June 30, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

চুরিকৃত সন্তানকে ফিরে পেতে : বগুড়া গাবতলীর এক দুঃখিনী মায়ের সাতমাথায় মানববন্ধন পালন করা হয়

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া গাবতলী উপজেলা ভুক্তভোগী দুঃখিনী মা মোছাঃ তাজমিনা আক্তার উক্ত আজ রবিবার শহরের সাতমাথায় মানববন্ধনে উল্লেখ করে বলেন। বিগত ২৮-০৭-২০১৩ ইং তারিখে নুরানী মোড়, বগুড়া আই.ভি ক্লিনিকে ২টি জমজ সন্তান প্রসব করি একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। ছেলে মোঃ আহসান হাবীব, মেয়ে মোছাঃ তাসনিয়া আক্তার। জমজ সন্তানের মধ্যে ছেলে সন্তানটি গত ২৮-০৭-২০১৩ নুরানী মোড় আই.ভি ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার থেকে আই, ভি ক্লিনিকের সকল কর্মকর্তা যোগসাজস করে ছেলে সন্তানটি চুরি করে ও বিক্রয় করে দেয়।

আমার সকল কাগজপত্র ক্লিনিক পক্ষ চুরি করে। অপারেশন থিয়েটার থেকে চুরি হওয়ার ৭ মাস পর নেপালতলী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমার চুরিকৃত সন্তানটির তথ্য পেয়ে থাকি, পরবর্তীতে সন্ধান পাওয়ার পর গ্রামে ও ইউনিয়ন পরিষদে আপোষ করার চেষ্টা করি কিন্তু সেখানে অপরাধীগণ সন্তানটি ফেরত দিতে চায়, পরবর্তীতে গ্রামের কিছু দালালদের কারণে সন্তানটি ফেরত পাইনি। দালালঃ মোঃ মতিয়ার রহমান, মোঃ বাবলু, মোঃ রফিক সহ আরো অনেকেই। গ্রামে আপোষ করে আমার সন্তানটি ফেরত না পেয়ে, আমার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানের (মোঃ লতিফুল বারি মিন্টু) সহযোগীতায় বগুড়া জর্জকোর্ট নারী শিশু ট্রাইবুনালে মামলা করি। মামলা নং-৫৬/১৯, পরবর্তীতে নারী শিশু ট্রাইবুনালের বিচারক মোঃ আব্দুর রহিম সাহেব ইউনিয়ন পরিষদের তদন্ত অনুযায়ী সন্তানটি আমাকে ফেরত দিতে চায়। কিন্তু নারী শিশু ট্রাইবুনাল-২ এর পিপি মোঃ আশিকুর রহমান সুজন সন্তানটি ফেরত দিতে বাধা দেয় এবং আমাকে ডিএনএ করতে বলে নারী শিশু ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক ও পিপির সহযোগীতায় আমি ডিএনএ সম্পূর্ণ করি। ৩ মাস পর ডিএনএ পজিটিভরিপোর্ট নারী শিশু ট্রাইবুনাল-২ এ আসে। আদালতে পজিটিভ রিপোর্ট (৬৮.৫০৭৯%) আসার পর নারী শিশু ট্রাইবুনাল-২ এর সকল কর্মকর্তা ডিএনএ পজিটিভ রিপোর্ট গোপন করে। পরবর্তীতে আসামিগণ ২টি স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে। বগুড়া সিনিয়র চীফ জুডিসিয়্যাল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করি, মামলা নং-৫৮১ ও ৯৩৭ সকল তদন্তের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। নিম্ন আদালতের নারী শিশু ট্রাইবুনাল-২ এর সকল কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে আমার ছেলে সন্তানটি ফেরত পাইনি। নিম্ন আদালতে ন্যায় বিচার না পাওয়ায় আমি সকল নথিপত্র নিয়ে হাইকোর্টে গত ১২-১২-২০২২ইং তারিখে রিট মামলা দায়ের করি। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানী করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট সৈয়দা নাসরিন। তারপর গত ১৪-১২-২০২২ইং তারিখে মামলার নথি নিয়ে বগুড়ার নারী শিশু ট্রাইবুনাল-২ এর বিরচারকের হাজিরার তারিখ হয়। বিচারক সাহেব নথিতে নেগেটিভ রিপোর্ট দায়ের করে। আমার হাইকোর্টের আইনজীবীরা ডিএনএ অফিস থেকে পজিটিভ রিপোর্ট সংগ্রহ করে। গত ১৪-১২-২০২২ ইং তারিখে রিট মামলার শুনানী হয়। তারপর গত ০২-০১-২০২৩ ইং তারিখে আদেশের তারিখ হয়। এই মামলার সর্বমোট ৬টি জালিয়াতি করা হয়েছে-আল্ট্রাসনো, প্রেসক্রিপশন, ডাবল স্ট্যাম্প, ডিএনএ, নথি থেকে অনেক পজেটিভ কাগজ, রিট মামলা না জানিয়ে প্রত্যাহার। এই মামলার ৬টি জালিয়াতি করে আসামী জামিনে ঘোরে আর আমি বাদী কাস্টরিতে থাকি। এত হয়রানির পরেও সন্তানটি ফিরে না পাওয়ায় গত ৩১/১০/২০২৪ ইং তারিখ এ বগুড়া জেলা পরিষদের সামনে থেকে আমার চুরিকৃত ছেলে সন্তানটি আমি আসামীর কাছ থেকে বাসায় নিয়ে আসি। আমার বাসায় ১ সপ্তাহ থাকার পর আসামী পক্ষের দালাল মোঃ মতিয়ার রহমান, মোঃ বাবলু, মোঃ রফিক ও ডাঃ আমিনুল ইসলাম, মোঃ আমজাদ হোসেন লুদু এদের সহযোগিতায়, বগুড়া সদর থানার ওসি মোঃ মইনউদ্দিন এর নির্দেশে আমাকে এবং চুরিকৃত সন্তানকে পুরুষ এসআই মোঃ রাজিব হোসেন, মোঃ শহিদুল এর দ্বারা গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। আমাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সদর থানার ওসি জিজ্ঞাসা না করে মামলা সম্পর্কে না বুঝে আমার চুরিকৃত সন্তানটি আসামীর হাতে উঠিয়ে দেয় এবং আমাকে অন্য রুমে বন্ধ করে রেখে শরীরের বোরখা, হিজাব, ওড়না, সব খুলে নেয় এবং আমাকে সারা রাত খালি ফ্লোরে রাখে। পরের দিন ০৭/১১/২০২৪ তারিখে বেলা ১১ টার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে চালান দেয়। কোর্টে হাজির হওয়ার পার ম্যাজিসস্ট্রেট আমাকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ না করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়। বগুড়া কারাগারে ১৫ দিন থাকার পর বগুড়া জেলা দায়রা জজ আদালতে গত ১৩/১১/২০২৪ তারিখে বগুড়া জেলা দায়রা জজ আদালতে মিস কেস করি এবং শুনানির তারিখ ২০/১১/২০২৪ তারিখে বগুড়া জেলা দায়রা জজ মোঃ শাহজাহান কবির ডি,এন, এ পজেটিভ রিপোর্ট দেখার পর জামিন দেয় এবং তিনি আমার পক্ষে আদেশ দেন। পরবর্তীতে সর্বশেষ উচ্চ আদালতে রিট পিটিশনে গত ১১-০৩-২০২৬ইং তারিখে শুনানী হয়। হাইকোর্ট থেকে আদেশ দেন, ৬ মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি ও সন্তানটি ফেরত দিতে আদেশ প্রদান করেন। সর্বোপরি দেশবাসী, মিডিয়া, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, প্রধান বিচারক এর কাছে আকুল আবেদন আমার সন্তানটি ন্যায় বিচারের মাধ্যমে দ্রুত ফেরত দেওয়া হোক।

Viewed 4500 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!