October 26, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

বগুড়ার সাবেক কাউন্সিলর ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাড়ি দখলচেষ্টার অভিযোগ

আঃওয়াহেদ ফকির,বগুড়াঃ বগুড়া শহরের খান্দার এলাকায় রোকসানা খানম নামে এক বিধবার নির্মণাধীন বাড়ি ও জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে গোহাইল রোড খান্দার আকবর আলী খান চৌধুরীর বাড়ির দক্ষিণ পশ্চিম কোণ এলাকার বাসিন্দা মৃত হোসেন মাকসুদুল আলম মুরাদের স্ত্রী রোকসানা খানম লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার স্বামী ও দেবরের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এবং তার ছেলে মেয়ের নামে দলিল করা মালগ্রাম মৌজার ১২৭৬ নং দাগে সাড়ে ১৩ শতাংশ জমির মধ্যে ১৩ দশমিক ২১ শতাংশে ভবনের নকশা অনুমোদন করে ভবন নির্মাণ শুরু করেন।

এর আগে তাদের ওই পুরাতন বাড়িটি বিক্রি করে দেন। স্থাপনাটির ক্রেতা ভেঙ্গে নেয়ার সময় প্রথমে বগুড়া শহর শাখা যুবদল নেতা সাদ্দাম দলবল নিয়ে এসে বলে স্থাপনাটি তাদেরকে দিতে হবে। এ সময় যারা স্থাপনা কিনেছে তাদেরকে তাদের ক্রয় করা সম পরিমাণ টাকা দিলেই দিয়ে দিবে বলে জানানো হয়। কিন্তু সে টাকা দিয়ে স্থাপনা কিনবে না। তাকে পুরো স্থাপনাটি ফ্রি’তে দিতে হবে। এ ছাড়াও সে দাবি করে ভবন নির্মাণের যাবতীয় ইট, বালু, রড সিমেন্ট তার কাছ থেকে নিতে হবে। প্রতিটি জিনিষের দাম আগে দিতে হবে পরে নির্মাণ সামগ্রী পৌছে যাবে। এতে রাজি না হলে সে বলে যে বাড়িটি কিভাবে নির্মাণ করে তা দেখে নেয়ার হুমকী দিয়ে চলে যায়।

পরে ভবন নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু করলে জহুরুল ইসলাম খান সজল নামে এক ব্যক্তি এসে নির্মাণ কর্মীদের কাজ বন্ধ করতে বলে। এর কারণ জানতে চাইলে সে বলে এই জমি আমরা ক্রয় করেছি। এরপর মেশিন ম্যানকে ফোনে কথা বলতে বলে। মেশিন ম্যান ফোন তার কানে ধরলে ওপাশ থেকে সাবেক কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু পরিচয় দিয়ে বলে, ওই জমি আমার। তোমরা এখনি মেশিন নিয়ে চলে যাও। আর তা না হলে, যে তোমাদের কাজ করতে বলেছে তাকে তো খুন করবো পাশাপাশি তোমরাও নিস্তার পাবে না বলে হুমকী দেয়। এতে নির্মাণ শ্রমিকরা ভয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।

তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি যদি জমির প্রকৃত মালিক হয়ে থাকেন তা’হলে তার কাগজপত্র নিয়ে এসে চ্যালেঞ্জ করবে। হিরুর কাছে তিনি জানতে চান সে কিভাবে এই জমির মালিক হয়েছে। তখন সে বলে জমির এক ওয়ারিশ ১৯৮৪ সালে ব্যাংকে জমি বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছিল। ব্যাংক থেকে হিরু নাকি জমি ক্রয় করেছেন। তবে কোন ব্যাংক থেকে জমি নিয়েছে তাও বলেননা। তার সেই কাগজ ও দলিল দেখতে চাইলে বলে আপনাকে দলিল দেখানো যাবে না। সে শুধু দূর থেকে কাগজ দেখিয়ে বলে, এটা জমির দলিল আর এইটা জমির খারিজের কাগজ। তার ধারণা সে কোন ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে।

একই কায়দায় আরও দুই ভুক্তভোগির জমি ও দোকান এভাবে দখলের চেষ্টা চালায় দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু ও জহুরুল ইসলাম খান সজল। তার উদাহরণ বগুড়া শহরের সুত্রাপুরস্থ জলেশ্বরীতলা টাচ এন্ড টেক এর পাশে বাটা শো-রুমসহ ছয়তলা ভবন বিভিন্ন কায়দায় দখলের চেষ্টা চালায়। তারা ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ওই ভবনের মালিক সৈয়দা নুজাহাত সুলতানার ভবনের জমিও তারা বিক্রি করেছে। যা নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। তাছাড়াও তিনি সজলের নামে ৫০ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন, যা আদালতে চলমান রয়েছে।

এ ছাড়াও খান্দারে দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু ও জহুরুল ইসলাম খান সজল তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য সাদ্দামকে দিয়ে একই কায়দায় ওই এলাকার শবনম হাফছা নামে এক নারীর কাছে চাঁদা দাবি করে, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তারা তার ৩টি দোকান ঘরের মধ্যে একটি দোকান দখল করে নিয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে সজলের নামে ২৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন শবনম হাফছা, যা চলমান রয়েছে।

হিরু পশারী সাবেক কাউন্সিলরের প্রভাব খাটিয়ে পৌরসভা থেকে কাজ বন্ধের নোটিশ পাঠিয়েছে। তা একবার নয় দুইবার নয় ছয়বার কাজ বন্ধ করার নোটিশ প্রেরণ করেছে। এ ছাড়াও হিরু পৌরসভার উপর ভর করে পৌরসভার বাহিনীকে প্রেরণ করায় তারা এসে আমার কাজ বন্ধসহ মিস্ত্রীদের যন্ত্রপাতি জোরপূর্বক নিয়ে যায়। এ বিষয়ে পৌরসভার গিয়ে পিএনও কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জবাব দেন ১০/১২ জন এসে হুমকী দিলে বাধ্য হয়ে লোক পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করেছি। পৌরসভায় আমি কোন ন্যায় বিচার না পেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি বিস্তারিত বলি। তিনি সমস্ত বিষয় শোনার পর সে সময়ের পৌর প্রশাসক রাজিয়া সুলতাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে আমি পৌরসভার প্রশাসকের সাথে দেখা করে বিষয়টি খুলে বলি এবং ওই জমি নিয়ে আমাদের দায়ের করা আদালতে চলমান মামলার বিষয়টিও তাকে জানাই। প্রশাসক পিএনও কে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে তার জমির কোন অনিয়ম না পেলে পৌর প্রশাসক তাকে যথারীতি কাজ করার লিখিত অনুমতি দেন।

এদিকে জহুরুল ইসলাম খান সজলের দখলে আমার জমি থাকায় সেই জমি যাতে তাকে ছেড়ে দিতে না হয় তার জন্য সে নতুন করে ফন্দি আঁটে। সে আমাকে ভূল বুঝিয়ে যাতে আমার নির্মাণ কাজ বাধাগ্রস্ত হয় এক প্রকার জোর পূর্বক একটি রেভিনিউ ষ্ট্যাম্পে আমাদের স্বাক্ষর নেয় এবং তাতে লিখে যে আমরা পাশাপাশি উভয়ে ২ ফুট করে জমি ছেড়ে বাড়ি নির্মাণ করলে কারো কোন আপত্তি থাকবে না। পশ্চিম পাশের জমির মালিক আবুল কাশেমও তাদের সাথে যোগ দেয়। যেহেতু তার বাড়ির মধ্যেও আমার জমি রয়েছে। এখানে উল্লেখ্য আমাদের সাড়ে ১৩ শতাংশ জমির মধ্যে ১১ শতাংশ জমিতে আমি নির্মাণ কাজ করছি। আর বাঁকী আড়াই শতাংশ জমি আবুল কাশেম ও জহুরুল ইসলাম সজল দখল করে রেখেছে।

এদিকে পৌরসভার লিখিত অনুমতির পর পুনরায় কাজ শুরু করলে গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে জহুরুল ইসলাম খান সজল ও দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরুর নির্দেশে আবুল কাশেম, মুক্তার, হিরুর বডিগার্ডখ্যাত অজ্ঞাতনামা যুবক, সাদ্দামসহ ১৫/১৬ জন ধারালো অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসে আমার বাড়ির কাজ বন্ধ করতে তারা আমাদের উপর হামলা চালায়। তারা আমার বাড়ির বাউন্ডারী ওয়াল ভাংচুর সহ আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকী দিতে থাকে। এক পর্যায়ে হিরু আমাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয় আর অন্যরা আমাকে মারপিট করতে থাকে। এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা দিতে গেলে থানা মামলা না নিয়ে শুধু অভিযোগ নামা নিয়ে রেখেছে। ওই প্রভাবশালীদের ভয়ে থানার ওসি কোন প্রকার পদক্ষেপ নেয়নি। থানা কোন প্রকার কাজ না করায় আমি অসহায় হয়ে পড়েছি।

তার পরেও হিরু পৌরসভা থেকে আমাকে আবারও নোটিশ ইস্যু করিয়ে পৌরসভায় যেতে বাধ্য করে। গত ১৮ অক্টোবর পৌরসভায় গেলে তারা আমার উপর হামলা চালানোর জন্য পৌরসভার বাহিরে একদল লোক জড়ো করে রাখে। পৌরসভায় গিয়ে তাদের তৈরি করা দুই ফুট ছেড়ে দেয়ার ডিড তারা নিজেরাই বাতিল করে এবং আমি নাকি ২ ফুট ছেড়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছি এ নিয়ে হৈ হুল্লোর শুরু করে। তবে আমার মনে হচ্ছে, হিরু সজলরা সন্ত্রাসী দিয়ে যে কোন সময় আমাকে খুন করতে পারে। মৃত্যু তো সবারই হবে। আমার উত্তরসুরীদের আমি বলে যাচ্ছি, আমার যদি তেমন কিছু হয়, তবে আমার খুনের জন্য প্রথম আসামি দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু, দ্বিতীয় জহুরুল ইসলাম খান সজল, এরপর সাদ্দাম, কাশেম, মুক্তার দর্জি এরাই দায়ী হবে।

তিনি বলেন, আমি একজন বিধবা নারী, আমার প্রতি যে অত্যাচার জুলুম শুরু হয়েছে তার বিচার আমি দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাই। তিনি যদি সদয় হোন তবেই আমি বগুড়ার এ দস্যুদের হাত থেকে রেহাই পেতে পারি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যে, শ্লোগান সবার আগে বাংলাদেশ নিয়ে শপথ নিয়েছেন। তিনি তার বগুড়া থেকে এইসব অত্যাচারীদের উচ্ছেদ করতে না পারলে বগুড়ার দেখাদেখি সারা দেশেই অত্যাচারিতে ছেয়ে যাবে। আর নির্যাতিত হবে সাধারণ মানুষ। তার কাছে আমার আকুল আবেদন, তিনি যেন বিষয়টির দিকে হস্তক্ষেপ করেন ।

Viewed 1600 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!