গর্ব থেকে যেভাবে বোঝায় পরিণত হলো পিআইএ
ডেস্ক রিপোর্ট : পাকিস্তানের জাতীয় বিমান সংস্থার বেশিরভাগ শেয়ার বিক্রি করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতির ওপর একটি চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেবের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
পাকিস্তানের সরকার সম্প্রতি এক ঘোষণা বলেছিল, তারা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সংস্কারের অংশ হিসেবে লোকসানে থাকা বিমান সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণসহ ৫১ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দিতে চায়।
পাকিস্তানের ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সহায়তার অধীনে এই বিক্রয় একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত, যার ফলে অর্থনীতি স্থিতিশীল করার জন্য সরকারকে লোকসানে থাকা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগগুলো ছাড়িয়ে নিতে হবে।
পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ) একসময় দেশটির গর্বের প্রতীক ছিল। ১৯৬০ এবং ১৯৭০ এর দশকে বিশ্বের সেরা বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হত।
বর্তমানে চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভয়াবহ লোকসানের মুখে থাকা পাকিস্তানের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বিমান পরিষেবা সংস্থা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ) গতবছর নিলামে বিক্রিরও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দেশটির সরকার।
অর্থ সংকট ও ঋণের বোঝায় জর্জরিত পাকিস্তানের এই ঐতিহ্যবাহী বিমান পরিষেবা সংস্থাটি প্রায় অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে এই বোঝা থেকে মুক্তি পেতে চেষ্টা করছে দেশটি।
গত এক দশকে, পিআইএ প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লোকসান করেছে, যার মধ্যে ৩০টি বিমানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পুরনো হওয়ার কারণে বন্ধ রয়েছে।
দেশটির বিমান সংস্থার মুখপাত্র আবদুল্লাহ হাফিজ খান বলেন, পিআইএর বিনিয়োগ থাকা প্রয়োজন। পিআইএর সামগ্রিক ব্যবসায়িক দক্ষতায় বিনিয়োগ থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এটি আসলে বেসরকারি খাত থেকে আসতে পারে। যদি এমন কোনও বৃহৎ বিনিয়োগকারী থাকে যার কাছে এটি বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা যাবে।
এই বছরের প্রথমার্ধে পিআইএ কর-পূর্ব মুনাফা অর্জন করেছে – দুই দশকের মধ্যে এটি প্রথম এত লাভ।
নিরাপত্তাজনিত কারণে চার বছরের নিষেধাজ্ঞার পর জানুয়ারিতে বিমান সংস্থাটি ইউরোপে ফ্লাইট পুনরায় চালু করে। এখন এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লাভজনক বাজার, যুক্তরাজ্যে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য পুনরায় আবেদন করছে।
সীমিত ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যে গত বছর বেসরকারিকরণের প্রচেষ্টায় মাত্র একটি স্বল্প প্রস্তাব আসে।এবার, সরকার ৭৫ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়র বিক্রি করছে। সামরিক-সমর্থিত একটি কোম্পানিসহ চারটি দেশীয় গোষ্ঠীর কাছ থেকে দরপত্র আশা করা হচ্ছে।
পাকিস্তান সরকার বিমানবন্দর পরিচালনা এবং পরিষেবাগুলোকেও বেসরকারিকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যার শুরু হচ্ছে রাজধানীর প্রধান কেন্দ্র – ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে।
পাকিস্তান বেসরকারীকরণ কমিশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী বলেন, ইসলামাবাদ প্রথম, এবং আমি আশা করছি এর পরে, একবার আমরা সফলভাবে ইসলামাবাদে বেসরকারি খাতকে নিয়ে আসব, তাহলে আমাদের আরও বিমানবন্দর বেসরকারি খাতে চলে যাবে।
কিন্তু পিআইএ-র কাছে জাতীয় বিমান সংস্থার যত বিমান থাকা উচিত, তত বেশি বিমান নেই বলে জানান আলী।
তিনি বলেন, পিআইএ-র রুট আছে, কিন্তু ওড়ার জন্য বিমান নেই। যদি তারা বিমানগুলো লিজে পেতে পারে অথবা যে কোনও উপায়ে বিনিয়োগ করতে পারে, তাহলে লাভজনকতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
তাছাড়া বেসরকারিকরণের সম্ভাবনা বিমান সংস্থার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে, যারা চাকরি হারানোর আশঙ্কা করছেন।
৪১ বছর আগে ১৯৮৫ সালে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (পিআইএ) দুটি পুরোনো যাত্রী পরিবহণ বিমান ভাড়া নিয়ে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এ্যামিরেটস এয়ারলাইনস। বর্তমানে তাদের বিমান বহরে মোট ২৬২টি যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমান রয়েছে।
১৯৮৫ সালে দুবাই ভিত্তিক এ্যামিরেটস এয়ারলাইনসের প্রাথমিকভাবে তাদের মূলধনের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলার। আর মাত্র দুই যুগের মধ্যে সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য দুবাই ভিত্তিক এ্যামিরেটস এয়ারলাইনস বিশ্বের অন্যতম সেরা এয়ারলাইনস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস বর্তমানে ৩২টি যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমান অপারেশনাল রয়েছে। এটি দেশের অভ্যন্তরে এবং সারা বিশ্বের মোট ৬০টি রুটে বিমান পরিষেবা পরিচালনা করে। তাছাড়া সংস্থাটি অতি সাম্প্রতিক বাকিতে ৫টি বোয়িং ৭৭৭ ইআর-৩০০ স্রিজের অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী বিমান ক্রয়ের চুক্তি করে।
Viewed 4000 times