March 30, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

১৮ বছরেও চালু হয়নি ৩৯ লাখ টাকার গভীর নলকূপ,সেচ সংকটে কৃষক

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ফৌপড়া সুজাপুর মৌজায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের ১৮ বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি। ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ায় প্রায় শত বিঘা জমিতে ফসল ফলাতে পারছে না স্থানীয় কৃষকরা। সেচ ব্যবস্থার অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন ওই এলাকার শতাধিক প্রান্তিক কৃষক।

 

ক্ষেতলাল উপজেলা বিএমডিএ (বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কতৃপক্ষ) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে ফৌপড়া সুজাপুর মৌজার কৃষকদের সুবিধার্থে একটি কমিটির মাধ্যমে মোশারফ হোসেনের জমিতে গভীর নলকূপটি স্থাপন করা হয়। বিএমডিএ নিজস্ব খরচে বিদ্যুৎ সংযোগের লাইন ও ভূগর্ভস্থ ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য পাইপ সরবরাহসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে। কিন্তু স্থানীয় জটিলতার অজুহাতে দীর্ঘ ১৮ বছরেও নলকূপটির পানি উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, নলকূপটির ইট দিয়ে নির্মিত ঘরটি বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎহীন খুঁটিগুলো দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। পাইপ লাইনের প্লাস্টিক পাইপগুলো পূর্বের কমিটির ম্যানেজার মোশারফের বাড়ির আঙিনায় স্তূপ আকারে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।

 

স্থানীয় কৃষক খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন গভীর নলকূপের মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এটি চালু করতে দেননি। খরা মৌসুমে পানির অভাবে আমরা ফসল ফলাতে পারি না। দূরের ডিপ থেকে পানি আনতে গিয়ে সারাদিনে এক বিঘা জমিও ভেজানো যায় না। এতে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।

 

বর্গাচাষী সিরাজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক বিঘা জমি সেচ দিতে আমাদের ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা গুণতে হয়। টাকা দিয়েও ঠিকমতো পানি পাই না। মালিককে বললে বলে, তোমার জন্য ডিপ বসানো হয়নি। আমাদের ডিপ টিউবওয়েল আমরা আগে সেচ দিব, তোমরা পরে পাবে।

 

এই অচলাবস্থা নিরসনে সম্প্রতি সুজাপুর গ্রামের ৫০ জন কৃষক স্বাক্ষরিত একটি আবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর জমা দিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে উপজেলা বিএমডিএ সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাক আহম্মদ বলেন, লিখিত আবেদন পেয়ে আমি এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং ওই এলাকার কৃষকদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছি। সেখানে সরকারের লাখ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগ্রহী হলে নলকূপটি পুনরায় চালু করা সম্ভব। তা না হলে সরকারি সম্পদ রক্ষায় সরঞ্জামগুলো উত্তোলন করে নিয়ে আসা হবে।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএমডিএ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Viewed 1450 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!