বগুড়ার শেরপুরে পুকুর দখল করতে না পেরে ডেকে নিয়ে আটক করে চাঁদা দাবি
“থানায় মামলা না নেয়ার অভিযোগ”
স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার শেরপুর সুবাস চন্দ্র মাহাতোর নিজস্ব পুুকুর দখল করতে না পেরে সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে চলেছে। উক্ত মাহাতোর প্রতিবেশি পুকুর সংক্রান্ত দেন-দরবারে অংশ নেয়ায় মেহেদী কে ডেকে নিয়ে আটক রেখে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়াসহ তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মারপিট করে একদল সন্ত্রাসী। গতকাল বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ঘোলাগাড়ী এলাকার তোজাম্মেল হোসেন মুকুলের মেয়ে মোছা: সাদিয়া আফরিন মিতু।
বিজ্ঞাপন
এ সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ওই এলাকার একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাদের প্রতিবেশি সুবাস চন্দ্র মাহাতোর পৈতৃক সম্পত্তির একটি পুকুর দখলের চেষ্টা করে। উচ্চ আদালত কর্তৃক রায় প্রাপ্ত পুকুরটি দখলে নিতে পারেনি। এরপর গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর উপজেলার খন্দকারটোলারগেইট এলাকাসহ আশপাশের সন্ত্রাসীরা বিশেষ করে উচরং এলাকার মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে মো: সেতু, খন্দকার টোলারগেট এলাকার মৃত কাদের মির্জার ছেলে শফি মির্জা, হেনা সরকারের ছেলে লিটন মুন্সি হযরত মাস্টারের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফসহ অত্র এলাকার সন্ত্রাসীরা বাগমারা হাড়দিঘীপাড় নামে পুকুর দখল করতে যায়। তবে আদালত কর্তৃক রায় থাকায় অনেক দেন দরবার করে ও তারা পুকুরটি দখলে নিতে পারেনি। পরে পুকুরের মালিকের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের দাবিকৃত টাকা না পেয়ে পুকুর নিয়ে বিভিন্ন দেন -দরবারে অংশ নেয়ায় তারা তার ছোট ভাই মেহেদী ও মামা আজিজার রহমানের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না পেয়ে গত ২৯ আগস্ট রাতে তারা মেহেদী হাসানকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে টোলারগেইট এলাকায় নিয়ে আটক করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবিসহ তাকে মারপিট করে তার মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা তার বাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ওই রাতেই ঘর খুলে নগদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং মূল্যবান জিনিষপত্র নিয়ে যায়। এরপর সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে মোটরসাইকেল বিক্রির সাজানো ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে রাত ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়।
বিজ্ঞাপন
এসব বিষয়ে শেরপুর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনউদ্দিন অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে এবং বলে যে ১নং আসামি সেতুর নাম বাদ দিলে থানায় অভিযোগ নেয়া হবে। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন, যা পিবিআই’র তদন্তাধীন রয়েছে। এদিকে মোটরসাইকেল বিষয়ে ওসিকে বলা হলে তিনি ওই মোটরসাইকেলটি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে নিয়ে এসে থানায় রেখেদেন।
বিজ্ঞাপন
এতে তারা ধারনা করছেন শেরপুর থানার ওসি’র ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসীরা চাঁদা বাজীসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। ওসি’র সাথে সখ্যতা থাকার কারণে তাদের ঔদ্ধত্যপনা বেড়ে গেছে। ফলে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীন জীবনযাপন করছেন। বর্তমান ওসির বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত এবং ন্যায় বিচারের জন্য প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাহায্য সহযোগিতা কামনা করেন।
Viewed 5750 times


