জামায়াত সমর্থকদের হামলায় আহত স্বেচ্ছাসেবক নেতা রবিউলের পাশে এম-ট্যাব নেতা আরমান হোসেন ডলার
আরমান হোসেন ডলার (বিশেষ প্রতিনিধি),বগুড়া:
বগুড়া–৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) আসনে নির্বাচনী সহিংসতায় গুরুতর আহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোঃ রবিউল ইসলামের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে ছুটে গেছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এম-ট্যাব) বগুড়া আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ মোঃ আরমান হোসেন ডলার।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে নন্দীগ্রাম উপজেলার পারশুন গ্রামে সংঘটিত হামলায় থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা (মজিদ) ও তাঁর ছোট ভাই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোঃ রবিউল ইসলাম গুরুতর আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, জামায়াত প্রার্থীর সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
হামলায় মাসুদ রানা চোখে গুরুতর আঘাত পান। পরে তাঁকে প্রথমে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের দাবি, হামলার ঘটনায় দৃষ্টি হারানোর খবর শুনে তাঁর মা রাবেয়া বেওয়া (৬৫) অসুস্থ হয়ে মারা যান।
এদিকে হামলায় গুরুতর আহত হন তাঁর ছোট ভাই মোঃ রবিউল ইসলাম। পরিবারের অভিযোগ, হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর ডান পা ভেঙে যায়, মাথায় ১৫টি সেলাই দিতে হয় এবং হাতে সেলাইসহ একটি আঙুল ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রবিউল ইসলামের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে গিয়ে আরমান হোসেন ডলার তাঁর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসা সহায়তায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
এ সময় আরমান হোসেন ডলার বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতার কোনো স্থান নেই। একটি নির্বাচনী ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের নৃশংস হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।”
উল্লেখ্য, ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে নন্দীগ্রামের পারশুন গ্রামে জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সালের পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা বেলাল হোসেন ও জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করা হয় বলে জানা যায়। তাঁদের থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১১টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে করে একদল লোক বাড়িটিতে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। পরে হামলাকারীরা আটক দুই ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে চলে যায়।
ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।
Viewed 1850 times


