বগুড়ায় স্ত্রীকে ঘরবন্দি রেখে পিটিয়ে হত্যাঃস্বামী আটক
নজরুল ইসলাম দয়া,বগুড়াঃ বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় খালেদা খাতুন (৪০) নামের এক গৃহবধূকে ঘরবন্দি রেখে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়নি। পারিবারিক কলহে হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল সোমবার সকালে শেরপুর পৌর শহরের উত্তর সাহাপাড়া কালিতলা এলাকার বাড়ি থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযুক্ত স্বামী মিলন হোসেনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মারধর করে ঘরে আটকে রাখার তিনদিন পর গৃহবধূ খালেদার মৃত্যু হয়েছে। স্ত্রী হত্যায় অভিযুক্ত মিলন একজন চা বিক্রেতা। পারিবারিক কলহের জেরে তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে ঘরবন্দি রেখে মারধর করতেন। গত শনিবার রাতেও স্ত্রীকে পিটিয়েছে মিলন। চিকিৎসা না দিয়ে ঘরবন্দি রাখে।
রোববার রাতে গৃহবধূ খালেদার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ভোরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। গৃহবধূর মরদেহ বাড়িতে এতে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে দাফন প্রস্তুতি নেয় অভিযুক্ত মিলন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠায় সন্দেহভাজন হিসেবে স্বামী মিলনকে তাৎক্ষণিক আটক করে। গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আটকের পর স্ত্রীকে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মিলন। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী সবসময় ঘরের মধ্যে থাকে, তাকে আটকে রাখিনি। সবার সংসারে মাঝেমধ্যে ঝগড়া হয়। শনিবার রাতে খালেদাকে দুটি চড় মেরেছিলাম। সে সুস্থ অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করে।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় স্বামী মিলনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মারধর বা ঘরে আটকে রাখায় গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে কিনা, নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উন্মোচনে তদন্ত চলছে। লাশ মর্গে আছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
Viewed 5800 times


