চার ধরনের চাপে অর্থনীতি
অর্থনীতি ডেস্ক রিপোর্টঃ উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ চার চাপে রয়েছে দেশের অর্থনীতি। বাকি তিনটি হলো-রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি এবং বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা। এসব বাস্তবতার মধ্যেই দায়িত্ব নিয়েছে নতুন সরকার।
এমতাবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) ফেব্রুয়ারি মাসের অর্থনৈতিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চালের দামের চাপ কিছুটা কমলেও মাছ, সবজি ও ফলের দাম বাড়ার কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। যদিও চালের দাম কিছুটা কমেছে, কিন্তু অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেনি।
খাদ্য মূল্যস্ফীতির খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে চালের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চালের মূল্যস্ফীতিও কমে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে একই সময়ে মাছ, ফল ও সবজির দাম বাড়ায় সামগ্রিক খাদ্য মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বজায় রয়েছে। বিশেষ করে সবজির দাম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ডিসেম্বর মাসে সবজি মূল্যস্ফীতিতে নেতিবাচক অবদান রাখলেও জানুয়ারিতে তা ইতিবাচক হয়ে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পাইকারি বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের উচ্চ মুনাফার প্রবণতার কারণে সবজির দাম বেড়েছে।
এদিকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজুরি না বাড়ায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমছে। জানুয়ারিতে যেখানে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে, সেখানে মজুরি বৃদ্ধির হার মাত্র ৮ দশমিক ৮ শতাংশের কাছাকাছি নয় বরং ৮ দশমিক ০৮ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে প্রকৃত অর্থে মানুষের আয় কমে যাচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে টানা কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি মজুরি বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য-আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে চাপে পড়েছে। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জানুয়ারি মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে আদায় হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার ৫১২ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৭০ দশমিক ৪৮ শতাংশ রাজস্ব সংগ্রহ করতে পেরেছে এনবিআর।
যদিও ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে রাজস্ব আদায় কিছুটা বেড়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে এটি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।
Viewed 1000 times