May 12, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

পোষ্য কোটাসহ ৩ দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আলটিমেটাম, না মানলে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট : পোষ্য কোটা পুনর্বহাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত প্রশাসক প্রথা বাতিলসহ ৩ দফা দাবি আদায়ে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আগামীকাল ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবিগুলো মেনে না নিলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আলটিমেটামের কথা জানানো হয়। এই কর্মসূচির আওতায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস, পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম (জরুরি সেবা ব্যতীত) সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপিপন্থি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি ও এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার জামায়াতে ইসলামী আমির ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম, শাখা জামায়াত সেক্রেটারি ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আহসান, অফিসার সমিতির বিএনপিপন্থি সভাপতি মোক্তার হোসেন ও জামায়াতপন্থি কোষাধ্যক্ষ মাসুদ রানা।

তাদের তিনটি দাবি হলো- প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা (পোষ্য কোটা) অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত সকল ‘প্রশাসক প্রথা’ বাতিল করতে হবে; সকল শিক্ষকের জন্য ব্যক্তিগত চেম্বারের সুব্যবস্থা নিশ্চিত ও শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে গবেষণা খাতে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে।

এদিকে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সময়ে এসে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এই ধরনের আন্দোলন নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, নির্বাচনকে পুঁজি করে শিক্ষক-কর্মকর্তারা তাদের দাবি আদায় করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে শিক্ষকরা বলছেন, তাদের আন্দোলনের প্রভাব নির্বাচনের ওপরে পড়বে না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাবির সাবেক সমন্বয়ক ও জিএস প্রার্থী সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৫ বছর পর যখন রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, ক্যাম্পাসে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যাচ্ছে, এই সময়ে এসে তাদের (শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী) এই ধরনের আচরণ হতাশাজনক। রাকসু নির্বাচনকে পুঁজি করে তারা তাদের দাবি আদায় করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমি ক্যাম্পাসের সকল প্রার্থীদেরকে তাদের যার যার অবস্থান থেকে এই অযৌক্তির দাবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমরা অনেকদিন থেকেই আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে আসছিলাম। প্রশাসনের আশ্বাসে ভেবেছিলাম আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হবে। যেহেতু দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ সুবিধা বহাল আছে। কিন্তু এতদিনেও না মেনে নেওয়ায় আমরা ফের কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এই আন্দোলনে রাকসু নির্বাচনের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না না, আমাদের আন্দোলনের জন্য রাকসু নির্বাচনের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। নির্বাচন নির্বানের মতোই অনুষ্ঠিত হবে, আমাদের আন্দোলন আলাদা চলবে। কোনো প্রভাব পড়বে না। আর এখনও সময় আছে, আমাদের দাবি মেনে নিলে আমরা নির্বাচনের আগেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করব।’ রাকসু নির্বাচনকে পুঁজি করে দাবি আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Viewed 4850 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!