বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার অফিসার ইনচার্জসহ ৩ কর্মকর্তাকে ক্লোজ
স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার অফিসার ইনচার্জসহ ৩ কর্মকর্তাকে ক্লোজ করে রাজশাহীতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
১৪ অক্টোবর রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় থেকে জারি করা অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। আদেশে সই করেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান।
ক্লোজ হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, বগুড়া ডিবির ইনচার্জ ইকবাল বাহার, ইন্সপেক্টর রাকিব হোসেন ও এসআই মোহাম্মদ ফজলুল হক।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে তাদের রাজশাহীর আরআরএফ-এ (রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স) সংযুক্ত করা হলো। একই সঙ্গে অদ্যই তাদেরকে আরআরএফ রাজশাহীতে যোগদানের উদ্দেশ্যে ছাড়পত্র প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাজশাহী রেঞ্জ থেকে ৩ কর্মকর্তার সংযুক্তির আদেশ আমরা হাতে পেয়েছি। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গত ২৯/০৭/২০২৫ খ্রি. অপরিচিত একটি মোবাইল নম্বর হইতে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের পরিচয় দিয়ে প্রতারক চক্র বাদী মোঃ রফিকুল ইসলাম এর মেয়ে জামাইকে ফোন দিয়ে বাদীর নাতী মেসবাউল এর ঠিকানা বলিয়া মেধা বৃত্তির টাকা প্রদান করিবে বলিয়া তাহার কাছ থেকে প্রাইম ব্যাংকের একটি হিসাব নম্বর নেয়। উক্ত হিসাব নম্বর হইতে প্রতারক চক্র বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে প্রতারণার মাধ্যমে সর্বমোট ২৭,৪৩,৯৯৫/= টাকা হাতিয়ে নেয়। উক্ত ঘটনায় বাদী রফিকুল ইসলাম বগুড়া সদর থানায় একটি জিডি করেন। যাহার জিডি নম্বর-২৪১০ তাং ২৯/০৭/২০২৫ খ্রি.। পুলিশ সুপার বগুড়া মহোদয়ের নির্দেশে উক্ত জিডি বগুড়া ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মোঃ রাকিব হোসেন অনুসন্ধান করিয়া প্রতারক মোঃ রাজু মুন্সি (২৩) পিতা মোঃ জলিল মুন্সি, সাং-জলপাক্ষা, থানা-ভাঙ্গা, জেলা-ফরিদপুরকে সনাক্ত করে। প্রতারণার ঘটনায় মামলা রুজু না হওয়ার কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে উক্ত প্রতারক আসামীকে গ্রেফতারের জন্য বগুড়া সদর থানার মামলা নং ৮৭ তাং ৩০/০৪/২০২৫ খ্রি. ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড মূলে র্যাব-১২ বগুড়া কে একটি অধিযাচনপত্র প্রদান করা হয়। উক্ত আসামীকে র্যাব ফরিদপুর গ্রেফতার করিয়া ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানা হেফাজতে রাখে। পরবর্তীতে জিডি তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ রাকিব হোসেন র্যাবের অফিসারের সাথে আলোচনা করিয়া উক্ত আসামীকে বগুড়া ডিবিতে নিয়ে আসিয়া জিজ্ঞাসাবাদ করিলে আসামী প্রতারক রাজু মুন্সি প্রতারণা করার বিষয়টির সত্যাতা স্বীকার করে। পরবর্তীতে বাদীর লিখিত এজাহারের প্রেক্ষিতে উক্ত ঘটনায় বগুড়া সদর থানার মামলা নং ৪৩ তাং ১১/১০/২৫ ইং ধারা-৪০৬/৪২০ পেনাল কোড রুজু হয়। মামলাটি তদন্তকালে প্রতারক রাজু মন্সির থেকে নগদ ২০ বিশ হাজার টাকা ও প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত একটি সিম কার্ড জব্দ করা হয় এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত টাকার মধ্যে প্রায় ১১,৫০,০০০/-(এগারো লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ব্যাংকে ফ্রিজ করা হয়। উল্লেখিত মামলায় প্রতারক আসামী রাজু মুন্সিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
Viewed 4400 times


