August 11, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

সবজির বাজারে স্বস্তি নেই, লাফিয়ে বাড়ছে ডিম-পেঁয়াজের দাম

ডেস্ক রিপোর্ট : সবজির বাজারে কিছুদিন স্বস্তি ছিল। এখন আলু আর পেঁপে ছাড়া কোনো সবজির দাম ৩০ টাকার নিচে নেই। প্রায় সব সবজির দাম ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায়। বেগুন গোল হোক বা লম্বা, দাম চড়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। এদিকে দুই দিনের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দর ১৩০ টাকা থেকে এক লাফে ১৫০ টাকায় উঠেছে। এদিকে পেঁয়াজের বাজারে ঝাঁজ বাড়ছে।

রাতারাতি সবজির দাম চড়ায় বাজারে গিয়ে ক্রেতারা হতাশা প্রকাশ করছেন। নতুন করে বিপাকে পড়েছেন। কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে আসা তেজতুরি বাজারের বাসিন্দা আশেকুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কিছুদিন আগেও যে পটোল ৪০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছিল, তা এখন ৮০ টাকা। ঝিঙা ১০০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, করল্লা ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সবজির বাজার বেশ চড়া। দরবৃদ্ধির জন্য সাম্প্রতিক বৃষ্টিকে দায়ী করে তারা জানান, বর্ষায় সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এতে সব ধরনের সবজির সরবরাহ কমেছে। বিক্রেতা মো. রফিক বলেন, বৃষ্টির পর হঠাৎ দরবৃদ্ধি পাওয়ায় তারা অস্বস্তিতে রয়েছেন।

গত দুই দিন ধরে ডিমেরও বাজার চড়েছে। সবজির দাম বাড়লে ডিমের বিক্রি বেড়ে যায় বলে জানান বিক্রেতারা। পেঁয়াজের দামও প্রতি কেজি ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় উঠেছে। তবে চালের দর স্থিতিশীল। গত ঈদে যে দাম বেড়েছিল, সেখানে থেকে কিছুটা কমেছে। মাছের বাজার আগে থেকেই চড়া। গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও খানিকটা বেড়েছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম।

ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে খুচরা বিক্রেতা বেল্লালও বৃষ্টিকে দায়ী করলেন। তিনি জানান, বর্ষায় সরবরাহ কমেছে। তবে কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আমানউল্লাহ সমকালকে জানান, গত এক সপ্তাহে পাইকারি বাজারে ডিমের দাম বাড়েনি। প্রতিশত ডিম এক হাজার ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য জুন পর্যন্ত ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় দর পড়েছিল। তাতে খামারিরা বেশ লোকসান করেন। পরে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন কিছুটা খরচ পুষিয়ে নিতে পারছেন খামারিরা।

কারওয়ান বাজারে ফরিদপুর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও পাবনার পেঁয়াজ মানভেদে পাল্লাপ্রতি (৫ কেজি) ৩৫০ টাকা ৪০০ টাকায় কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। পাইকারি বিক্রেতা সজীব শেখ জানান, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কম। এর মধ্যে আমদানির অনুমতিও মিলছে না। ফলে দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, সোমবার মানভেদে কেজিপ্রতি পেঁয়াজ ৬৬ টাকা থেকে ৭৪ টাকায় বিক্রি করেছেন। এক দিন আগে রোববার ওই পেঁয়াজই ৬২ থেকে ৭৩ টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে আটা, ময়দা, সয়াবিন তেল (লুজ), মসুর ডাল (ছোট), ছোলা, মুরগি ব্রয়লার, পেঁয়াজ (দেশি), আলু এবং ডিমের  মূল্য বেড়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা থেকে ৮৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকায়। এক মাস আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা।

খুচরা বিক্রেতা মো. রাসেল জানান, মোটা চাল আগের মতো ৫০ থেকে ৫২ টাকায়, মিনিকেট ৭২ থেকে ৭৫ টাকায় এবং নাজিরশাইল ৭৮ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত কোরবানির ঈদের সময় চালের যে দাম বেড়েছিল, এখনও প্রায় সেই পর্যায়ে আছে। তেলসহ অন্যান্য মুদি পণ্যের দামের তেমন কোনো হেরফের নেই বলে জানান তিনি।

মুরগির দোকানি সাইফুল ইসলাম জানান, ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় ছিল। মাছের বাজারের আগের চড়া দাম এখনও বহাল। রুই ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা এবং মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তেলাপিয়া বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়।  পাঙ্গাশ ২২০ থেকে ২৪০ টাকা এবং মলা ও কাচকি ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। মাঝারি আকারের বাইলা মাছের দাম ৯০০ থেকে ১১শ টাকা।

Viewed 8150 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!