তেলের সংকট ও জনভোগান্তিঃদায় কার!?
সম্পাদকীয়ঃ ঈদের ছুটির পর দেশজুড়ে পেট্রল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বহু পেট্রলপাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা। অন্যদিকে, যেসব পাম্প খোলা আছে, সেখানে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দাবি করেছেন, দেশে তেলের কোনো সংকট নেই, সরবরাহ অব্যাহত আছে এবং ঈদের কারণে গত দুই দিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকার মাতুয়াইল, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাম্পগুলো জ্বালানি সংকটে দিনের অর্ধেক সময় বন্ধ থাকছে। চট্টগ্রামের মতো বড় শহরেও কিউসি পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ সারি এবং তেল না পাওয়ার হাহাকার দেখা গেছে ।
সরবরাহ বন্ধ থাকায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমেছে ।হঠাৎ করে বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বা ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত তেল থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে সরবরাহ ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে।আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে দাম বাড়ার গুজবে পাম্প মালিকরা তেল ধরে রাখছেন বা সীমিত আকারে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাইড শেয়ারিং চালক ও ব্যক্তিগত যানবাহন চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না।২ লিটার তেল পেতেও কয়েকবার লাইনে দাঁড়ানোর ঘটনা ঘটছে, যা পরিবহন খাতকে অচল করে দিচ্ছে।
সরকার বারবার বলছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের এই সংকট প্রমাণ করে সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের অব্যবস্থাপনা রয়েছে। বিপিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ নিশ্চিত না করলে নিত্যপণ্যের দামের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সরকারের উচিত মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং জনগণকে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি সঠিক তথ্য তুলে ধরা।
Viewed 2800 times