May 12, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

শহীদ ৯১৪ জনের তালিকা প্রকাশ করল জুলাই রেভল্যুশনারি এলায়েন্স

ডেস্ক রিপোর্ট : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি এলায়েন্স’ নামের একটি সংগঠন। তাদের প্রকাশিত তালিকায় শহীদদের সংখ্যা ৯১৪ বলে তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৬০০–এর বেশি শহীদের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত শহীদ এবং এর বাইরে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে প্রাপ্ত শহীদদের অন্তর্ভুক্ত করে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গেজেটের বাইরে অনেকেই রয়েছেন, যাদের এখনো সরকার শহীদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। তবে তাদের এই তালিকা পূর্ণাঙ্গ নয় উল্লেখ করে বলা হয়, বর্তমানে ৬০০–এর বেশি শহীদের তালিকাভুক্তির জন্য পরিবারের দেওয়া আবেদন ঝুলে আছে। তালিকাটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে করার কথা জানিয়েছে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি এলায়েন্স’। এর মধ্যে বিভিন্ন এনজিওর তথ্য; জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা; এলাকাভিত্তিক তালিকা; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক প্রকাশিত গ্রন্থ; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং শহীদ পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের সংখ্যা ও তালিকা প্রকাশ করতে গতকাল শনিবার বিকেল চারটার পর রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক সালেহ মাহমুদ রায়হান, মুখপাত্র ফানতাসির মাহমুদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আহমদ সামরান। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীসহ দেশের মোট ৫৪টির বেশি স্থানে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পুলিশ এবং এপিবিএনের গুলিতে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ হতাহত হয়। এরপরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হতাহতের ঘটনা ঘটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের গুলিতে। আর তৃতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) গুলিতে। এ নিয়ে জুলাই রেভল্যুশনারি এলায়েন্স ও বাংলাদেশ প্রটেস্ট আর্কাইভ যৌথভাবে কাজ করেছে বলে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর পদত্যাগ দাবি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের মুখপাত্র ফানতাসির মাহমুদ বলেন, জুলাই বিপ্লবে যে ভয়াবহ গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, তার বিচার আজও হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে ন্যূনতম পদক্ষেপও নেয়নি। তারা পারত, কিন্তু করেনি। বিচারের উদ্দেশ্য আদৌ ছিল কি না, সেটা নিয়েও প্রশ্ন আছে। কিন্তু সত্য হলো, শহীদদের রক্তের ন্যূনতম মর্যাদাটুকু পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে অন্তর্বর্তী সরকার এক ভয়ংকর উদাহরণ তৈরি করে গেল,বাংলাদেশে গণহত্যার বিচার হয় না। এই দেশে মানুষকে হত্যা করা যায়, হাজার হাজার প্রাণ কেড়ে নেওয়া যায়—কিন্তু আসামিরা নিরাপদে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে, মুক্ত আকাশে ঘুরে বেড়াতে পারে।

Viewed 4350 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!