শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়ার মেলবন্ধনঃসম্প্রীতির আলোয় উদ্ভাসিত হোক বাংলাদেশ
সম্পাদকীয়ঃ
শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর কাশবনের দোলা জানান দিচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শারদীয় দুর্গাপূজার মহিমান্বিত আগমন। ঢাকের মঙ্গলালোক আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে বাংলার প্রতিটি পূজামণ্ডপ। মহাষষ্ঠী থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী এই আনন্দ উৎসবের সমাপন ঘটবে বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। এই পুণ্যলগ্নে আমরা দেশের সকল নাগরিক এবং বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত সনাতন ধর্মপ্রাণ ভাইবোনদের জানাই শারদীয় শুভেচ্ছা ও শুভ বিজয়ার আন্তরিক অভিনন্দন।
সনাতন ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী,দেবী দুর্গা হচ্ছেন মহাবিশ্বের আদি ও মহাশক্তিরূপ। তিনি অশুভ, অন্যায়, অত্যাচার এবং অসুর শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের এক চিরায়ত প্রতীক ও পরম অনুপ্রেরণা।সমাজে যখনই অন্যায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তখনই দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটেছে অসুর দলন করে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আধুনিক প্রেক্ষাপটে দেবী দুর্গার এই আগমন আমাদের শিক্ষা দেয় মানুষের অন্তরের লোভ, হিংসা, অহংকার আর সমাজের সকল প্রকার বৈষম্য ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে।
বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। যুগে যুগে এ দেশের মাটি ও মানুষ ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে লালন করেছে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক সত্য আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে— উৎসবের আঙিনা ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের হতে পারে, কিন্তু উৎসবের আনন্দ আর তার মানবিক বার্তাটি সকলের। রাষ্ট্র এবং সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রতিটি নাগরিকের অবদান আজ সমানভাবে অনস্বীকার্য।
একটি বৈষম্যহীন এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুর্গাপূজার মতো জাতীয় উৎসবগুলো আমাদের পারস্পরিক ভাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে। তবে উৎসবের এই আনন্দঘন পরিবেশকে ধরে রাখতে হলে সমাজের সকল স্তরে শান্তি, নিরাপত্তা ও পরমতসহষ্ণুতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দেশের সকল সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং তরুণ সমাজকে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।কোনো অপশক্তি যেন আমাদের চিরন্তন সম্প্রীতির বন্ধনে ফাটল ধরাতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে।
বিজয়া দশমীর বিদায়ী সুর আমাদের হৃদয়ে রেখে যায় সৌহার্দ্যের চিরন্তন বাণী। উৎসবের এই স্নিগ্ধ আলোয় দূর হয়ে যাক সব গ্লানি, বিদ্বেষ আর সংকীর্ণতা। দেবী দুর্গার আশীর্বাদে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ হয়ে উঠুক আরও সমৃদ্ধ, শান্তিময় এবং মানবিক মূলবোধে দীপ্ত। প্রত্যেকের জীবন ভরে উঠুক অনাবিল সুখ ও শান্তিতে।
শুভ শারদীয় দুর্গোৎসব ও শুভ বিজয়া!
(সংগ্রীত এবং সংযোজিত)
Viewed 5450 times




