অযত্নে অবহেলায় বগুড়া এডওয়ার্ড পার্ক ও শহীদ খোকন পার্ক!!
সম্পাদকীয়ঃ
বগুড়া সরকারের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা , এই সাতমাথার চারপাশ ঘিরে দুটি ঐতিহ্যবাহী পার্ক এর অবস্থান , যার একটি এডওয়ার্ড পার্ক এবং অপরটি শহীদ খোকন পার্ক নামে পরিচিত । এক সময় এই পার্ক দুটি ছিল নগরবাসীর বিনোদনের প্রধান আশ্রয়স্থল । ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—এডওয়ার্ড পার্ক গড়ে উঠেছিল প্রায় এক শতাব্দী আগে, এটি ব্রিটিশ রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের নামে নামকরণ করা হয়েছিল । দীর্ঘদিনের ইতিহাস সমৃদ্ধ এই পার্ক বগুড়া শহরের সংস্কৃতি, বিনোদন ও সামাজিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ খোকন পার্ক এক সময় নগরবাসীর জন্য ছিল সুস্থ বিনোদন আর শরীর চর্চার স্থান।
কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এই দুটি ঐতিহ্যবাহী পার্ক আজ অবহেলা আর অযত্নে ধুঁকছে। বিশেষ করে এডওয়ার্ড পার্কে বিগত ১৬ বছরেও কোনো সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। পার্কের ভেতরে থাকা দৌড়ানোর ট্র্যাক, ব্যায়ামের উপকরণ কিংবা বিশ্রামের স্থানগুলো ভগ্ন দশায় পরিণত হয়েছে। শিশুদের খেলার উপযোগী পরিবেশ নেই বললেই চলে। ফলে প্রতিদিন অনেকেই শরীর চর্চা বা হাঁটার উদ্দেশ্যে আসলেও নিরাশ হয়ে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
শহীদ খোকন পার্কের চিত্রও একই রকম। এক সময় এই পার্ক তরুণ-যুবক, বৃদ্ধ-পেশাজীবীদের আড্ডা, হাঁটাহাঁটি ও শরীর চর্চার জন্য অপরিহার্য স্থান ছিল। কিন্তু এখন সেটিও দখল, অপরিচ্ছন্নতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে তার পূর্বের গৌরব হারিয়ে ফেলেছে।
একসময় বগুড়া শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও মানুষের স্বাস্থ্যচর্চার জন্য এই পার্কগুলো ছিল অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বর্তমানে তা পরিণত হয়েছে অবহেলার প্রতীকে। নগরবাসীর মানসিক প্রশান্তি ও শারীরিক সুস্থতার জন্য পার্ক অপরিহার্য। অথচ আমরা যতটা না গুরুত্ব দিয়েছি পার্ক রক্ষণাবেক্ষণে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি বাণিজ্যিক দখল আর অব্যবস্থাপনায়।
এখনই সময় বগুড়া সিটি কর্তৃপক্ষ, পৌর প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এগিয়ে আসার। পার্কগুলোকে পুনর্নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, শরীরচর্চার উপকরণ সংযোজন এবং শিশুদের জন্য খেলার পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নগরবাসী আবারও সুস্থ পরিবেশে সময় কাটাতে পারে।
ঐতিহ্য হারিয়ে গেলে সেটি আর ফিরিয়ে আনা যায় না। তাই শহরের এই প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পার্ক দুটির মর্যাদা রক্ষা করা এবং নতুন প্রজন্মের জন্য এগুলোকে উপযোগী করে তোলা এখন সময়ের দাবি।
Viewed 5900 times