এলপিজি গ্যাসের হঠাৎ ঊর্ধ্বগতিঃভোগান্তির শেষ কোথায়?
রান্নাঘরের অপরিহার্য অনুষঙ্গ এলপিজি গ্যাস এখন সাধারণ মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম। মাস গেলেই নতুন দামের ঘোষণা আসে, কিন্তু বাজারের চিত্র থাকে ভিন্ন। সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে খুচরা পর্যায়ে অনেক বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।
গত মার্চ মাসে বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১,৩৪১ টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চিত্র ছিল হতাশাজনক। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোক্তা পর্যায়ে এই সিলিন্ডার ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকা, এমনকি কোথাও কোথাও ২,০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে প্রায়ই গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতারা একে অপরকে দোষারোপ করলেও মাঝখান থেকে পকেট কাটা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। অনেক সময় কোম্পানি থেকে সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়, যা মূলত একটি অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজি বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে সৌদি আরামকোর সিপি (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) বাড়লে বা ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তন হলে সরাসরি তার প্রভাব পড়ে স্থানীয় বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং লোহিত সাগরের সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বৃদ্ধিও এই দাম বাড়ার পেছনে বড় কারণ।
পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় শহরাঞ্চলেও মানুষ এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এর ফলে একদিকে বাড়ছে রান্নার খরচ, অন্যদিকে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গ্যাস সংকটের কারণে ব্যবসায় লোকসান গুনছেন।
এই ভোগান্তি নিরসনে কেবল দাম নির্ধারণ করে দেওয়া যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কঠোর বাজার মনিটরিং। ক্যাশমেমো ছাড়া পণ্য বিক্রি বন্ধ করা এবং খুচরা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে তদারকি সংস্থাগুলোর জোরালো ভূমিকা জরুরি। এলপিজি খাতের আমদানিকারক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত শৃঙ্খলার মধ্যে আনা না গেলে সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগের শেষ হবে না।
আজকের (২ এপ্রিল) নতুন দাম ঘোষণা কি ভোক্তাদের স্বস্তি দেবে, নাকি আবারও বাড়বে খরচের বোঝা—সেটাই এখন দেখার বিষয়।
_এ.আর.এস
Viewed 5350 times