May 14, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

তালাক দেওয়ার পর স্ত্রী আবার সংসারে ফিরতে না চাইলে সৎ ছেলেকে হত্যা করেন আজহারুল: র‌্যাব

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আদালতের মাধ্যমে ৩-৪ মাস আগে স্বামী আজহারুল সরদারকে তালাক দেন তফুরা খাতুন। তালাকের পরও সংসারে ফিরতে মরিয়া আজহারুল। কিন্তু ব্যর্থ হওয়ায় পর ক্ষুব্ধ হয়ে তফুরার প্রথম পক্ষের ছেলে রাকিবুল সরদারকে (১৪) বাসায় ডেকে নিয়ে মারধরের একপর্যায়ে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান অভিযুক্ত। তাকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।

ঢাকার কেরানীগঞ্জে শিশু রাকিবুল সরদারকে হত্যার ঘটনায় তার সৎ বাবা অভিযুক্ত আজহারুল সরদারকে (৩৬) রোববার খুলনার হরিণটানা জিরো পয়েন্ট থেকে আজহারুল সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, রাকিবুল ও তার মা তফুরা ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ চুনকুটিয়া নাজিরেরবাগ এলাকায় থাকতেন। রাকিবুল স্থানীয় একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় কাজ করত। নিহতের বাবা খায়রুল সরদার মৃত্যুবরণ করলে গত দুই বছর আগে আজহারুলকে বিয়ে করেন তফুরা। বিয়ের পর নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি আদালতের মাধ্যমে আজহারুলকে তালাক দেন। এরপর থেকে তফুরাকে নিয়মিত হুমকি দিতেন আসামি।

তিনি বলেন, গত ১৪ আগস্ট সকালে রাকিবুল কাজে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেনি। পরদিন ১৫ আগস্ট ছেলের (রাকিবুল) খোঁজ না পেয়ে তার মা তফুরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আজহারুলের কাছে জানতে চান। পরে আজহারুল জানান, রাকিবুল তার সঙ্গে সাতক্ষীরায় আছে। এ কথা জানিয়ে সাবেক স্ত্রী তফুরার কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিয়ের মাধ্যমে টাকা নেন। পরের দিন তফুরা জানতে পারেন, তার ছেলে রাকিবুলের মরদেহ সাবেক স্বামী আজহারুলের বাড়িতে রয়েছে।

র‌্যাব অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, তখন তফুরা পুলিশকে ফোন করে বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের সহায়তায় রাকিবুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামি গ্রেপ্তারে র‌্যাব-১০ এর সহায়তা চান। পরে র‌্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল রোববার রাতে খুলনার হরিণটানা জিরো পয়েন্ট থেকে আসামি আজহারুলকে গ্রেপ্তার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আজহারুল র‌্যাবকে জানিয়েছেন, তিনি পুরোনো সংসারে ফিরতে নানাভাবে চেষ্টা করেন। কিন্তু তফুরা তাতে রাজি হননি। আজহারুল রাকিবুলকে বাসায় ডেকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রাকিবুল মায়ের কথার বিপরীতে না যাওয়ায় আজহারুল ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে তাকে মারধর করেন। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ মোহম্মদ আক্তার হোসেন বলেন, র‌্যাব–১০ এর কাছে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারে সহায়তা চেয়ে পত্র পাঠায়। পরে রোববার র‌্যাব আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছে। সোমবার আসামিকে আদালতে তোলা হয়। পরে আসামি আজহারুল দ্বায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

Viewed 4050 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!