বগুড়ার শিবগঞ্জে রাইস মিল মালিক হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন: মূলহোতা সহ গ্রেপ্তার ০২
গোলাম রব্বানী শিপন, মহাস্থান- বগুড়াঃ বগুড়ার শিবগঞ্জে চাঞ্চল্যকর রাইস মিল মালিক মোহাম্মদ আলী সরকার (৫৫) হত্যাকাণ্ডের ক্লু-লেস রহস্য মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে কুখ্যাত ডাকাত দলের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ (১০ জুলাই) গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের ফেনিগ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী সরকার রাতের খাবার খেয়ে বাড়ির অদূরে ফুলতলা ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন নিজের রাইস মিলে যান। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি মিল পাহারা দেওয়ার জন্য সেখানেই ঘুমিয়ে ছিলেন।
গভীর রাতে একদল সংঘবদ্ধ ডাকাত ওই রাইস মিলের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে আসে। এ সময় মোহাম্মদ আলী টের পেয়ে যান এবং ডাকাতদের চিনে ফেলেন। পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা তাৎক্ষণিক তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। হাতুড়ির নৃশংস আঘাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মোহাম্মদ আলী। পরদিন সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এই নৃশংস ঘটনায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে, ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন৷ পরে নিহতের ছেলে বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারায় (খুনসহ ডাকাতি) একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরপরই জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে মাঠে নামে পুলিশ।
বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ (পিপিএম) এর দিকনির্দেশনা, সহকারী পুলিশ সুপার (শিবগঞ্জ-সোনাতলা সার্কেল) রবিউল ইসলাম এর তত্ত্বাবধান এবং শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুজ্জামান এর সার্বিক সহযোগিতায় মাঠে নামে থানা পুলিশের একটি চৌকস অভিযানিক দল।
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও বিশ্বস্ত গুপ্তচরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শিবগঞ্জের আটমূল ইউনিয়নের পুটখোর গ্রামে এক সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে নিজ নিজ বসতবাড়ি থেকে এ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
১. শফিকুল ইসলাম (৪৩), পিতা: আব্দুর রশীদ, – পুটখোর, শিবগঞ্জ।
২. আব্দুল আলিম (৪০), পিতা: আব্দুল বারিক সিকিদার, পুটখোর, শিবগঞ্জ।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানায়, ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে চিনে ফেলায় তারা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মোহাম্মদ আলীকে হত্যা করে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই চক্রের সাথে জড়িত পলাতক অন্যান্য সহযোগীদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেছে। আসামিদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে বাকি অপরাধীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুজ্জামান বলেন, “মোহাম্মদ আলী সরকার হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করি। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা দ্রুততম সময়ে প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। চক্রের বাকি আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধী যেই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।”
Viewed 200 times



