অনশনে চবির ৯ শিক্ষার্থী, সাড়া নেই প্রশাসনের
ডেস্ক রিপোর্ট : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন শিক্ষার্থীরা। দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে এ কর্মসূচি। বুধবার দুপুর ১টা থেকে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অনশন শুরু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৩ ঘণ্টা পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি হচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত ৯ শিক্ষার্থী যুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দুপুর ১২টায় আটজন এবং বেলা তিনটার দিকে একজন অনশন শুরু করেন। তাঁরা হলেন, বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর জশদ জাকির, সাংগঠনিক সম্পাদক রাম্রা সাইন মারমা, রাজনৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আহমেদ মুগ্ধ, দপ্তর সম্পাদক নাইম শাহজাহান, নারী অঙ্গনের সংগঠক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সংগঠক ঈশা দে ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (ইউপিডিএফ–সমর্থিত) সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা। এর মধ্যে জশদ জাকির বেলা তিনটার দিকে যুক্ত হয়েছেন।
মার্কেটিং বিভাগের ২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী ও নারী অঙ্গনের সংগঠক সুমাইয়া শিকদার বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট জানাতে চাই, আমাদের সাত দফা দাবি যৌক্তিক। প্রায় ২৪ ঘণ্টা হয়ে গেল, আমাদের কয়েকজন শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রশাসন দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন চলবে।’
ইংরেজি বিভাগের ২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর দপ্তর সম্পাদক নাঈম শাহজাহান বলেন, ‘আমরা ৭ তারিখ এক হাজার শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর নিয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। তাহলে কি সেই শিক্ষার্থীরা আমাদের দাবি সমর্থন করে না? প্রশাসন আমাদের প্রতি অনীহা দেখাচ্ছে শুধু এজন্য যে, আমরা তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ সমকালকে বলেন, ‘আমি আপাতত ছুটিতে আছি। প্রক্টরিয়াল বডির দায়িত্ব পালন করছেন অন্যরা, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে তাদের আমি সমর্থন করি না। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সমর্থন করে না বলে মনে করি। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকুক।’
অনশনে থাকা শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সাত দফা দাবি পূরণ এবং প্রশাসনের ব্যর্থতার জবাব না আসা পর্যন্ত তাদের আমরণ অনশন চলবে।
Viewed 4800 times