May 12, 2026

Daily Amar Vasha

উত্তর জনপদে সত্য প্রকাশে দৃঢ়

ক্যান্টিন-দোকানে হল সংসদ নেতাদের জরিমানা, প্রশাসন বলছে ‘নিয়ম নেই’

ডেস্ক রিপোর্ট :নির্বাচিত হওয়ার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোর ক্যান্টিন ও খাবারের দোকানে জরিমানা এবং সতর্কতামূলক নোটিশ দিয়েছেন হল সংসদের নেতারা। তারা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করায় এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, হল প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের জরিমানা করার কোনো বিধান বা ক্ষমতা কারও নেই।

জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর মাস্টারদা সূর্য সেন হলের এক দোকানে এক কেজি টেস্টিং সল্ট মজুত রাখার অভিযোগে ওই হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) আজিজুল হক দোকানিকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ বিষয়ক একটি লিখিত চুক্তিনামা সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

হল সংসদের ভিপি ও দোকানি ওবায়দুল হকের সই করা ওই চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়, জরিমানার টাকা তিন দিনের মধ্যে পরিশোধ না করলে দোকানের চুক্তি বাতিলের জন্য হল প্রশাসনকে সুপারিশ করা হবে। জরিমানার টাকা হল প্রশাসনের মাধ্যমে আদায় করা হবে।

ভিপি আজিজুল হক বলেন, আমরা প্রথমে খাবারে টেস্টিং সল্ট ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করলে দোকানি অস্বীকার করেন। বিষয়টি নিশ্চিত হতে দোকানে তল্লাশি চালালে একটি পলিথিনে এক কেজি সমপরিমাণ টেস্টিং সল্ট পাওয়া যায়। তখন দোকানি খাবারে টেস্টিং সল্ট ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন।

জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে মাস্টারদা সূর্য সেন হলের ভিপি আজিজুল হক বলেন, দোকানে তল্লাশি চালিয়ে টেস্টিং সল্ট পেয়ে দোকানিকে জরিমানা করা হয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছি, চিঠিও পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা কাজ করছি। জরিমানার টাকা হল প্রশাসনই আদায় করবে।

এদিকে জহুরুল হক হলের টিনশেডের ক্যান্টিনে টেস্টিং সল্টের উপস্থিতি থাকায় এক হাজার টাকা জরিমানা করেছেন হলের জিএস খালেদ হাসান। রোববার হলের ক্যান্টিন পরিদর্শনের সময় টেস্টিং সল্টের উপস্থিতি নজরে আসে খালেদ হাসানের। পরে এ নিয়ে তিনি ক্যান্টিন মালিককে এক হাজার টাকা জরিমানার নোটিশ দেন। তিন দিনের মধ্যে জরিমানা পরিশোধসহ হল প্রশাসনের কাছে জবাবদিহির কথাও উল্লেখ রয়েছে নোটিশে।

খালেদ হাসান ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, ‘টিনশেড ক্যান্টিনের মোস্তফা ভাইয়ের দোকানে ক্ষতিকর টেস্টিং সল্ট পাওয়ায় এক হাজার টাকা জরিমানাসহ তিন কার্যদিবসের মধ্যে হল সংসদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে। হলটির সমাজসেবা সম্পাদক জহির রায়হান টেস্টিং সল্ট রাখার অভিযোগে এক দোকানিকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। গত শনিবার দোকান পরিদর্শনের সময় জহির রায়হান ছয় নম্বর দোকানে টেস্টিং সল্ট পান। তখন তিনি দোকানিকে এ জরিমানা করেন।

জহির রায়হান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দোকানিকে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার না করতে সতর্ক করা হচ্ছিল। তবু তিনি তা ব্যবহার করছিলেন। জরিমানার টাকা এখনও আদায় হয়নি, তবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সঠিক কারণ দেখাতে ব্যর্থ হলে দোকানের বৈধতা বাতিলের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের খাবারে পচা গাজর, জুসে পচা পেঁপে ও তরকারিতে পাম অয়েল ব্যবহারের অভিযোগে ক্যান্টিন মালিকদের জরিমানার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ। রোববার হলের দোকান পরিদর্শনের সময় এসব অনিয়ম ধরা পড়লে তিনি হলের বিভিন্ন দোকানিকে জরিমানার হুঁশিয়ারি দেন।

মো. সাইফুল্লাহ বলেন, আমি দোকানদারদের সতর্ক করেছি। জরিমানার বিষয়ে হল প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে। আমি তাদের লিখিত চুক্তি নিয়েছি যে, ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম করলে তারা প্রশাসনকে জরিমানা দেবে।

এ ধরনের কার্যক্রমের বৈধতার বিষয়ে জানতে চাইলে মাস্টারদা সূর্য সেন হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওরা (হল সংসদ নেতারা) নতুন তো। ওরা হয়তো বুঝতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে ওদের সঙ্গে বসলে ঠিক হয়ে যাবে।’

তবে দোকান ও ক্যান্টিনে হল সংসদ নেতাদের যে কোনো জরিমানা আরোপ বা হস্তক্ষেপকে ‘এখতিয়ার-বহির্ভূত’ বলছেন প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, জরিমানা তারা করতে পারে না। এটি তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তারা যা করবে হল প্রশাসনের মাধ্যমে করবে। হল প্রতিনিধি হিসেবে এখানে তাদের একটা দায়বদ্ধতা আছে। তবে সেটি প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে।

Viewed 4750 times

Spread the news
Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
error: Content is protected !!