পারবেন না’। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘আমি সৎ, আমি জনগণের কাছে সত্য কথাই বলছি।’

পরবর্তী সপ্তাহে প্রকাশ পায় যে, আয়কর বাড়ানো হবে না। তখন সরকার দাবি করে, ‘তথ্য বদলে গেছে’। কিন্তু ওবিআর -এর প্রতিবেদনে স্পষ্ট—রিভসের সংবাদ সম্মেলন ও সরকারের অবস্থান বদলের মধ্যে ওবিআর কোনো নতুন সংশোধিত পূর্বাভাস দেয়নি।

এদিকে শুক্রবার রাতে রিভস দ্য গার্ডিয়ানে বলেন, ওবিআর তাকে সঠিক তথ্য দেয়নি, তাই আয়কর বাড়ানোর বিষয়টা ভেবে দেখা হয়েছিল।

কিন্তু ওবিআর প্রধান হিউজ বলেন, উৎপাদনশীলতার নিম্নসংশোধনের তথ্য তিনি রিভসকে ৭ আগস্টই দিয়েছিলেন—এবং এরপর আর তা পরিবর্তিত হয়নি।

হিউজ স্পষ্ট করেন, ‘কোনো পর্যায়েই সরকারের আর্থিক লক্ষ্যগুলো ২.৫ বিলিয়নের ডলারের বেশি ঘাটতির মুখে পড়েনি।’

এ নিয়েই সম্প্রতি রিভসের সঙ্গে ওবিআর-এর সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, বিশেষত উৎপাদনশীলতা কমানোর পূর্বাভাস ও প্রবৃদ্ধির জন্য কৃতিত্ব না দেওয়া নিয়ে।

শুক্রবার রাতে ট্রেজারি ওবিআর-এর বিরুদ্ধে গোপন নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া প্রকাশ করার অভিযোগ তোলে—যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং লিজ ট্রাসের সময়ের মতো সংঘর্ষের স্মৃতি জাগায়।

রাজনৈতিক ঝড়

এহেন পরিস্থিতিতে কেমি ব্যাডেনক রিভসকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রিভস মাসের পর মাস মিথ্যা বলেছেন—অতিরিক্ত কর আরোপের অজুহাত বানাতে। তার বাজেট স্থিতিশীলতার জন্য নয়; এটি ছিল রাজনীতি—নিজের অবস্থান বাঁচাতে লেবার এমপিদের খুশি রাখার পরিকল্পনা। লজ্জাজনক।’

কনজারভেটিভ শ্যাডো চ্যান্সেলর স্যার মেল স্ট্রাইড বলেন, ‘এখন সত্য প্রকাশিত। তিনি দাবি করেছিলেন বাজেট কঠিন হবে কারণ পূর্বাভাস খারাপ হয়েছে। অথচ ওবিআর বলছে, বিষয়টি সত্য ছিল না।’ সূত্র: টেলিগ্রাফ

Viewed 3200 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!