May 12, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

স্ত্রীসহ প্রাক্তন উমেদার মান্নানের নামে ২৪৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

ডেস্ক রিপোর্টঃ

স্ত্রীসহ বাগেরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রাক্তন উমেদার আব্দুল মান্নান তালুকদারসহ আরও ৪ জনের নামে ২৪৫ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।

মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন— মো. আনিসুর রহমান (৬২), সালেহা বেগম এবং আব্দুল মান্নান তালুকদারের স্ত্রী জেসমিন নাহার।

সিআইডি জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড নামীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য উচ্চ মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৯ হাজার ৯৬৭ জন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ২৪৫ কোটি ২৩ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা আমানত গ্রহণ করে অন্যত্র স্থানান্তর সংক্রান্ত মানিলন্ডারিং অনুসন্ধানের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রাক্তন উমেদার আব্দুল মান্নান তালুকদার ১৯৮৪ সাল হতে ২০১০ সাল পর্যন্ত এমএলএসএস পদে চাকরি করেন। ২০১০ সালে স্বেচ্ছায় অবসরে যান। চাকরিরত অবস্থাতেই জমি কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ডিসি অফিসে চাকরির সুবাদে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। জায়গা জমির বিষয়ে তার অগাধ জ্ঞান ছিল। অবসর গ্রহণের পর তিনি ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই স্লোগানে ‘নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট’ নামে একটি আর্থিক লেনদেন প্রতিষ্ঠান চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মসের ঢাকা কার্যালয় হতে নিবন্ধিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার ধরণ ছিল রিয়েল এস্টেট ব্যবসা ও জমি ক্রয় বিক্রয় এবং এর মালিকানা স্বত্ব ছিল মাত্র কয়েক জন ব্যক্তিকেন্দ্রিক। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের ৯৫% শেয়ারের মালিক আব্দুল মান্নান তালুকদার ও তার পরিবার এবং মাত্র ৫% শেয়ারের মালিক মামলায় ২ নম্বর অভিযুক্ত মো. আনিসুর রহমান।

নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থের নিশ্চয়তাসহ সুদমুক্ত হালাল ব্যবসার মাধ্যমে লাভবান হওয়ার বিষয়ে প্রচারণা চালানো হয়। এ প্রচারণার আলোকে নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেডে বাংলাদেশের সব নাগরিকদের ৫০০০/- টাকা হতে সর্বোচ্চ যেকোনো পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করার মাধ্যমে ৪/৫ বছরে বিনিয়োগকৃত অর্থ দ্বিগুণ করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। কোম্পানির মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশনের শর্তানুযায়ী শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড নামীয় প্রতিষ্ঠানটি পুজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ না করে উচ্চ মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিষ্ঠাটি সূচনা লগ্ন থেকে গত ৩০ জুন ২০১৮ পর্যন্ত সময়ে ১৯ হাজার ৯৬৭ জন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিকট হতে ২৪৫ কোটি ২৩ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা আমানত গ্রহণ করে।

পরবর্তীতে অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান তালুকদার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের মধ্য থেকে মোট ৬৬ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা তারই মালিকানাধীন সাবিল গ্রুপের ৬টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেন। অর্থ স্থানান্তর সংক্রান্তে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো যথাক্রমে ১. এ্যাজাক্স জুট মিলস লিমিটেড, মীরের ডাঙ্গা, ফুলবাড়ি গেট, খুলনা। ২. সাবিল ড্রেজিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, বাগেরহাট। ৩. সাবিল জেনারেল হাসপাতাল, পিরোজপুর। ৪. সাবিল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প, বাগেরহাট। ৫. সাবিল ল প্লাজা এবং ৬. সাবিল মৎস্য প্রকল্প বাগেরহাট। বাকি অর্থ নামে-বেনামে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থানান্তর করেন।

প্রতারণার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২৪৫ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা নিজ মালিকানাধীন অন্য প্রতিষ্ঠানে লিজের নামে স্থানান্তর করেন। প্রতারণার ঘটনা প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় সিআইডি বাদী হয়ে আব্দুল মান্নানসহ আরও ৪ জনের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় মামলা রুজু করেছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট পরিচালনা করছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Viewed 3750 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!