জ্বালানির সরবরাহ কিছুটা কমলেও সংকটজনক নয়: জাহেদ উর রহমান
অনলাইন ডেস্ক:
জ্বালানির সরবরাহ কিছুটা কমলেও তা এখনো সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতার কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চে ডিজেল সরবরাহ কিছুটা কমেছে—৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮ টন থেকে কমে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫১২ টনে নেমেছে। পেট্রোলের সরবরাহও ৪৬ হাজার ৩৭১ টন থেকে কমে ৩৯ হাজার ১৯৮ টনে দাঁড়িয়েছে। তবে অকটেনের সরবরাহ সামান্য বেড়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও পরিস্থিতি এতটা খারাপ নয় যে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, বাজারে অস্থিরতার একটি বড় কারণ হলো অবৈধ মজুত ও ‘প্যানিক বাইং’ বা আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা। সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি মজুতের কিছু ঘটনা পাওয়া গেছে, যা পাচারের আশঙ্কা তৈরি করছে।
উপদেষ্টা জানান, এসব অনিয়ম ঠেকাতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত ৭৪টি অভিযান চালিয়ে ১১৪টি মামলা করা হয়েছে এবং ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
সরকারি মজুতের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ডিজেল ১ লাখ ১৪ হাজার ১২২ টন, অকটেন ১০ হাজার ১৫১ টন এবং পেট্রোল ১৩ হাজার ৪০৫ টন মজুত রয়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিপুল ভর্তুকির চাপ রয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ছিল। এই ভর্তুকি ধাপে ধাপে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে, তবে জনজীবনে যেন এর নেতিবাচক প্রভাব কম পড়ে সে বিষয়ে সতর্কতা রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ খাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বড় অঙ্কের বকেয়া রয়েছে, যার মধ্যে আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র, যৌথ উদ্যোগ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত।
Viewed 1250 times