উইন্ডসর প্রাসাদে সবচেয়ে ধনী আর প্রভাবশালীদের নৈশভোজে যা হলো
ডেস্ক রিপোর্ট : প্রায় হাজার বছরের পুরনো এক প্রাসাদের ভেতর লম্বা টেবিল। চেয়ারে পাশাপাশি বসেছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। টেবিলের মাঝ বরাবর যিনি বসেছেন তাঁর গলায় সাদা টাই। অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় তাঁকে বেশ হাস্যজ্বল দেখাচ্ছিল। প্রাসাদে রাজার উপস্থিতিতেও যখন বাইরের কোনো অতিথি সবার নজর কাড়েন- তখন তাঁকে হাস্যজ্বল দেখানোটাই যেন স্বাভাবিক।
গতকাল বুধবার রাতে যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর প্রাসাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে ওই নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন রাজা তৃতীয় চার্লস। নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, এটি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনের এক শিখরবিন্দু। আলো ঝলমলে পরিবেশে চেয়ারে বসা সব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চেষ্টাই ছিল ট্রাম্পের মন জয় করার।
বাদ যানটি রাজা চার্লসও। ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক নিঃসন্দেহে অসাধারণ। আজ রাতে এই বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার মাধ্যমে, আমরা বন্ধুত্বের প্রতি অটল বিশ্বাস রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।
নৈশভোজের পুরো আয়োজন দেখে এমনিতেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বেশ সন্তুষ্ট মনে হচ্ছিল। এমনকি রাজা চার্লস তাঁর ভাষণে পরিবেশ এবং ইউক্রেনকে সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে হালকা ইঙ্গিত দিলেও ট্রাম্পের চেহারায় বিন্দুমাত্র বিরক্তি দেখা যায়নি।
এক পর্যায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প উঠে দাঁড়িয়ে বেশ নরম স্বরে বলেন, প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে এখানে (উইন্ডসর প্রাসাদ) আমন্ত্রণ পাওয়াটা অনন্য সম্মানের। (উল্লেখ্য- উইন্ডসর প্রাসাদে অন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তা রাজকীয় নৈশভোজে নয়। সাধারণত এসব ভোজ হয় লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসে। কিন্তু বর্তমানে সেখানে সংস্কার চলছে।)
প্রভাবশালীদের দিকে নজর
রাষ্ট্রীয় এই ভোজে অংশ নিয়েছিলেন ১৬০ জন অতিথি। আলাপের ফাঁকে ফাঁকে কাঁটা-চামচের ঠকঠক ও ঘষাঘষির শব্দ ভেসে আসছিল। খাবার খেতে খেতে কাঁটা চামচ দিয়ে এই শব্দ করছিলেন মিডিয়া সম্রাট, ধনকুবের, প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও প্রযুক্তি জায়ান্টরা। তাদের মাঝে বসেছিলেন ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্য এবং হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বসেছিলেন নিউ ইয়র্কের বিনিয়োগকারী ও ব্ল্যাকস্টোনের প্রধান নির্বাহী স্টিফেন শোয়ার্জম্যানের পাশে। সেদিকেই ছিলেন ব্যাংক অব আমেরিকার প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান মোইনিহান। একই সারিতে ছিলেন সিলিকন ভ্যালির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) তরুণ সম্রাট স্যাম অল্টম্যান।
টিফানি ট্রাম্পের সঙ্গে অ্যাপলের প্রধান টিম কুক। ছবি: এএফপি
ভোজে আরও ছিলেন, লন্ডনে গুগলের মালিকানাধীন ডিপমাইন্ডের পরিচালক ডেমিস হাসাবিস, মাইক্রোসফটের প্রধান সত্য নাদেলা, সেলসফোর্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক বেনিওফ। এমনকি অ্যাপলের প্রধান টিম কুকও ছিলেন অতিথিদের সারিতে। টিম কুক বসেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে টিফানি ট্রাম্পের পাশে।
এই নৈশভোজে একজনের উপস্থিতি ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডক। টিম কুকের ঠিক বিপরীত পাশেই বসেছিলেন তিনি। মারডকের আসন এমন জায়গায় ছিল, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর সরাসরি পড়ে না। অর্থ্যাৎ, ট্রাম্পের আসন থেকে সরাসরি মারডককে দেখা যায় না।
যা খেলেন ট্রাম্প ও অতিথিরা
বাকিংহাম প্যালেসের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, খাবার পরিবেশনে ছিল অভিজাত ভোজনের ছোঁয়া। ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের নানা পদও। টেবিলে প্রথমে পরিবেশন করা হয় হ্যাম্পশায়ারের ওয়াটারক্রেস পানা কটা, পারমেজান শর্টব্রেড ও কোয়েল পাখির ডিমের সালাদ।
মূল খাবারে ছিল অর্গানিক নরফোক মুরগির বেলোটিন। এর সঙ্গে পরিবেশন করা হয়েছিল থাইম ও স্যাভরি হার্ব মেশানো সস। ডেজার্টে ছিল ভ্যানিলা আইসক্রিম বম্ব। পানীয়তে রাখা হয়েছিল ডায়েট কোক। এটি ছিল মূলত ট্রাম্পকে সম্মান জানানোর জন্য। কারণ তিনি মদ পানের বিরোধী।
রাষ্ট্রীয় ভোজের সময় সংগীতের তালিকাতেও রাখা হয়েছিল ট্রাম্পের প্রিয় গানগুলো। এর মধ্যে ছিল অপেরা ক্লাসিক নেসুন ডর্মা থেকে শুরু করে এলটন জনের টাইনি ডান্সার।
Viewed 4450 times



